ব্যক্তিগত ব্যর্থতা কিংবা ভুল বোঝাবুঝি; তুচ্ছাতিতুচ্ছ কারণ থেকে শুরু করে বড় কোনো ুদুর্ঘটনা—এমনি কত শত কারণেই না আত্মহননের পথ বেছে নেয় মানুষ। কিন্তু তাই বলে আবহাওয়ার পরিবর্তন কি কখনো মানুষের এ ধরনের সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করতে পারে? এ প্রশ্নের উত্তরে অধিকাংশ মানুষের মনেই হয়তো না-বোধক উত্তরটাই ঘুরে ফিরে আসবে। কিন্তু নানা সময়ে বিচিত্র সব তথ্য দিয়ে মানুষকে চমকে দেওয়া গবেষকরা কিন্তু এবার এর ভিন্ন কথাই বলছেন। বিশেষ করে গবেষকদের একটি দল সম্প্রতি জাপানিদের আত্মহত্যার প্রবণতা নিয়ে গবেষণা করে দেখেছেন, খারাপ আবহাওয়া মানুষের মাঝে আত্মহননের প্রবণতা অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। আর এ কারণেই মেঘাচ্ছন্ন আকাশ বা একটানা বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক বিষয়গুলো মানুষকে আত্মহননে যতটা উদ্বুদ্ধ করে রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া সেটা অনেকাংশেই কমে আসে। জাপানের ইউনিভার্সিটি অব শিগার চিকিত্সাবিজ্ঞানী হিরোশি কাদোতানি ও তার সহযোগিরা বছরের বেশ কিছু সময়ে ঘটে যাওয়া আত্মহত্যা বা আত্মহত্যা প্রচেষ্টার সাথে সেই সময়ের আবহাওয়ার তুলনা করতে যেয়েই বিস্ময়কর এই সম্পর্ক খুঁজে বের করেন। তারা লক্ষ করেন যে, তাদের বিশ্লেষণ করা এ ধরনের ঘটনাগুলোর সাথে এর আগের তিন থেকে সাত দিনের আবহাওয়ার এক ধরনের যোগসূত্র রয়েছে। এতে যে ৯৭১টি ঘটনা পর্যালোচনা করা হয় সেগুলোর অধিকাংশগুলোর ক্ষেত্রেই ঘটনাটি ঘটার সময় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল বা টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। আবার খারাপ আবহাওয়াকালীন এই সময়গুলোতে অন্য যেকোনো উপায়ে আত্মহত্যার চাইতে ট্রেন লাইনে আত্মহত্যা করতে চাওয়া লোকের সংখ্যা বেশি হয় বলেও মত প্রকাশ করেন হিরোশি ও তার সহযোগিরা। এদিকে খারাপ আবহাওয়ার সাথে মানুষের এই আত্মহননের প্রবণতার যে যোগসূত্র তার কারণটি গবেষকরা সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে না পারলেও তাদের ধারণা প্রতিটি আবহাওয়াই যেমন মানুষের মনোভাবকে আন্দোলিত করে ঠিক তেমনি বৃষ্টিপাত বা মেঘলা আবহাওয়ার যে আবেগিয় প্রভাব সেটি থেকেই হয়তো মানুষ আরও বেশি করে আত্মহননে প্রবৃত্ত হয়। গবেষণার এই ফল প্রকাশিত হয়েছে জার্নাল অব অ্যাফেক্টিভ ডিজঅর্ডার্স সাময়িকীতে।
