রায়পুরায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী দুই শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত্ অনিশ্চিত

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৭:১৭
নরসিংদীর রায়পুরায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষাদানের উপর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকের অভাবে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দুই শিক্ষার্থীর ভবিষত্। এরা হলো উপজেলার রায়পুরা ইউনিয়নের আর এম উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র মোঃ খলিল মিয়া ও মিজান মিয়া। জানা যায়, বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এ্যসিস্ট্যান্স ফর ব্লাইন্ড চিলড্রেন (এবিসি) এর সহযোগিতায় ২০০৭ সালে খলিল ও মিজান রাজপ্রসাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক এবিসির সৌজন্যে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা দানের পদ্ধতি ব্র্যাল্ট এর উপর প্রশিক্ষণ নেয়। এ শিক্ষকের মাধ্যমে মিজান ও খলিল গত বছর প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মিজান ৪.০০ এবং খলিল ৪.৮৩ গ্রেড পেয়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। পরে তারা দু’জনই একসাথে বাড়ীর পার্শ্ববর্তী আর এম উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রণীতে ভর্তি হয়। ক্লাসের স্বাভাবিক ছেলে-মেয়েদের সাথে লেখা পড়া করে কুলিয়ে উঠতে পারছেনা এ দুই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। তাছাড়া বিদ্যালয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের পাঠদানের উপর প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষক না থাকায় যথেষ্ট ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তাদের লেখাপড়া প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। ফলে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তাদের সুন্দর ভবিষত্। এবিসি’র প্রকল্প পরিচালক আলী মাসুদ জানান, এ এলাকায় ৪৮টি বিদ্যালয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া করানোর বিপরীতে সংস্থার নিয়োগকৃত শিক্ষক রয়েছে একজন। এ জনবল সংকটের কারনে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েদের পাঠদান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আর এম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোহেনা আক্তার জানান, দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের পাঠদানের জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক না থাকায় স্বাভাবিক শিক্ষার্থীদের সাথেই তাদের ক্লাস নেয়া হচ্ছে। উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা রেদোয়ান হোসেন বলেন, আর এম উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত খলিল ও মিজানকে সমাজসেবা অফিস থেকে প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে।