জিএসপি ফিরে পেতে সহায়তার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:০৭
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য অবাধ বাজার সুবিধা (জিএসপি) স্থগিতের সিদ্ধান্ত শ্রমিক স্বার্থবিরোধী আখ্যায়িত করে বলেছেন, জিএসপি স্থগিতের ফলে তা জিএসপি কমপ্ল্যাইয়েন্স এবং শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করবে না। বরং শ্রমিকদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করবে। শিল্পক্ষেত্রে দুর্ঘটনা বিশ্বের অন্যান্য স্থানে এমনকি উন্নত বিশ্বেও অনবরত ঘটে থাকে। জিএসপি সুবিধা স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে বোঝানোর জন্য দেশটির ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তাঁর হোটেল স্যুটে যুক্তরাষ্ট্র চেম্বার অব কমার্সের যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপের সঙ্গে এক বৈঠকে এসব কথা বলেন। গত বছর ঢাকায় ২৬ মে থেকে ২৮ মে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তারই ধারবাহিকতায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মার্কিন চেম্বার নেতৃবৃন্দ ‘ইউএসএ এন্ড বাংলাদেশ টুয়ার্ড দ্য ফিউচার ঃ পলিসি রিকমেন্ডেশন টু স্ট্রেন্থ দ্য ইউএস বাংলাদেশ কমার্শিয়াল রিলেশনশীপ’ নামে একটি রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন। শিগগিরই জিএসপি সুবিধা বাতিলের আদেশ প্রত্যাহারের আশা প্রকাশ করে মার্কিন চেম্বার নেতৃবৃন্দ বলেন, তারা জিএসপি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে আগ্রহী। কারণ তারা মনে করেন, নীতিগত দিক থেকে জিএসপি বাতিল সঠিক হয়নি। তারা ইতিমধ্যে মার্কিন সরকারকে তাদের মতামতের কথা জানিয়েছেন বলে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। বৈঠকে মার্কিন দল মার্কিন-বাংলাদেশ বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক এগিয়ে যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার বিদ্যুত্ ও টেলিযোগাযোগসহ কিছু খাত বিদেশি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে। বর্তমান সরকার প্রতিযোগিতামূলক বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগের জন্য এসব খাত উন্মুক্ত করে দিয়েছে। অথচ এর আগের সরকারের আমলে এসব খাত সুবিধাভোগীদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে ছিল। মার্কিন চেম্বার নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা এবং বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজতে শিগগির ঢাকা সফর করবেন বলে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী আগামী ডিসেম্বর নাগাদ দু’টি বোয়িং বিমানের সরবরাহ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বোয়িং প্রতিনিধিকে অনুরোধ করেন। ইতিমধ্যে ২টি বিমান সরবরাহ করা হয়। আরও ২টি সরবরাহের অপেক্ষায় আছে। বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, অ্যাম্বাসেডর এট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব শেখ এম ওয়াহিদুজ্জামান, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময়ে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব বিজন লাল দেব ও মহাপরিচালক (জাতিসংঘ) সাদিয়া মুনা তাসনিম উপস্থিত ছিলেন।