প্রজন্ম মুখ

নিয়মতান্ত্রিক জীবনের একজন

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৩৫
মরমী সাধক হাসন রাজার সুনামগঞ্জে জন্ম তার। সেখানেই কেটেছে তার জীবনের প্রথম কয়েকটি বছর। বাবার ব্যবসায়িক কাজের সূত্র ধরে তারপর চলে আসেন ময়মনসিংহ শহরে। এখানেই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখাপড়ায় হাতেখড়ি। ছেলেবেলাতেই বেশ বন্ধুবত্সল হওয়ায় সবার সাথে ছিল সমান সখ্যতা। সুখের বিষয়, সে গুণটি আজও তিনি নিজের মাঝে ধারণ করে চলেছেন, স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন ব্যাংক এশিয়ার কর্পোরেট অফিসার হিসেবে। তিনি রুবাইদা ইফতেখার, এ প্রজন্মের মেধাবী এই ব্যাংকারকে নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজনে লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার রুবাইদা ইফতেখারের ছোটবেলা থেকেই নিয়মতান্ত্রিক কর্পোরেট লাইফের প্রতি ঝোঁক ছিল। আর তার বেড়ে ওঠার সময়টাতে ব্যাংকিং খুব আকর্ষণীয় পেশা হিসেবে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। স্বভাবতই তার ক্যারিয়ার গড়ার ইচ্ছেটা ঝুঁকেছিল ব্যাংকিংয়ের দিকে। লালমাটিয়া মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি উত্তীর্ণ হওয়ার পর ভর্তি হন গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে। সেখান থেকে স্নাতক-স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর তার আর বসে থাকতে হয়নি। স্বল্প সময়ের মধ্যেই সুযোগ পান ব্যাংক এশিয়াতে শিক্ষানবীশ অফিসার হিসেবে কাজ করার। কর্পোরেট অফিসে প্রশাসন ও সংস্থাপন বিভাগে কাজের মাধ্যমে তার পথচলা শুরু। চলতি বছর থেকে কাজ করছেন মার্কেটিং বিভাগে। রুবাইদা মনে করেন, যে প্রত্যাশা নিয়ে তিনি কাজ শুরু করেছিলেন তা আজ অনেকটাই সফল। এর পেছনে ছিল নিয়মশৃঙ্খলার প্রতি তার গভীর অনুরাগ আর কঠোর অধ্যবসায়। ব্যাংকিং সেক্টরে কাজ করতে হলে অবশ্যই গ্রাহকদের সুবিধা-অসুবিধা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে। রুবাইদা বলেন, ‘গ্রাহক যে পর্যায়েরই হোক, তাকে উত্তম সেবা দেওয়াটাই হওয়া উচিত প্রতিটি ব্যাংকের আদর্শ। নতুনদের জন্য ব্যাংকিং পেশাটা অনেক চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করেন রুবাইদা। তবে তাদের কাজের প্রতি ভালোবাসা আর আগ্রহটা ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেন তিনি। সেই সাথে নতুনদের দরকার নিজের প্রতিষ্ঠান, সহকর্মী, সর্বোপরি গ্রাহকদের সাথে সৌজন্যতাবোধ বজায় রাখা। এক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য গ্রাহকদের সাথে বুঝাপড়াটাও ভালো হওয়া উচিত। শুরুতে অনেকেই নিজের অবস্থান নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন, মূল কথা হলো, অধ্যবসায় আর নিষ্ঠার সাথে কাজ করলেই নিজের অবস্থান উপরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। রুবাইদার কাছে আমরা জানতে চেয়েছিলাম, নতুন প্রজন্মের ব্যাংকিয়ের প্রতি আগ্রহের কারণ সম্পর্কে। তিনি বলেন, ‘ব্যাংকিংয়ে নিয়মতান্ত্রিক একটা জীবন পরিচালনা করার সুযোগ রয়েছে, কাজের খুব সুন্দর পরিবেশ রয়েছে, যা অনেক সময়ই আকর্ষণের মূল কারণ। তা ছাড়া এখনকার অধিকাংশ ছেলেমেয়েই পড়াশোনার ক্ষেত্রে বিবিএ অথবা এমবিএ প্রাধান্য দিচ্ছে। আমাদের দেশে অনেক সময়ই নিজের পাঠ্য সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ থাকে না। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বিবিএ অথবা এমবিএ করার পর ছেলেমেয়েরা তাদের প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞানকে কাজে লাগাতে পারছে ব্যাংকে। যেটা তাদের আগ্রহের অন্যতম কারণ। দেশের প্রথমসারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিবিএ শিক্ষার্থীরা ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ পান বিভিন্ন ব্যাংকে, আর তখন তাদের এখানকার সুন্দর পরিবেশ দেখে একটা ভালোলাগা জন্মে যায়। পরবর্তীতে কাজের ক্ষেত্রেও পছন্দের তালিকার শীর্ষে থাকে ব্যাংকগুলো। কর্মক্ষেত্রে অসাধারণ দায়িত্ববান রুবাইদা ব্যক্তিজীবনে খুবই ভ্রমণপ্রিয়। দেশ ও দেশের বাইরে অসংখ্য জায়গাতে এরইমধ্যে ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। সময় পেলেই ছুটে যান অচেনা কোনো জায়গায়। প্রাকৃতিক নিসর্গ আর সৌন্দর্যকে অন্য এক মোহে তাকে আকৃষ্ট করে সব সময়। কাজের বাইরে নিজের করে যে সময়টুকু পান সে সময়ে হারিয়ে যান বইয়ের রাজ্যে। অসংখ্য দেশি-বিদেশি বই রয়েছে তার নিজের সংগ্রহে। তার এই সফল পথচলায় সব সময়ই সঙ্গী হয়ে আছেন তার স্বামী হাসান তারেক। যিনি কর্মরত রয়েছেন কন্টিনেন্টাল ইন্সুরেন্স কোম্পানির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর কলেজ গেটে, তাদের দু’জনের আপন নিবাস। ছুটির দিনগুলোতে রুবাইদা চলে যান বাবা-মা অথবা একমাত্র বোনের সাথে সময় কাটাতে। এত ব্যস্ততার মাঝেও তিনি স্বপ্ন দেখের সুন্দর একটা আগামীর, যেখানে তিনি কর্পোরেট দুনিয়ায় নিজের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে পারবেন সফলভাবে। রুবাইদা ইফতেখার ডাকনাম :সেতু জন্মতারিখ ও স্থান :১৭ সেপ্টেম্বর, সুনামগঞ্জ মায়ের নাম :আফসানা এহতেশাম বাবার নাম :এহতেশাম পারভেজ প্রথম স্কুল :বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রিয় মানুষ :মা ও নানু প্রিয় উক্তি :ইতিবাচক চিন্তাভাবনার মানুষ কখনও ব্যর্থ হয় না। প্রিয় পোশাক :শাড়ি অবসর কাটে :বই পড়ে সাফল্যের সংজ্ঞা :সততা আর চেষ্টার জন্যই সফলতা আসে।