তখন তার বয়স মাত্র ১১ বছর, অভিনয়ের দুনিয়াতে প্রবেশ করেন তিনি। আজ শুধু অভিনয়েই নয়, গানেও সফল কাইলি। একাধারে একজন হোস্ট, গায়িকা ও মডেল হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। ক্যারিয়ারের শুরুটা অস্ট্রেলিয়ান টেলিভিশনে অভিনয়ের মাধ্যমে। তরুণ এই প্রতিভাকে নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যালাবাসে জন্ম এ তরুণ প্রতিভার। উইলিয়াম ব্রুস এবং ক্রিশ্চেন মেরি জেনার ছোট মেয়ে কাইলি। ক্যানিয়ন স্কুলে পড়াশোনার পাঠ শুরু হয় তার। আর পড়াশোনার সমাপ্তি ঘটান ২০১২ সালে। এরইমধ্যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে এসেছেন এই তরুণী। তার আলোর দুনিয়ায় আসার গল্পটা বেশ মজার। প্রথমে চুক্তিবদ্ধ হন টেলিভিশন সোপ অপেরা ‘নেইবরস্’-এ অভিনয়ের জন্য। পরের বছর সোপ অপেরার কলাকুশলী মিলে ‘ফিজরয় ফুটবল ক্লাব বেনিফিট’ শিরোনামের একটি কনসার্টের আয়োজন করেন। উদ্দেশ্য অভিনয়শিল্পীদের তাত্ক্ষণিক প্রতিভা যাচাই। সেদিন অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিলেন না কাইলি। জোর করেই স্টেজে উঠিয়ে দেওয়া হয় তাকে। লিটল ইভারের গাওয়া ‘দ্য লুকোমোশন’ গানটি গেয়ে তাক লাগিয়ে দেন সবাইকে। গানটি নেচে-গেয়ে উপভোগ করেন অতিথিরাও। গান শেষে প্রশংসা পান সবার। সৌভাগ্যটাও সঙ্গী হয়ে যায় তখন থেকে। মাশরুম রেকর্ডসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন ‘লুকোমোশন’ গানটি রিমেক গাওয়ার জন্য। তার কণ্ঠে অস্ট্রেলিয়ায় গানটি প্রকাশ পায়। ব্যাপক আলোচিত হয় এটি। সেই সূত্রেই সুযোগ মেলে মাশরুম রেকর্ডসের হয়ে লন্ডনের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ এবং স্টক একেন ওয়াটারম্যানের লেখা গান গাওয়ার।
এরপর সুযোগ পান টেলিভিশনে অভিনয় ও উপস্থাপনার। একবার স্কুলের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থাপক হিসেবে ছিলেন তিনি। সেই অনুষ্ঠানের ভিডিও তার বন্ধুর মা পোস্ট করেন ইউটিউবে। আর সেখান থেকেই ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায় তার। যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রোডাকশন হাউস তাকে খুঁজতে শুরু করে। একসময় পাওয়াও যায়। তার সন্ধান পাওয়ার পর আর দেরি করেনি সেই প্রতিষ্ঠানটি, তাকে একটি প্রোগ্রামে উপস্থাপক হিসেবে নিয়ে নেয়। এরপর ‘বিউটিফুল পিপল’ নামের একটি টেলিভিশন সিরিজে কাজ করেন তিনি। আর এই টিভি সিরিজের মাধ্যমেই শুরু হয় তার মডেলিং জগতে প্রবেশ। ‘ক্রাশ ইওর স্টাইল’ নামের একটি ম্যাগাজিনের হয়ে কাজ করতেন তিনি। প্রায় ২ বছরের চুক্তি ছিল তাদের সাথে। এরপর তিনি ‘ওকে’ ম্যাগাজিনের সাথে কাজ করেছেন বেশ কয়েক মাস। এ ছাড়াও ‘টিন ভোগ’-এও কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছিল তার। সেখান থেকে পরিচয় হয়, আলোকচিত্রশিল্পী নিকের সাথে। তিনি তাকে প্রস্তাব দেন চলচ্চিত্রে অভিনয় করার। কিন্তু তখন তিনি কলেজপড়ুয়া ছাত্রী। তাই তিনি সেটা করতে চাননি। পড়াশোনা এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। পরবর্তীতে পড়াশোনা শেষ করে অবশ্য অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু করেন তবে তেমন আলোড়ন তুলতে পারেননি তিনি। ২০১১ সালে নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন উইকে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে লস অ্যাঞ্জেলসের ‘হ্যালো কিটি’ নামের একটি শো-তে মডেলিংয়ের প্রস্তাব পান। তাতে এককথায় রাজি হয়ে যান। এরপর ‘স্টাইল স্টারস’-এর অ্যাম্বাসেডর হওয়ার প্রস্তাব পান। প্রায় ১ বছরের মধ্যে সেই ব্যান্ডের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। এ ছাড়াও সেভেনটিন নামের একটি ফ্যাশন ম্যাগাজিনের সাথে কাজ করেছেন। তবে এসবের পাশাপাশি চালিয়ে গিয়েছেন তার গান। এটা তিনি কখনই ছাড়েননি। এরপর তিনি গ্লি’র সাথেও কাজ করেছিলেন। অংশ নিয়েছিলেন ২০১২ সালের মার্চে ‘দ্য হাঙ্গার গেমস’-এর প্রিমিয়ারের ‘ওয়ার সামথিং স্পার উইথ কাইলি’ নামের একটি ফ্যাশন শোতে। শোটি তাকে নিয়েই করা হয়েছিল। এরপর তিনি তার বোনের সাথে মিলে সেভেনটিন ম্যাগাজিনের কাজ করেন। এ বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি ও তার বোন মিলে ‘কেন্ডাল অ্যান্ড কাইলি’ নামের একটি ফ্যাশন হাউজ দেন। এখানেই শেষ নয়, তাদের এই হাউজের অনলাইন ভার্সন আনেন মার্চের মধ্যেই। গত অলিম্পিক নিয়ে একটি শোয়ের উপস্থাপক হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি।
