আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে কোনো প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক এ সংগঠনের আওতায় কয়েকটি রাজনৈতিক দল থাকলেও তারা আলাদাভাবে যে যার মত করে প্রার্থী দেবেন। ইতিমধ্যে দুয়েকটি দলের পক্ষ থেকে প্রার্থীর নাম ঘোষণাসহ নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে রাজনৈতিক সংগঠন না হওয়ায় হেফাজতের পক্ষে নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হওয়ার সুযোগ নেই। তা সত্ত্বেও হেফাজত নেতাদের দাবি নির্বাচনী লড়াইয়ে সরাসরি অংশ না নিলেও পরবর্তী সরকার গঠনে হেফাজতই হবে ‘কিং মেকার’।
জানা গেছে, সারা দেশে ছোটবড় কওমী মাদ্রাসা রয়েছে প্রায় ৪০ হাজার। এসব মাদ্রাসায় ছাত্র-শিক্ষক মিলিয়ে ভোটার সংখ্যা ৬০ থেকে ৭০ লাখ। হেফাজত নেতাদের হিসাব অনুযায়ী মাদ্রাসার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছাত্র শিক্ষকদের সাথে যদি গড়ে ৩ জন করেও ভোটার থাকে তাহলে সারা দেশে হেফাজতে ইসলামের নীতি আদর্শে বিশ্বাসী ভোটার সংখ্যা ২ কোটির বেশি।
হেফাজতে ইসলামভুক্ত দলগুলোর মধ্যে রয়েছে নেজামে ইসলাম পার্টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফতে মজলিশ (২ গ্রুপ), খেলাফত আন্দোলন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ময়দানে নেমে পড়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট ও নেজামে ইসলাম পার্টি। পীরসাহেব চরমোনাইয়ের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বৃহত্তর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি মুফতি ইজহারুল ইসলাম ১৮ দলীয় জোটের কাছ থেকে ৫০টি আসন চাওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
হেফাজত সূত্র জানায়, ইসলামী ঐক্যজোট নেতা ও হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মঈনুদ্দীন রুহী এবং মুফতি ফয়জুল্লাহ যথাক্রমে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও রাঙ্গুনিয়া থেকে নির্বাচন করবেন। এছাড়া জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম নেতা মুফতি ওয়াক্কাস যশোরের মনিরামপুর আসন থেকে নির্বাচন করবেন।
হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী গতকাল শুক্রবার ইত্তেফাককে বলেন, হেফাজতের প্রতি এই ২ কোটি ভোটারের আস্থার ভিত্তি অত্যন্ত মজবুত। তাই হেফাজত ঘোষিত ১৩ দফা পূরণের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার যারা করবে ২ কোটি ভোটারের ভোট তাদের পক্ষেই যাবে।
