পদত্যাগ করেও নির্বাচনে অযোগ্য হবেন জেলা পরিষদ প্রশাসকেরা

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৫৫
দেশের ৬১টি জেলা পরিষদে নিযুক্ত প্রশাসকরা আগামী দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। নবম সংসদের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২৪ জানুয়ারি। সংবিধানে এই সময়ের ৯০ দিন আগে বা পরে নির্বাচনের সুযোগ রয়েছে। তবে এই সময়ের মধ্যে প্রশাসকরা যদি পদত্যাগও করেন তবে তা তিন বছর পূর্বে করা হবে না। সে জন্য গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২ ধারার বিধান অনুযায়ী তারা নির্বাচনে অযোগ্য হবেন বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২ ধারার চ উপধারা অনুযায়ী নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে প্রজাতন্ত্রের কোনো চাকরি থেকে পদত্যাগ অথবা অবসরের বা কোনো সংবিধিবদ্ধ সরকারি প্রতিষ্ঠান বা প্রতিরক্ষা বিভাগ থেকে পদত্যাগ অথবা অবসরের তিন বছর সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর। ছ উপধারায় বলা হয়েছে, তবে প্রজাতন্ত্রের কোনো চাকরি থেকে বা সংবিধিবদ্ধ কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির অভিযোগে বরখাস্ত, অপসারণ অথবা বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হলে সেই সময় থেকে পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর। জ উপধারায় বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের কোনো চাকরি, সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান বা প্রতিরক্ষা বিভাগের কোনো চাকরিতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করা হলে সেই চুক্তি শেষের তিন বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর। এবং ঝ উপধারায় বলা হয়েছে, বিদেশি দাতা সংস্থার কাছ থেকে তহবিল নিয়ে পরিচালিত কোনো বেসরকারি সংস্থা থেকে পদত্যাগ বা অবসরের তিন বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর। সরকারের দ্বারা নিযুক্ত ব্যক্তি যার বেতন-ভাতাদি সরকারি তহবিল থেকে নির্বাহ করা হয় এবং যিনি সরকারের আইন-কানুনের দ্বারা পরিচালিত হন মূলত তিনি একজন সরকারি কর্মচারী। জেলা পরিষদের প্রশাসকেরা সরকারের দ্বারা নিযুক্ত এবং সরকারি তহবিল থেকে তাদের বেতন-ভাতা নির্বাহ করা হয়। সে জন্য তাদেরকেও সরকারি কর্মচারী হিসাবে গণ্য করা হচ্ছে বলে একাধিক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ২০১১ সালের ২০ ডিসেম্বর ৬১টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়। আওয়ামী লীগ দলীয় স্থানীয় নেতা, সাবেক এমপিদের এসব পদে নিয়োগ দেয়। জানতে চাইলে সাবেক নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, তাদের সময়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একজন চেয়ারম্যান (সরকার কর্তৃক নিযুক্ত) পদত্যাগ করে নির্বাচন করতে পারবেন কী-না সে সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের মতামত চেয়েছিলেন। পারবেন না বলে তাকে জানানো হয়েছিল। জেলা পরিষদের প্রশাসকদের নিয়োগ বা তারা কী ধরনের সুযোগ পাচ্ছেন সেটি বিশ্লেষণ করা দরকার বলে তিনি মত দেন। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব ড. মোহম্মদ সাদিক ইত্তেফাককে বলেন, বিষয়টি জটিল। আরপিও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা না করে কিছু বলা যাচ্ছে না। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান ইত্তেফাককে বলেন, জেলা পরিষদ প্রশাসকেরা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারি আইন-কানুন দ্বারা পরিচালিত হন। তারা সরকারের রাজস্ব তহবিল থেকে আর্থিক সুযোগ গ্রহণ করে থাকেন। তাদের নিজস্ব অফিস রয়েছে। তাদের অধীনে কর্মকর্তা ও কর্মচারীও আছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জেলা পরিষদের প্রশাসকরা সরকারি কর্মচারীর সংজ্ঞায় পড়েন। তাই সামনে নির্বাচনের যে সময় রয়েছে তাতে পদত্যাগ করেও তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরা পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন কারণ তারা সরকার কর্তৃক নিযুক্ত নন। আর পদে থেকেও পরিষদের প্রশাসকদের নির্বাচনের সুযোগ নেই কারণ তাদের পদটি লাভজনক। সংবিধানের ৬৬ (চ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী লাভজনক পদধারী কেউ স্বীয় পদে থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না।