বাংলাদেশ ফুটবল দলের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ব্যর্থতা অনসন্ধান করতে গিয়ে দলের ডাচ কোচদের গাফিলতি এবং চরম উদাসীনতা খুঁজে পেয়েছে বাফুফের গঠিত তদন্ত কমিটি। একই সাথে খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধেও উদাসীনতার অভিযোগ তুলেছে কমিটি। এ জন্য বিশেষভাবে জাতীয় দলের ফুটবলার জাহিদকে শাস্তি দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। অপরদিকে গাফিলতির জন্য প্রধান কোচ লোডউইক ডি ক্রুইফকে সতর্ক করা ও তার স্বদেশি সহকারি ফিটনেস কোচ ইয়ামালীকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়া এবং স্বল্প সময়ের জন্য চুক্তিবব্ধ গোলকিপিং কোচ কিসকালক্ককেও সতর্ক করা হয়েছে।
পাশাপাশি খেলোয়াড়দের ইনজুরির ব্যাপারে দলের ডাক্তার ইমরানের মতামত সন্তোষজনক নয় বলেও মনে করছে কমিটি। তদন্ত কমিটি বাফুফেকে দেয়া রিপোর্টের সাথে কিছু সুপারিশও প্রণয়ন করে বাফুফেকে জানিয়েছে। কমিটি মনে করে তারা যে সুপারিশ দিয়েছে বাফুফে তা বাস্তবায়ন করবে।
ফুটবলার জাহিদের ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে তদন্ত কমিটি। কারণ কমিটি মনে করছে জাহিদ তার খেলাটা খেলেননি। কমিটির আহবায়ক ও বাফুফের সহসভাপতি বাদল রায় বলেছেন, যে দেশের জন্য খেলবে না, নিয়ম মেনে চলবে না, দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেবে তার না খেলাই ভালো। আমরা এমন প্লেয়ার চাই না।’
জাহিদ তদন্ত কমিটির ডাকে সঠিকভাবে সাড়া না দেয়ায় শৃংখলা ভঙ্গের অপরাধ আনা হয়েছে। একই সাথে দলের অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম, শাখাওয়াত হোসেন রনি, এবং সোহেল রানাকে সতর্ক করে দিতে সুপারিশ করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটি বাফুফেকে রিপোর্টটি জমা দেয়ার আগে জাতীয় দলের কোচিং ষ্টাফ, দেশিয় ক্লাব কোচ, কর্মকতা, সাংবাদিক, এমনকি টিম বয়ের সাথেও কথা বলে। রিপোর্টটি জমা দেয়ার পরই সংবাদ মাধ্যমের সাথে কথা বলেন তারা। সঠিক তথ্য জানতে সবমিলিয়ে ৩৫ জনের সাথে কথা বলা হয়েছে। দলের কোথায় ব্যর্থতা ছিল এবং কি কারনে হয়েছে তা জেনেছেন কমিটির কর্মকর্তারা।
গত চারটি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ দল জ্বলে উঠতে পারেনি। প্রথম ম্যাচে কেন বাংলাদেশ ভালো খেলতে পারে না সে কারণটা খুঁজে দেখা দরকার বলেও মনে করছে কমিটি।
এবার অস্টম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতিতে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দেয়ার পরও প্রত্যাশিত সাফল্য মেলেনি। সাফের জন্য প্রাথমিক দল গঠনে ডাচ কোচ ক্রুইফ দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন এবং তার গাফিলতি ছিল। কেননা তিনি থাইল্যান্ডে অনুশিলন ম্যাচ খেলে সেখান থেকে দেশে চলে গিয়েছিলেন। ক্রুইফের কোচিং নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কমিটি। কারণ ক্লাব কোচিংয়ে দেশের ফুটবলাররা এক প্রথায় গড়ে উঠেন। ভালো খেলেন বলেই তারা জাতীয় দলে ডাক পান। কিন্তু জাতীয় দলের বিদেশি কোচ আরো উন্নত প্রশিক্ষণ দেন যেখানে গলদ আছে। একটা ফাঁক তৈরি হয় বলে মনে তদন্ত কমিটির রিপোর্টে বলা হয়েছে।
জাহিদকে শাস্তির সুপারিশ
দায়িত্ব পালনে ক্রুইফের দায়িত্বহীনতা এবং উদাসীনতা
ফিটনেস কোচকে অব্যহতি দেয়া
প্রাথমিক দল গঠনে স্বজন প্রীতি
খেলোয়াড়দের উদাসীনতা
ফিটনেস গোপন করায় রনি, মামুনুল ইসলাম ও সোহেল রানাকে সতর্ক করা
শেষ দুই ম্যাচে গোলকিপার মামুন খানের দায়িত্বহীনতা
ডাচ কোচদের পর্যবেক্ষণের জন্য স্থানীয় দুইজনকে দায়িত্ব দেয়া
বিদেশি কোচ নিয়োগের আগে দেশের ফুটবল সম্পর্কে সব কিছু জানানো
লিগে বিদেশি কোটা কমিয়ে দুইজন করার পরামর্শ
লিগ আকর্ষণীয় করার জন্য কমিটি গড়া
জাতীয় দলের ফুটবলারদের নিয়ে পুল তৈরি, বেতন কাঠামো এবং স্বাস্থ্য বীমা প্রবর্তন ও তাদেরকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনা
ক্লাবগুলোকে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাফুফেকে উদ্যোগ নিতে পরামর্শ
