বসতবসতি

গদি পাতা বসার ঘরে

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৪৬
সময় বদলেছে। তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলেছে আমাদের লাইফস্টাইল। তার প্রভাব যে অন্দর সাজেও পড়বে, এটাই তো স্বাভাবিক। আর অন্দর সাজের মূল কথাই তো পরিসর অনুযায়ী সাজগোছ। একসময় লোকজন এলে বসার ঘরের মাদুরের উপরেই গদি পেতে বসানো হতো। তারপরে চলত জমজমাট আড্ডা। লো লায়িং সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্ট যেন সেই মাটিতে বসে আড্ডা দেওয়ারই আধুনিক সংস্করণ। অন্দর সাজাতে ফ্ল্যাটের স্বল্প পরিসরে লো লায়িং সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্ট যে যথার্থ হবে তা বলাই বাহুল্য। এগুলো জায়গা যেমন কম নেয়, তেমনিই দেখতেও সুন্দর লাগে। তবে ভাববেন না, জায়গা কম হলেই একমাত্র লো লায়িং সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্ট করা যায়, প্রশস্ত বসার ঘরেও এটি কিন্তু দারুণ মানাসই। আসলে বসার ঘর মানেই যে সব সময় কার্পেট বিছানো মেঝের উপর মখমলের গদি আঁটা বড় সোফা হতে হবে, তার কোনো মানে নেই। বসার ঘর তো আপনার রুচি, ব্যক্তিত্ব এবং জীবন যাপনের পরিচায়ক। দেওয়াল, মেঝে, আসবাবপত্র যেমন ঘরের স্টাইলের মাপকাঠি, তেমনই ঘরের সাজে ফুটে ওঠে বাড়ির বাসিন্দাদের যাপনচিত্র। ঘরের কোনায় রাখা ছোট্ট টেবিল ল্যাম্পই হোক বা মাটিতে বসার ব্যবস্থা, সবকিছুই তো আসলে আপনার পছন্দকে প্রতিফলিত করে। তাই নরম গদির সোফার কী প্রয়োজন যদি ছোট্ট বেদের মোড়া সেন্টার টেবিলেও দিব্যি প্রশংসা জুটে যায়। তা ছাড়া এখন তো আর বসার ঘরে সেই ঐতিহ্যবাহী রাশি রাশি আসবাবপত্র রাখার চল নেই। স্লিম অ্যান্ড স্লিক অথচ ব্যবহারিক আসবাবপত্রের প্রচলনই আজকাল সব জায়গায় বেশি চোখে পড়ে। যদি মনে করেন এগুলো অনেক দামি, তাহলে ভুল ভাববেন। লো লায়িং সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্ট করতে বেশি খরচ হয় না, অথচ দেখতেও দারুণ লাগে। সঙ্গে উপযোগবাদী লো লায়িং সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্টে আপনি সাবেকি, আধুনিক —দুই ধরনের আসবাবপত্রই রাখতে পারেন, তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই তাল মেলানোটা সঠিক হতে হবে। স্টিলের টেবিলের সঙ্গে নিশ্চয়ই বেতের মোড়া খুব একটা ভালো লাগবে না। একই সঙ্গে মাটিতে গদি পেতে যদি বসার ব্যবস্থা বানান, তাহলে ঢাউস কাঠের সেন্টার টেবিল অত্যন্ত বেমানান লাগবে। আর যেহেতু বসার ঘর বাড়ির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ, তাই পরিশীলিত ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সঙ্গে আরামের বিষয়টিও অত্যন্ত জরুরি। যদি মাটিতে গদি পাততে চান, তাহলে অন্তত দুই থেকে আড়াই ইঞ্চি মোটা গদি পাতুন। উপরে পেতে দিন রঙিন চাদর ও নানা শেপের কুশন। ছোট পায়ার চেয়ার টেবিলও রাখতে পারেন। ট্রাডিশনাল রাজস্থানি বা গুজরাটি (ভারতীয়) কাজ করা স্বল্প উচ্চতার টেবিল-চেয়ারেরও এখন খুব প্রচলন। বেতের স্বল্প উচ্চতার চেয়ার, মোড়া দেখতে কিন্তু মন্দ লাগে না। নিচু হাইটের ডিভাইনও রাখতে পারেন। আসলে সবটাই নির্ভর করবে ঘরের আয়তন ও আপনার পছন্দের ওপর। আর সঙ্গে প্লেসমেন্টের ব্যাপার তো আছেই। তা ছাড়া এখন ফোল্ডিং টেবিল-চেয়ারও পাওয়া যায়। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সরানো তো আর কম ঝক্কি-ঝামেলার কাজ নয়। আর শুধু বসার ঘর নয়, খাওয়ার জায়গাতেও হতে পারে লো লায়িং অ্যারেঞ্জমেন্ট। বেঁটে লম্বা টেবিল আর ছোট ছোট নিচু চেয়ার তো রাখাই যায়। অনেকটা জাপানি বাড়ির মতো। এতে আপনার ডাইনিং স্পেসও বড় দেখাবে। বারান্দায় কিংবা ছাদ থাকলেও সেখানেও করতে পারেন এ রকম বসার ব্যবস্থা।