ভাঙ্গায় গর্ভে সন্তান নিয়ে স্ত্রী মর্যাদার দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন

আপডেট : ১৮ মে ২০১৯, ১৮:৫২

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার পৌরসদরের চৌধুরীকান্দা গ্রামে গর্ভে সন্তান নিয়ে স্ত্রীর দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করছে স্কুলছাত্রী সাদিয়া আক্তার(১৫)। সে উক্ত গ্রামের হতদরিদ্র মোশারফ হোসেনের কন্যা এবং সদরদী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী।

শুক্রবার সকালে হতে সাদিয়া তার প্রেমিক লুৎফর তালুকদারের বাড়িতে অবস্থান নেয়। গত দুই দিন ধরে অনশন অবস্থায় স্ত্রীর মর্যাদা পেতে ঘরের মধ্যে মিনতি করে যাচ্ছে সাদিয়া। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) রবিউল ইসলাম ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী সাঈদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। 

ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য মেয়েটিকে প্রাথমিকভাবে মেডিকেল চেক আপ করানো হয়। শনিবার সকালে প্রেমিক লুৎফর তালুকদারের বিরুদ্ধে ভাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করে সাদিয়ার পরিবার। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরির্দশক আশুতোস বলেন, মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে মেয়েটির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের অভিনয় করে আসছিল উক্ত গ্রামের ছিদ্দিক তালুকদারের ছেলে লুৎফর তালুকদার(২৫)। লুৎফর তালুকদার বছর খানেক আগে উক্ত গ্রামের পাশ্ববর্তী একটি মেয়েকে বিবাহ করে।

বিবাহের পরেও প্রেমের ফাঁদে ফেলে মেয়েটির সঙ্গে একাধিকবার দৈহিক সম্পর্ক করে। এতে করে মেয়েটির গর্ভে ৯ মাসের সন্তান রয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে উভয় পরিবারের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হলেও কোন সমাধানে পৌছাতে না পেরে মেয়েটি ছেলিটির বাড়িতে অবস্থান নেয়। 

তিনি বলেন, ‘মামলা রেকর্ডকের পর আমরা লুৎফরকে আটকের চেষ্টা করে যাচ্ছি। মেয়েটিকে রবিবার সকালে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দির জন্য নেওয়া হবে।’

এ ব্যাপারে সাদিয়ার পিতা মোশারফ হোসেন বলেন, ‘দিনমজুরি করে ৪ মেয়ে ও ১ সন্তান নিয়ে কোনরকম সংসার চলে যাচ্ছে আমার। নবম শ্রেনীতে পড়া অবস্থায় টাকার জন্য মেয়েটিকে করিম জুট মিলে পার্টটাইম কাজ করতে দিতাম। সম্পর্কের অযুহাতে লুৎফর আমার মেয়ের সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করে এই সর্বনাশ করেছে। আমি আমার মেয়ের মর্যাদা রক্ষার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করছি।’

অনশনরত অবস্থায় থাকা সাদিয়া বলেন, ‘আমার সঙ্গে দীর্ঘ ৩ বছর ধরে প্রেম করে আসছে লুৎফর। আমার গর্ভে সন্তান রয়েছে বিষয়টি ও জানার পর আমাকে ঘরে তুলে নেবে এবং স্ত্রীর মর্যদা দিবে বলে কয়েকমাস যাবৎ ঘুরাচ্ছে। আমার সন্তান প্রসবের সময় হয়ে যাওয়ায় বিষয়টি আমি পরিবারের কাছে জানাতে বাধ্য হই। আমার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি থেলেছে লুৎফর। আমি স্ত্রীর মযার্দা পেয়ে সমাজে চলাচল করতে চাই।’

আরও পড়ুন: ফতুল্লায় তিন ছিনতাইকারীকে গণধোলাই, একজনের মৃত্যু

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত লুৎফর ও তার পরিবারের লোকজন পলাতক থাকায় তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকার উকিল মাতুব্বর বলেন, ‘মেয়েদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কারও নেই। ঘটনার সত্যতা থাকলে অবশ্যই এর একট সুষ্ঠু সমাধান প্রয়োজন।’

ইত্তেফাক/নুহু