রাজশাহীতে ভারতীয় গরুর আমদানি কম

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:২৩
ঈদ-উল আযহাকে সামনে রেখে রাজশাহীতে কোরবানির পশুর হাট জমতে শুরু করেছে। তবে এবার ভারতীয় গরুর আমদানি তুলনামূলক কম। একারণে গরুর হাটে স্থানীয় খামারের স্বাস্থ্যবান গরুর সংখ্যা বেশি। স্থানীয় গরুর দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতারা বেকায়দায় পড়ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি বছর রাজশাহীর গোদাগাড়ীর মহিষালবাড়ি, নগরীর সিটি হাট, বানেশ্বর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনাইচন্ডী, নওগাঁর চৌবাড়িয়া হাটে ঈদের একমাস আগে থেকেই বিপুল সংখ্যক ভারতীয় গরুর আমদানি হয়। কিন্তু এবার কোরবানির হাটে ভারতীয় গরুর আমদানি অস্বাভাবিক কম। সূত্র জানায়, সীমান্তে ভারত কর্তৃক কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং বিএসএফ কর্তৃক রাখালদের গুলি করে হত্যার কারণে সমপ্রতি রাজশাহী সীমান্ত পথে ভারতীয় গরু আমদানি কমে গেছে। ফলে সারা বছর যে হারে ভারতীয় গরু আসতো এখন কোরবানির মৌসুমেও তার চেয়ে কম সংখ্যক গরু আসছে। এদিকে ইজারাদারদের অভিযোগ, কোরবানির হাটে স্বল্প সংখ্যক ভারতীয় গরু উঠলেও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের উত্পাতে ভারতীয় গরু ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ফলে তারা হাটে গরু নিয়ে আসতে ভয় পাচ্ছেন। তারা অভিযোগ করেন, সীমান্ত এলাকা থেকে বিজিবির অসত্ কর্মকর্তারা টাকা নিয়ে ভারতীয় গরু ছেড়ে দিচ্ছেন। অথচ বিজিবির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা সেখানে নজর দেয়ার পরিবর্তে কোরবানির হাটে গিয়ে হানা দিচ্ছেন। ফলে হাটের ইজারাদার ব্যবসায়িক এবং ক্রেতারা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছেন। এ বিষয়ে মতামতের জন্য চেষ্টা করেও বিজিবি রাজশাহী সেক্টর ও ৩৭ রাইফেল ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। গত বুধবার রাজশাহীর সিটি হাটে কোরবানির গরু কিনতে গিয়ে ফিরে আসা রাণীবাজারের ব্যবসায়ী আজমত আলী বলেন, ভারতীয় গরুর আমদানি কম হওয়ায় গত বছর ২০/২২ হাজার টাকায় বিক্রি হওয়া একই সাইজের গরুর দাম এবার ২৫/২৬ হাজারেরও বেশি চাওয়া হচ্ছে। এছাড়া ঢাকা, ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, নোয়াখালী, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ ও সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা পাইকাররা বেশি দামের কারণে ফিরে যাচ্ছেন। হাটে গরু আসতে শুরু করেছে। আগামী সপ্তাহে গরুর আমদানি ও কেনাবেচা বাড়বে বলে তারা আশা করেছেন। স্থানীয় গরু ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা বলেন, এবার গতবারের তুলনায় গরুর দাম বেশি হলেও খামারিদের খরচের তুলনায় কম। গত বছর যে গরুর দাম ছিল ৩০ হাজার টাকা এবার ঐ সাইজের গরুর দাম ৪৮ থেকে ৫৫ হাজার টাকা হওয়া উচিত।