হুমকিতে ৮০ হাজার হেক্টরের রবি আবাদ

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:১১
জেলার বৃহত্তর চলনবিল অঞ্চলে বন্যার পানি নামার সাথে সাথে প্রভাবশালীরা অবৈধ সুতি জাল পেতে লাখ লাখ টাকার মাছ ধরার পাশাপাশি কৃষকদের অভিযোগ বিলের তলায় পানি প্রবাহের পথে জাল পেতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় প্রায় ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে আগামী রবিশস্য আবাদ হুমকির মুখে। জানা গেছে, চলনবিলের সিংড়া-গুরুদাসপুর, আত্রাইবিলের একমাত্র পানি প্রবাহের পথ তাড়াশের আত্রাই নদীর শাখা সাইড খালে কুন্দইল গ্রামের প্রভাবশালীরা ৭টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বাঁশ ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে পানি প্রবাহের মুখে অতি সূক্ষ্ম জাল পেতে মাছ ধরছে। এছাড়া ভেটুয়া খালে ২টি এবং হাটিকুরুল-বনপাড়া মহাসড়কের ৯নং ব্রিজের তলায় ২টি অবৈধ সুতি জাল পাতায় চলনবিলের কৃষকের রবিশস্য আবাদ হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, প্রতি রাতে চলনবিলের ওই ১১টি পানি প্রবাহের মুখে সুতি জাল পেতে এ মৌসুমে কমপক্ষে ৫০ লাখ টাকার মাছ ধরে ভাগ-বাটোয়ারা করে পকেটে তুলেছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। আর এসব জালের ফাঁস এতই ছোট যে, পোনা মাছ থেকে শুরু করে বড় ধরনের মা মাছও রেহাই পাচ্ছে না। চলনবিলের কৃষক রহিজ সেখ জানান, পানি প্রবাহের গুরুত্বপূর্ণ পথে সুতি জাল পাতায় স্বাভাবিক কারণেই পানি নামতে দেরি হবে। ফলে চলনবিলের বৃহত্তর অংশের প্রায় ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে রবি শস্য চাষ করা সম্ভব হবে না। এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা বরুন কুমার মন্ডল বলেন, চলনবিল একটি বৃহত্ এলাকা আর কুন্দইল এলাকায় পানি প্রবাহের মুখে সুতি জাল পাতলে এক দিকে যেমন পোনা ও মা মাছ নিধন হচ্ছে অন্যদিকে কৃষকের রবি শস্য আবাদেও ব্যাপক ক্ষতি হবে। এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হান শরীফ কবির জানান, অবৈধ সুতি জাল পাতায় ইতিমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩ জনকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে এবং বর্তমানেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।