ডিসিরা রিটার্নিং অফিসার হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৩২
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) রিটার্নিং অফিসার থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না বলে মত দিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এ জন্য নির্বাচনে ডিসিদের সরিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিজস্ব জনবল দিয়ে নির্বাচন পরিচালনার উপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে সংসদ বহাল রেখে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিলে সব দলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করাও সম্ভব নয় বলে মনে করে টিআইবি। গতকাল রবিবার রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে ‘কার্যকর নির্বাচন কমিশন :অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব মতামত তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের দিয়ে নির্বাচন করতে সমস্যা নেই। গত নয়টি সংসদ নির্বাচনে ডিসিরা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন। তবে উপ-নির্বাচন ও স্থানীয় নির্বাচনে ইসির নিজস্ব কর্মকর্তারাই এ দায়িত্ব পালন করছে। তারা ভালোভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের নজীর স্থাপন করেছে। ফলে ডিসিদের পরিবর্তে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব জনবল থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা করার সুপারিশ করেন তিনি। হাফিজউদ্দিন আরো বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনে এবার নির্বাচন কমিশন কারোর সঙ্গে আলোচনা করেনি। বিগত কমিশন সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই আরপিও সংশোধনের প্রস্তাব করেছিল। বর্তমান ইসি কয়টি প্রস্তাব করেছে, আর আইন মন্ত্রণালয় কয়টি প্রস্তাব রেখেছে তা স্পষ্ট নয়। এক প্রকার চুপিসারে আরপিও সংশোধন করা হচ্ছে। গত ৪২ বছরে সংসদ বহাল রেখে বাংলাদেশে কোন নির্বাচন হয়নি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন হলে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের ‘সম্ভাব্য প্রভাব’ রোধ করা ইসির জন্যে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি সরকারকেও রাজনৈতিক দলের আস্থা অর্জন করতে হবে। সিটি নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়েছে তাহলে জাতীয় নির্বাচন গ্রহণ যোগ্য হবে না কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিছু সমস্যা থাকলেও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়েছে এটা স্বীকার করতে হবে। তবে স্থানীয় নির্বাচন এবং জাতীয় নির্বাচন এক নয়। তিনি বলেন, স্থানীয় নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদল হয় না। ক্ষমতার পালাবদল হয় জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে। তাই সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন করলে জাতীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টিআইবির রিসার্চ এন্ড পলিসির সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাহজাদা এম আকরাম। এই প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার বিষয়ে ১৩টি সুপারিশ উত্থাপন করা হয়েছে। এগুলো হলো-সবগুলো রাজনৈতিক দলের আস্থা অর্জন, নির্বাচন পরিচালনায় কমিশনের নিজস্ব জনবল ব্যবহার, নির্বাচনকে আরো বেশি প্রযুক্তি নির্ভর করা, নির্বাচন কমিশনের নিয়মিত কার্যক্রম সম্পন্ন করা, তথ্য প্রকাশ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন, আইনী সংস্কার, সংসদ সদস্যদের আর্থিক তথ্য প্রকাশ, রাজনৈতিক দলের আর্থিক তথ্য প্রকাশ, সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি চর্চা, নির্দলীয় স্থানীয় সরকার নির্বাচন, নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও নির্বাচনী তথ্য প্রকাশ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, টিআইবির উপ-পরিচালক ড. সুমাইয়া খায়ের, রিসার্চ এন্ড পলিসির পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম প্রমুখ।