হবিগঞ্জে চুনারুঘাট, মাধবপুর ও বাহুবল উপজেলার ২৪টি চা বাগানে চায়ের উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। স্থানীয় কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত বছরের চেয়ে এবার প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত, অনুকূল আবহাওয়া ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণ না থাকায় হবিগঞ্জের চা বাগানগুলোতে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। বিগত বছরগুলোতে প্রচণ্ড গরম, দীর্ঘমেয়াদী খরার কারণে চা বাগানগুলো চা উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়। এ বছরের মার্চ মাস থেকে প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত,অনুকূল আবহাওয়া ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণ না থাকায় উত্পাদন গত বছরের চেয়ে অধিক হওয়ার আশা করছেন বাগান মালিকরা। জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, মূল বর্ষায় তেমন বৃষ্টি না হলেও মে মাসে ৬০৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা সামপ্রতিককালের রেকর্ড। জুন মাসে তুলনামূলকভাবে কম বৃষ্টিপাত হয়। চলতি মাসে রেকর্ড করা হয় ১১৮ মিলিমিটার বৃষ্টি। চা উত্পাদনের জন্য এ বৃষ্টিই যথেষ্ট। অনুকূল বৃষ্টিপাতের কারণে চুনারুঘাট উপজেলার চান্দপুর চা বাগান, চন্ডিচড়া, আমু, নালুড়া, লালচান্দ, চাকলাপুঞ্জি, দেওন্ডী, পারকুল চা বাগানসহ ১৮টি চা বাগানে প্রতিদিনই পাতা উত্তোলন হচ্ছে জোরেশোরে। চা বাগানের শ্রমিক নেতা সুরেশ মুন্ডা জানান, এ বছরের পাতা অন্য বছরের তুলনায় ভাল হয়েছে। তাই শ্রমিকরা সঠিক সময় পাতা উত্তোলন করতে পারছে।
হেক্টর প্রতি জাতীয় গড় উত্পাদন ১ হাজার ২৬৫ কেজি। উত্পাদিত চায়ের ৭৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে ব্যবহার করা হয়েছে। রফতানিযোগ্য চায়ের অভাবের কারণে প্রতি বছর ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ হারে চা রফতানি হ্রাস পাচ্ছে। প্রতি বছর দেশের সবকটি চা বাগান থেকে ৫৫ থেকে ৬০ মিলিয়ন কেজি চা উত্পাদন হয়। উত্পাদনের দুই-তৃতীয়াংশ অভ্যন্তরীণ বাজারে ও এক-তৃতীয়াংশ বিদেশে রফতানি হয়ে থাকে।
হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার বিভিন্ন চা বাগানে রয়েছে প্রায় ৩০টি কারখানা। দেশের মোট উত্পাদিত চায়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ চা উত্পাদন হয় চুনারুঘাটের ১৮টি চা বাগানসহ জেলার ২৪টি চা বাগানে। চন্ডিচড়া চা বাগান ব্যবস্থাপক বলেন, জানুয়ারি থেকে মার্চের প্রথমদিকে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বাগান মালিকসহ উত্পাদকমহল হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। কিছু কিছু বাগানে নতুন প্লান্টেশন ও কাটিং করা সেকশনগুলোতে ছড়া (ছোট নদী) থেকে পানি দিয়ে কোন রকম টিকিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু বৃষ্টিপাত না হওয়ার কারণে আশানুরূপ উত্পাদন না হওয়ার আশংকা করেছিলেন অনেকেই। তবে মার্চের শেষের দিকে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের ফলে মরা বাগানগুলোতে সজীবতা ফিরে আসে। ১০-১২ দিনের মধ্যে দ্রুত পাতা গজিয়ে উত্তোলনের উপযোগী হয়ে উঠে চা বাগানগুলো।
কাটিং চা গাছের মধ্যে কিছুসংখ্যক পূর্ণবয়স্ক চা বাগানের অগ্রভাগ শুকিয়ে গেলেও বৃষ্টির পানি পেয়ে সেগুলো এখন সজীব হয়েছে। খরার কারণে চা বাগানগুলো ক্লোনাল সেকশনে কিছুটা ক্ষতি হলেও অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে তা পুষিয়ে নেয়া যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বাগান মালিকরা।
