সিলেটে ইদানিং বিদ্যুত্ সঙ্কট বৃদ্ধি পেয়েছে। ভ্যাপসা গরমে কখন বিদ্যুত্ যায় কখন আসে তার কোন ঠিক নেই। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মানুষ যারপরনাই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। গত এক মাস সিলেটে বিদ্যুতের বেহাল অবস্থা চলছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতও সিলেটে বিদ্যুত্ সরবরাহ স্বাভাবিক রেখে মানুষের দুর্ভোগ ‘স্বাভাবিক’ রাখতে সংশ্লিষ্টদের তাগাদা দিয়েছেন।
সিলেটে বিদ্যুতের অভাব ও তীব্র গরমে ঘরে ঘরে সর্দি, জ্বর বিভিন্ন রোগ-বালাই দেখা দিয়েছে। বিদ্যুতের অভাবে অফিস-আদালত, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ-কর্ম ব্যাহত হচ্ছে মারাত্মকভাবে। হাসপাতাল-ক্লিনিকে অবস্থা আরো খারাপ। এতো ঘনঘন বিদ্যুত্ বিভ্রাট ঘটছে যে আইপিএসও চার্জ হয় না। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়াও মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুত্ চলে গেলে অভিযোগ কেন্দে র ফোনও কেউ রিসিভ করে না।
দিনে ৮ থেকে ১২ বার বিদ্যুত্ যাওয়া-আসা করে। কখনো একবার বিদ্যুত্ গেলে ৩- ঘণ্টার আগে বিদ্যুতের দেখা মেলে না। বিদ্যুত্ চলে গেলে আম্বরখানা বিদ্যুেকন্দে ফোন করে কাউকে পাওয়া যায় না এবং বিদ্যুত্ না থাকার কারণও জানা যায় না। দিনে দিনে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। প্রকৌশলীরা জানান, ঝড়-বজ পাত, বৃষ্টি হলে লাইন ট্রিপ করে। ঘনঘন ট্রান্সফরমার বিকলসহ নানা কারণে বিদ্যুত্ বিভ্রাট ঘটছে। প্রায় দিনই সিলেটের তিনটি ডিভিশনে সংস্কার কাজ চলে। সংস্কার কাজও যেন শেষ হতে চায় না, মানুষেরও দুর্ভোগের শেষ হয় না। অনেক সময় ঠিক সন্ধ্যার আগে বা পরের মুহূর্তে বিদ্যুত্ চলে যাওয়া মানুষকে আরো অসহনীয় করে তুলেছে। বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ হলে নগরীতে পানির কষ্টে পড়ে মানুষ। সিলেট নগরীর চেয়ে বেশি যন্ত্রণা ভোগ করছেন উপজেলা ও বিভাগের অন্যান্য জেলা ও উপজেলাবাসী। দিনে বা রাতে বিদ্যুত্ না থাকা যেন স্বাভাবিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। অনেক সময় বিদ্যুত্ আসা-যাওয়ার খেলায় ঘরের বৈদ্যুতিক জিনিষপত্র বিনষ্ট হচ্ছে। বিভিন্নস্থানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাত রয়েছে।
সিলেট অঞ্চলে সরকারি-বেসরকারিভাবে মোট ৭৪০ দশমিক ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন হয়ে থাকে। এর মধ্যে গ্রীষ্মকালে সিলেটের চাহিদা ৩২০-৩৩০ মেগাওয়াট। শীত কালে চাহিদা ২১০-২২৫ মেগাওয়াট। অবশিষ্ট বিদ্যুত্ জাতীয় গ্রীডে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। সূত্র জানায়, অনেক সময় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকে। বিদ্যুতের সিলেট প্রধান প্রকৌশলী সোলেমান খান ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, স্বল্প জনবল ও সম্পদ নিয়ে সরবরাহ ঠিক রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে সিস্টেম লসও কমিয়ে আনা হয়েছে। বিদ্যুত্ লাইনে মেরামত কাজের জন্য অনেক সময় লাইন বন্ধ রাখতে হয়। তবে এর জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। তিনি বলেন সেন্ট্রাল জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেট অঞ্চলের বিদ্যুতের সার্বিক অবস্থার উন্নতি হবে। ভুক্তভোগীরা জানান, অনেক সময় বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুত্ থাকে না।
সেন্ট্রাল জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন প্রকল্প
বৃহত্তর সিলেট ও ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে এ অঞ্চলের বিদ্যুত্ ব্যবস্থার উন্নয়নে এক হাজার ৪৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে সেন্ট্রাল জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নামে চলমান প্রকল্পের কাজ আগামী ২০১৫ সালে শেষ হওয়ার কথা। প্রকল্পটি ২০১২ সালে শুরু ও ২০১৩ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সিলেটে ভূমি পাওয়ার ব্যাপারে দীর্ঘসূত্রতাসহ নানা কারণে কাজকর্ম পিছিয়ে আছে।
