উচ্চশিক্ষা এবং জীবন গড়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় এসএসসি বা এইচএসসি পাসের পর। এখান থেকেই কাঙ্ক্ষিত পেশাকে লক্ষ্যে রেখে বিষয় নির্বাচন করে উচ্চডিগ্রি অর্জনে লেখাপড়া করতে হয়। আর এক্ষেত্রে যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে একটু ভুল হয় তবে এর মাসুল দিতে হয় সারা জীবনভর। আর এ কারণে বর্তমানে ক্যারিয়ার সহযোগী বিষয়ে পড়াশোনার গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে সেই শিক্ষার্থীদের মাঝে সেই বিষয়গুলোর চাহিদা বেশি যার গুরুত্ব শুধু দেশেই নয় আন্তর্জাতিকভাবে রয়েছে। এ ধরনের চাহিদাসম্পন্ন এবং যুগোপযোগী কোর্সের অন্যতম হচ্ছে প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টিং। এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এসিসিএ, সিএটি, এফডি। বাংলাদেশে বিশ্বজুড়ে অন্যতম গ্রহণযোগ্য এই প্রফেশনাল কোর্স পরিচালনা করেছে চার্টার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে একাধিক ক্যাম্পাস এবং প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টিংয়ে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী।
এটি উচ্চআয়ের পেশাজীবী হওয়ার সাথে গ্লে¬াবাল প্রফেশনালদের কাতারে আসতে অন্যতম কোর্স, যা সম্পন্ন করে বহুজাতিক কোম্পানি বা কর্পোরেট অফিসে বিশেষ করে চিফ ফিন্যান্স অফিসার, অডিটর, আন্তর্জাতিক ফার্মে অ্যাকাউন্টিং পার্টনার, ফিন্যান্স ডিরেক্টর, সিনিয়র ইন্টারনেল অডিটর, বিজনেস অ্যাডভাইসর প্রভৃতি পদে চাকরি পাওয়া যায়। এটি হচ্ছে ক্যারিয়ারভিত্তিক প্রফেশনাল কোর্স। এসিসিএ এবং সিএটি দুটিই প্রফেশনাল কোর্স। এসিসিএ কোর্সটি সিপিএ, সিএ, সিএমএ প্রভৃতির সমমানের। এটি জাতিসংঘ স্বীকৃত এবং ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব অ্যাকাউন্টেন্টসের মেম্বার। সিএ এবং এসিসিএর মধ্যে মূল পার্থক্য হলো—সিএ স্থানীয় কারিকুলাম আর এসিসিএ হচ্ছে আপডেট ব্রিটিশ কারিকুলাম। এটি একমাত্র কোর্স যা যেকোনো পর্যায়ে ইংল্যান্ডসহ ১৭৩টি দেশে শতভাগ ক্রেডিট ট্রান্সফার করা যায়। ফাউন্ডেশন ডিপ্লোমা (এফডি) হচ্ছে এসিসিএ’র এন্ট্রি লেভেলের সুট অব কোয়ালিফিকেশনস, যা থেকে শিক্ষার্থীরা পূর্বের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে চমত্কার কোর্স বেছে নিতে পারে। যারা একেবারেই এন্ট্রি লেভেল থেকে শুরু করতে চায় তাদের এফডি’র ইন্টারমিডিয়েট সার্টিফিকেট লেভেল থেকে শুরু করতে পারে। এ নিয়ে বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করতে পারেন এই ঠিকানায় :বাড়ি-৫১, রোড-১০/এ, ধানমন্ডি, ঢাকা। ফোন :৮১৪১৬০১। কোর্সটির সাথে বিবিএ-এমবিএ’র সময়সীমার তুলনা করলে দেখা যাবে, এসএসসি পাসের পর এইচএসসি’র জন্য দুই বছর, বিবিএ’র জন্য ৪ বছর, এমবিএ’র জন্য ২ বছর; অর্থাত্ প্রায় ৬ থেকে ৮ বছর অপেক্ষা করতে হয় এবং প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে ৫ থেকে ১২ লাখ টাকা ব্যয় হয়। এক্ষেত্রে সময় বেশি লাগার কারণে খরচও বেশি হয়। কিন্তু এসএসসি-এইচএসসি’র পর এ কোর্স করে যেকোনো শিক্ষার্থী মাত্র সাড়ে তিন থেকে চার বছরে আন্তর্জাতিক মানের চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট হতে পারে, অর্জন করতে পারে অ্যাকাউন্টিংসে অনার্স ডিগ্রি। তবে প্রয়োজনীয় সুবিধা না থাকায় ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে শিক্ষার্থীরা অনেক সময় প্রতারণার শিকার হয়ে থাকে। এজন্য ভর্তির আগে প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা, কাঠামোগত অবস্থান, ফাইন্যান্সিয়াল ক্যাপাসিটি, শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী পর্যাপ্ত ক্লাসরুম, কম্পিউটার ল্যাব, ইন্টারনেট, নিজস্ব সফটওয়্যার, গ্রুপ স্টাডি করার মতো লাইব্রেরি, পর্যাপ্ত আপডেট বই, সুন্দর পরিবেশ, সিকিউরিটি এবং সর্বোপরি সাফল্যের অবস্থান দেখতে হবে।
