প্রজন্ম প্রত্যাশা

ওয়েডিং ফটোগ্রাফি

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৩৭
বিয়েবাড়ি মানেই আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভরপুর পরিবেশ। বর-কনেকে নিয়ে হৈ-হুল্লোড়, খানাপিনায় জমকালো উত্সব। সেইসব মুহূর্ত ক্যামেরায় ধরে রাখতে উত্সাহ-আগ্রহেরও কমতি থাকে না। জীবনের এই আনন্দময় ও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো ফ্রেমবন্দি করে রাখতে ফটোগ্রাফ বা আলোকচিত্রের জুড়ি নেই। যা অনেকেই সচরাচর শখের বশে করে থাকেন। কিন্তু এই শখটাও হয়ে উঠতে পারে নির্ভরযোগ্য আকর্ষণীয় একটি পেশা। সৃজনশীলতা ও একাগ্রতার মাধ্যমে এই পেশায় গড়ে তোলা যায় উজ্জ্বল ভবিষ্যত্। এই প্রজন্মেরর মেধাবী কয়েকজন ওয়েডিং ফটোগ্রাফার জানিয়েছেন এই পেশা নিয়ে তাদের প্রত্যাশার কথা শামসুল হক কমল ‘যেটা আমার কাছে একদিনের দায়িত্ব, সেটা কিন্তু একটা দম্পতির সারাজীবনের স্মৃতি’ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটোগ্রাফি ক্লাবের সাথে সম্পৃক্ত থাকার সুবাদে অনেকের কাছ থেকেই অনেক কিছু শিখতে পারলেন ফটোগ্রাফি বিষয়ে, ফলে নিজের ভেতরে এতদিনের লালিত শখটা আরও বেশি শাণিত হয়ে উঠল। সুযোগ পেলেই ক্যামেরা নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন। বন্ধুর অনুরোধে একবার এক বিয়ের অনুষ্ঠানে ছবি তুলে পেলেন পাঁচশত টাকা। তখন কে জানত এটাই শুরু! মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এই বিয়ের ছবিগুলোকে তিনি নিয়ে গেলেন শিল্পের পর্যায়ে, গানের কথায় ছবি যেন শুধু ছবি নয়! নিজের যোগ্যতায় আজ তিনি দেশের শীর্ষ ওয়েডিং ফটোগ্রাফারদের একজন। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বাইরেও এখন তিনি এই কাজের জন্য আমন্ত্রণ পাচ্ছেন। প্রজন্মের এই মেধাবী ফটোগ্রাফারের নাম শামসুল হক কমল। এই পেশা নিয়ে নিজের ভাবনা এবং প্রত্যাশার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যদি কেউ শিখে এখানে কাজ করতে আসে তাহলে সে অবশ্যই সফল হবে। কারণ শুধুমাত্র ছবি তুলতে পারলেই হয় না, কারিগরি বিষয় ছাড়াও কম্পোজিশনের অনেক গুরুত্ব এখানে। যার জন্য ফটোগ্রাফিতে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার প্রয়োজনটা অনস্বীকার্য।’ ছবি এডিট করে যত না সুন্দর হয় তার চেয়ে হাজার গুণে সুন্দর কম্পোজিশনে ছবি তোলা যায়, সেগুলো সম্পর্কেও সচেতন হতে হয়। ‘শুধু ব্যবসায়িক স্বার্থ দেখলেই তো হবে না, যেটা আমার কাছে একদিনের দায়িত্ব, সেটা কিন্তু একটা দম্পতির সারাজীবনের স্মৃতি এভাবে চিন্তা করলেই বিয়ের দুর্লভ মুহূর্তগুলো অসাধারণ সুন্দর ফ্রেমে আটকে ফেলা যায়।’ আমি বরাবরই স্বপ্ন দেখি গতানুগতিকতার বাইরে কিছু করার। দেশের উন্নতিতে নিজের অবস্থান থেকে সেবা করতে চান। তার উপর অর্পিত দায়িত্বটা তিনি ঠিকঠাক পালন করে যেতে পারলেই খুশি। ০০০০ ফয়সাল মাসুম ‘দুর্লভ মুহূর্তগুলোর স্মৃতির কারিগর ওয়েডিং ফটোগ্রাফাররা’ তার ফটোগ্রাফির শুরুটা ছিল শখ থেকে। সেই ছেলেবেলাতেই ছবি আর ক্যামেরার প্রতি তার এক অন্য রকম ভালোলাগা কাজ করত। নিজের পরিবারের ছবি তুলতে বা কখনও কোথাও বেড়াতে গিয়ে ওই জায়গার স্মৃতি ধরে রাখতে গিয়ে প্রথম ক্যামেরা হাতে তুলে নেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন উত্সব আয়োজনে ক্যামেরা ছিল তার নিত্য সঙ্গী। এরপর একটা বেশ লম্বা সময়ের ব্যবধানে ২০০৭ থেকে ডিজিটাল ক্যামেরায় ছবি তোলা শুরু করেন। ক্যাননের একটা পয়েন্ট অ্যান্ড শুট ছিল ওটা। একসময় প্রফেশনালি কাজ শুরু করেন। এ সময় অনেক চেনা-অচেনা মানুষের দারুণ সমর্থন ও সহযোগিতায় ওয়েডিং ফটোগ্রাফিকে নিজের পেশা হিসেবে নেন আজকের মেধাবী ওয়েডিং ফটোগ্রাফার ফয়সাল মাসুম। