পাকিস্তানে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২৮ জনে। আহত হয়েছে সাড়ে চারশ’র বেশি। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। একটি গ্রাম সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। উদ্ধার কাজে সেনাবাহিনী পাঠানো হয়েছে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় ত্রাণ পাঠাতে সমস্যা হচ্ছে বলে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এদিকে ভূমিকম্পের তীব্রতায় দক্ষিণাঞ্চলে সমুদ্রে একটি ছোট দ্বীপের সৃষ্টি হয়েছে। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও ডন এর।
মঙ্গলবার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেলুচিস্তানের দুর্গম আওরান এলাকায় ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। স্থানীয় কর্মকর্তারা গতকাল জানান, আওরান এলাকায় এ পর্যন্ত ২৮৫টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আর ৪২টি মৃতদেহ পাওয়া গেছে কাছের কেচ এলাকায়। নিহতদের কবর দেয়া শুরু হয়েছে বলে গতকাল জানিয়েছেন আওরান এলাকার ডেপুটি কমিশনার আব্দুল রশিদ গোগাজাই। আওরানের স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা আব্দুল রশীদ বালুচ জানান, এলাকাটির ৯০ শতাংশ ঘরবাড়িই বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। আওরান শহরের উত্তরাঞ্চলীয় উপকণ্ঠ লাবাখে সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে খুজদার এলাকাতেও। বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী ড. মালিক বালুচ প্রদেশটির ৩০ জেলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
সংবাদদাতারা বলছেন, বেঁচে যাওয়া লোকজনের জন্যে জরুরি ভিত্তিতে খাবারের পানি, ওষুধসহ চিকিত্সা সামগ্রী এবং থাকার জন্যে তাঁবুর প্রয়োজন। এই এলাকার অন্যতম প্রধান একটি হাসপাতালের একজন চিকিত্সক বলেছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। স্থানীয় কর্মকর্তা বলছেন, দুর্গত লোকদের পরিচর্যা করার মতো যথেষ্ট চিকিত্সা কর্মী তাদের নেই। ভূমিকম্পে একটি পুরো গ্রাম মাটির সাথে মিশে গেছে। গ্রামটিতে বেশিরভাগ বাড়িঘর ছিলো মাটির তৈরি। প্রত্যন্ত এই এলাকাটি অত্যন্ত দরিদ্র এবং সেখানে বিদ্যুত্ ও মোবাইল ফোন নেই।
দুর্গত হাজার হাজার লোক যারা এই ভূমিকম্পে বাড়িঘর হারিয়েছেন তারা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন। বেলুচিস্তান সরকারের মুখপাত্র জান মোহাম্মদ বুলেদি বলেছেন, কোয়েটা থেকে ১২টি ট্রাক-ভর্তি রেশন পাঠানো হয়েছে। কিন্তু প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় সেখানে পৌঁছতে ১৬ থেকে ১৭ ঘণ্টা সময় লাগবে এবং বুধবার তা ওখানে পৌঁছাবে। এই এলাকাটিতে বহুদিন ধরেই বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী তত্পরতা চলছে বলে সেখানে আগে থেকেই আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন ছিল। তারা ত্রাণ কাজে সহায়তা করছে। ভূমিকম্পের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে তার ফলে গয়াদর সমুদ্র উপকূলের কাছে তিরিশ মিটার বিস্তৃত একটি নতুন দ্বীপের সৃষ্টি হয়েছে। এর আয়তন প্রায় ৬শ’ মিটার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আওরান জেলায় মাটির নিচে ২০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল। এলাকাটি ইরান সীমান্তে অবস্থিত। পাকিস্তান আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আসিম বাজওয়া জানান, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ইতিমধ্যে হেলিকপ্টার ও ৩শ’ সেনা পাঠানো হয়েছে।
