সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংসে জাতিসংঘে প্রস্তাব পাস

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:৩৩
সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংস করার বিষয়ে একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাস হয়েছে। তবে প্রস্তাবটি না মানলে সিরিয়ার ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কোনো হুমকি এতে রাখা হয়নি। শুক্রবার এ প্রস্তাবটির পক্ষে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের সবাই ভোট দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কয়েক সপ্তাহের প্রবল কূটনৈতিক তত্পরতার মধ্যদিয়ে প্রস্তাবটি তৈরি হয় যার বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের সব সদস্য একমত হয়। সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র নিয়ে চলতি মাসের প্রথমদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে এক সমঝোতার ভিত্তিতে প্রস্তাবটি তৈরি করা হয়। গত ২১ আগস্ট সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের প্রান্তীয় এলাকায় বিষাক্ত সারিন গ্যাস হামলা চালানো হয়। এ হামলায় শিশুসহ হাজার খানেক মানুষ নিহত হয়। সিরিয়ার হামলা চালানোর পরিবর্তে দেশটির রাসায়নিক অস্ত্র নির্মূল করার প্রস্তাব দেয় রাশিয়া। প্রেসিডেন্ট বাশার রাশিয়ার প্রস্তাবে তাদের সায় আছে বলে জানায়। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা শক্তিগুলোও প্রস্তাবটি লুফে নেয়। তবে প্রস্তাবের ধারাগুলোর বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে পশ্চিমা শক্তি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সের মতবিরোধ দেখা দেয়। জাতিসংঘ ঘোষণার ৭ম অধ্যায়ের আলোকে নিষেধাজ্ঞা বা সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে প্রস্তাব মানাতে বাধ্য করার বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমা শক্তিগুলোর সঙ্গে রাশিয়া একমত হয়নি। এ নিয়ে কূটনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত দু’পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী সিরিয়া পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে দেশটির জন্য যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বর্তমান প্রস্তাবে রাখা হয়েছে তা হলো, অধ্যায় ৭ এর আলোকে নিরাপত্তা পরিষদ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব করতে পারবে। ঐ প্রস্তাব আবার নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের পর্যালোচনার মধ্যদিয়ে যেতে হবে এবং প্রয়োজন মনে করলে রাশিয়া তাতে ভেটো দিতে পারবে। ভোটে প্রস্তাবটি পাস হওয়ার পর জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন জানিয়েছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী সময়ে জেনেভায় সিরিয়ার সঙ্কট নিয়ে বিশ্বশক্তিগুলো একটি শান্তি সম্মেলন আয়োজন করার আশা করছে।