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে ওয়েডিং ফটোগ্রাফি এখন অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সবাই চান তাদের জীবনের স্মরণীয় এই দিনটি স্মৃতিতে ধরে রাখতে। আর একজন ফটোগ্রাফারের উপর এই দায়িত্ব বর্তায়। এই ছবিই অনেক অনেক বছর পর চোখের সামনে তুলে ধরে অনেক স্মৃতি, অনেক খুনসুটিমাখা মুহূর্তগুলোকে। তাই বলা যায় এই দুর্লভ মুহূর্তগুলোর স্মৃতির কারিগর ওয়েডিং ফটোগ্রাফাররা। আর এই বিষয়টি বেশ উপভোগ করি। যতই দিন যাচ্ছে আমাদের দেশের ওয়েডিং ফটোগ্রাফিতে নতুন নতুন ধ্যানধারণা যুক্ত হচ্ছে। এর মাধ্যমে ফটোগ্রাফির অনেক কিছু জানা যায়, আর একেবারে না জেনে কোনো পেশায় এলে ভালো করা যায় না। আর ওয়েডিং ফটোগ্রাফি তো অবশ্যই চর্চা আর আন্তরিকতার ব্যাপার। তার মতে, বিয়েবাড়ির সবার সাথে আন্তরিকভাবে মেশার চেষ্টা করতে হয় ওয়েডিং ফটোগ্রাফারদের। বর-কনের চাহিদাকে সবার আগে প্রাধান্য দিতে হয়। কেননা এই সার্বিক আয়োজন তো তাদের ঘিরেই।’ তিনি স্বপ্ন দেখেন ওয়েডিং ফটোগ্রাফিকে একটা নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার। তিনি এ দেশের ফটোগ্রাফিকে আন্তর্জাতিক মানে দেখতে চান। ০০০০ রূপক রহমান ‘ছবি দেখার পর ক্লায়েন্টের আনন্দময় চেহারাটাই আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দ্যের’ ফটোগ্রাফি করবেন এমন কোনো ভাবনা কখনোই ছিল না রূপক রহমানের, কিন্তু কিভাবে যেন ফটোগ্রাফির সাথে প্রেমটা হয়েই গেল তার। মামার একটা কালার ল্যাব থাকার সুবাদে প্রয়োজনবশত সেখানে বেশ কিছুদিন তাকে ফ্রন্ট ডেস্ক সামলাতে হয়। ফটো স্টুডিওর সব ধরনের কাজ, যেমন—ফিল্ম কেনা, ফিল্ম প্রসেস করা, ছবি প্রিন্ট করা নানাবিধ কাজের জন্য কালার ল্যাবে আসতে হতো তাকে। এই স্টুডিওর ক্যামেরা দিয়েই তার প্রথম হাতেখড়ি, সেই থেকে শুরু আর এখনও চলছে। পেশাগত দৃষ্টিকোণ থেকে ওয়েডিং ফটোগ্রাফির সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বিষয় সম্পর্কে রুপক বলেন, ‘প্রতিটি পেশায় চ্যালেঞ্জ থাকে, পেশাগত দিক থেকে যদি চ্যালেঞ্জিং বিষয়টার কথা বলতেই হয় তবে আমি শুধু একটা বিষয়ের কথা খুবই গুরুত্ব দিয়ে বলব, সেটা হলো কমিটমেন্ট। শুধু অর্থ উপার্জন এ পেশার মূল উদ্দেশ্য নয়, ক্লায়েন্টের সুন্দর মুহূর্তগুলো আরও সুন্দর করে উপস্থাপন করে তাদের গুরুত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে আসাই এই পেশার লক্ষ্য। ছবি দেখার পর ক্লায়েন্টের আনন্দময় চেহারাটাই আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দ্যের। ফটোগ্রাফির অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি ওয়েডিং ফটোগ্রাফিও এ সময় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, তাই এর গ্রহণযোগ্যতাও বেড়েছে। পেশা হিসেবে ওয়েডিং ফটোগ্রাফি অন্য কোনো পেশার চাইতে কম কিছু নয়, তাই আমি বলব উপযুক্ত শিক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট নিয়ে যে কেউ খুব সহজেই ওয়েডিং ফটোগ্রাফিকে পেশা হিসেবে নিতে পারে। একগাদা ভবিষ্যত্ স্বপ্ন রূপকের, তার মধ্যে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শুধু ফটোগ্রাফি।