লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের এক কর্মকর্তা। বৈঠককালে জঙ্গিবাদ, দুর্নীতিসহ নানা বিষয়ে তারেক রহমানের নিজের ও তার দলের অবস্থান জানতে চান ঐ কর্মকর্তা। এ সময় তারেক রহমান বলেন, তার দল ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসলে তারা এক নতুন ধারার সরকার গঠন করবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি দেখাবে। এছাড়া জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তার দলের নতুন পরিকল্পনা রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর লন্ডনের একটি হোটেলে মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ক কাউন্সিলর পুষ্পিন্দার ধিলন তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। ঐ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। প্রায় ৪০ মিনিট দীর্ঘ বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় নানা ইস্যুতে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মার্কিন দূতাবাসের ঐ কর্মকর্তা লন্ডনে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে যান। লন্ডনে অবস্থানকালে তিনি ব্রিটিশ কর্মকর্তা, বাংলাদেশের বিষয়ে নজর রাখছে এমন ব্যক্তিসহ কয়েকজনের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। তারেক রহমানের সঙ্গেও সাক্ষাত্ করেন তিনি।
বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান ২০০৮ সালে সেপ্টেম্বরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ঢাকা ছেড়ে যান। এরপর থেকে তিনি লন্ডনেই অবস্থান করছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নির্যাতনের কারণে তিনি এখনো অসুস্থ। তিনি দ্রুত দেশে ফিরে আসবেন এবং দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হবেন।
বিএনপির শীর্ষ নেতারা যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মকর্তার সঙ্গে এ বৈঠককে খুবই তাত্পর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র তারেক রহমানের মনোভাব জানার চেষ্টা করছে।
২০১১ সালে উইকিলিকসের এক ফাঁস করা তারবার্তায় দেখা যায়, তারেক রহমানকে তারা সহিংসতার প্রতীক (সিম্বল অব ভায়োলেন্স) হিসাবে বিবেচনা করত। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে তারেক রহমানকে যেন প্রবেশ করতে দেয়া না হয়- সেজন্য ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস সুপারিশ করেছিল। মার্কিন দূতাবাস মনে করতো রাজনৈতিক দুর্নীতির জন্য তারেক রহমানের কুখ্যাতি রয়েছে এবং এ বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের জন্য অনুকূল নয়। ২০০৮ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকায় তত্কালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি এক গোপন তারবার্তায় তারেক রহমানের বড় কিছু দুর্নীতির বিষয়ে ওয়াশিংটনকে অবহিত করেছিলেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে তারেক রহমানকে প্রবেশ করতে দেয়ার সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে তার উদ্বেগের কথাও জানিয়েছিলেন। সূত্র জানায়, চলতি বছরের আগস্টে একটি দলীয় সভায় যোগ দিতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্র তারেক রহমানকে ভিসা দেয়নি।
