১৭ বছর মুনাফা পাননি কমার্স ব্যাংকের বিনিয়োগকারীরা

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৫৫
গত ১৭ বছর ধরে কোন মুনাফা পাচ্ছেন না বেসরকারি খাতের বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা। অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংক প্রতিবছর বিনিয়োগকারীদের কম-বেশি মুনাফা দিলেও এক্ষেত্রে একবারে ভিন্ন কমার্স ব্যাংক। মূলত: নিয়ম বহির্ভূতভাবে ঋণ প্রদানের কারণে ব্যাংকটির এ নাজুক অবস্থা। জানা গেছে, কমার্স ব্যাংক মুনাফা করলেও তা প্রতিবছরই মন্দ ঋণের বিপরীতে সমন্বয় করা হচ্ছে। প্রতিবছর প্রত্যাশিত মুনাফা না পেয়ে ব্যাংকটির শেয়ারহোল্ডাররা সমপ্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে একটি অভিযোগপত্র দিয়েছেন। তাতে তারা কমার্স ব্যাংকের বিভিন্ন অনিয়মের কথা তুলে ধরে সেগুলোর প্রতিকার চেয়েছেন। ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক এক আদেশের মাধ্যমে সাবেক বাংলাদেশ কমার্স এন্ড ইনভেস্টমেন্ট লি: (বিসিআই)-এর কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করে। পরে ১৯৯৭ সালে বিসিআইকে তফসিলী ব্যাংকে রূপান্তর করা হয়। ১৯৯৯ সালে তা বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লি: হিসেবে ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে। দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে জমা দেয়া অভিযোগপত্রে কমার্স ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা বলেছেন, মূলত: পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক ঋণ প্রদানে অনিয়মের কারণে ব্যাংক ক্রমাগত লোকসান গুণছে। বিশেষ করে ২০০৪ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত পরিচালনা পর্ষদ যেসব ঋণপ্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সেগুলোর অধিকাংশই শ্রেণীকৃত ঋণে পরিণত হয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০০৪ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ব্যাংকটির বিপুল অর্থ লোপাট হয়েছে। ওই সময়ে বিতরণ করা অধিকাংশ ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়। বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক তদন্ত করে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করে। দুদকের কাছে দেয়া অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়, পরবর্তী সময়ে যেসব ঋণ বিতরণ করা হয় সেগুলো বোর্ড সভায় পাস করা হয়নি। অধিকাংশ ঋণ বিতরণ করা হয়েছে নির্বাহী কমিটির সভার সিদ্ধান্তে। কোন কোন সময় আগে ঋণ বিতরণ করে তা নির্বাহী কমিটির সভায় অনুমোদন করিয়ে নেয়া হতো। পরে তা বোর্ড সভায় পাস করা হতো। এসব বিষয়ে ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ইত্তেফাককে বলেন, গত ১৭ বছরে ব্যাংক কোন মুনাফা করতে পারেনি। সামান্য যা কিছু হয়েছে তা খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেশি হবার কারণে সমন্বয় করতে হয়েছে। তবে তিনি বলেন, ২০১২ সালে বিনিয়োগকারীদের ৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ট দেয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদন দিলেই বিনিয়োগকারীরা মুনাফা পাবেন। এছাড়া সাবেক বিসিআই এর ৬৬ কোটি টাকার ঋণ সমন্বয় করার কারণেও মুনাফা কমে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। ২০১০ সালে কমার্স ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিলো ২৬ শতাংশ। বর্তমানে তা ১৭ শতাংশ। মূলত:বিনিয়োগকারীদের মুনাফার পুরোটাই খেলাপি ঋণ খেয়ে ফেলছে।