সিনেমার গল্পটা একটি সত্য ঘটনার ছায়া অবলম্বনে লেখা। শুরু থেকে ছবিতে নায়ক সিয়াম ও নায়িকা পূজার লুক এবং চরিত্র নিয়েও আলোচনা হচ্ছিল। এই ছবিতে সিয়াম হাজির হচ্ছেন নেশাগ্রস্ত যুবক হয়ে, আর পূজা আসছেন গার্মেন্টস কর্মী হয়ে। ‘দহন’ চলচ্চিত্রের জন্য প্রচুর কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে সিয়ামকে। নানা ধরনের এক্সপেরিমেন্টের ভিতর দিয়ে গিয়েছেন তিনি ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘তুলা’কে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন। এ প্রসঙ্গে সিয়াম বলেন, ‘এই ছবিতে আমার চরিত্রের নাম তুলা, মানুষ ডাকে ‘হারামি তুলা’। আমাকে এটি খুব কষ্টে ফুটিয়ে তুলতে হয়েছে। সবাই এসে ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে দেখুন। দর্শক হলে এলেই পরিশ্রমের আসল মূল্য পাব। দেখে খারাপ লাগলে গালি দিক, আর যদি ভালো লাগে তবে তালি দিক। পরিচিতদের দেখতে আগ্রহী করুক।’ এই ছবি প্রসঙ্গে পূজা চেরী বলেন, ‘এখানে আমি একজন গার্মেন্টস কর্মীর চরিত্রে অভিনয় করেছি। যার নাম আশা। ছবির হিরো বস্তির ছেলে তুলার সাথে আমার প্রেম। কিন্তু নোংরা রাজনীতি শিকার হয়ে আমাদের প্রেম ট্র্যাজিকে পরিণত হয়। সুন্দর গল্প ও ভালো নির্মাণের জন্য ছবিটি সবার ভালো লাগবে বলে আমার বিশ্বাস।’ দেলোয়ার হোসেন দিলের চিত্রনাট্যে এই ছবিতে সাংবাদিক হিসেবে দেখা যাবে লাক্স তারকা জাকিয়া বারী মমকে। এই চলচ্চিত্রে আরও অভিনয় করেছেন তারিক আনাম খান, ফজলুর রহমান বাবু, রাজ রিপা, শিমুল খান, হারুন রশিদ। গত সপ্তাহে এফডিসির মান্না ডিজিটাল কমপ্লেক্সের সামনে অনুষ্ঠানিকভাবে এই ছবির ট্রেলার প্রকাশ করা হয়। তিন মিনিটের ট্রেলার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ট্রেলারে অ্যাকশন, প্রেম, নোংরা রাজনীতির বলি সবকিছুই ফুটে উঠেছে, যা দেখে দর্শকের গা যেমন শিউরে উঠেছে, তেমনি মুগ্ধ হয়েছেন। জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আবদুল আজিজ বলেন, ‘এই ছবির জন্য শিল্পীরা অনেক কষ্ট করেছেন। এমনও হয়েছে নাওয়া-খাওয়া বাদ দিয়ে সারাক্ষণ চরিত্রে ঢোকার চেষ্টা করেছেন। টেকনিশিয়ানরা ভালো একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করার জন্য নিরলস পরিশ্রম করেছেন। এর আগে একই জুটির ‘পোড়ামন ২’ ছবি মুক্তি পেয়েছে এবং দর্শক তা গ্রহণ করেছেন। আমি শতভাগ নিশ্চিত যে এই ছবিটি আগের ছবির চেয়েও হিট হবে।’ ট্রেলার প্রকাশের অনুষ্ঠানে নায়ক ওমর সানি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি এই জুটি অনেক দূর যাবে। এর আগে তাদের ছবিটি হিট হয়েছে, এই ছবিটি আরও চলবে। আমি এই ছবিটি সিনেমা হলে গিয়ে দেখব। শুধু তাই নয়, আমি, বাপ্পারাজ, অমিত একসঙ্গে সিনেমা হলে গিয়ে ছবিটি দেখব। আমি সিনেমা হলের মালিকদের অনুরোধ করব আপনারা এই ছবিটি এক মাসের আগে হল থেকে নামাবেন না।’ এর আগে ‘দহন’ সিনেমার ‘হাজীর বিরিয়ানি’ শিরোনামের গানকে কেন্দ্র করে তুমুল আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। গানটির কথা ও ভিডিও ‘অশালীন’ বলে অভিযোগ করেন দেশের নন্দিত গীতিকার, সুরকার ও শিল্পীরা। এ কারণে সেন্সর বোর্ড থেকে গানটি সরিয়ে নিতে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া বরাবর চিঠি পাঠানো হয়। পরবর্তীতে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান তাদের ইউটিউব চ্যানেল থেকে গানটি সরিয়ে নেয়। এ প্রসঙ্গে নির্মাতা রায়হান রাফি বলেন, ‘বৃহত্তর স্বার্থেই গানের কথা পরিবর্তন করা হয়েছে। আমরা অযথা মনোমালিন্য চাই না। তাই এর কথাতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এটি শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।’ গানের বিতর্কিত কথা ছিল এমন ‘মালে ঢাল পানি, গাঁজা দেরে টানি, চড়বে নেশা জমবে খেল থাকলে আমদানি মাতাল হয়ে হিসু করব দেয়ালে, শালা যা হবে দেখা যাবে কাল সকালে’। মূলত ‘হিসু করব দেয়ালে’ কথাটি তুমুল সমালোচিত হয়। তাই ‘হিসু’ শব্দটিতে পরিবর্তন এনে নতুন বাক্য লেখা হয়েছে এমন ‘ঢলে পড়ব দেয়ালে’। কলকাতার প্রিয় চট্টোপাধ্যায়ের কথায় গানটির সুর, সংগীত ও কণ্ঠ দিয়েছেন আকাশ সেন। যেহেতুে রাজনীতি ও সন্ত্রাসবাদের গল্প নিয়ে ‘দহন’ ছবিটি নির্মিত হয়েছে, তাই এর সেন্সর পাওয়া নিয়ে কিছুটা সন্হািন ছিল প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া। প্রযোজক আবদুল আজিজ ধারণা করেছিলেন, সেন্সরে ছবিটি আটকে যেতে পারে! কারণ, দহনে দেখানো হয়েছে দেশের নোংরা রাজনীতির কিছু ছায়া। কিন্তু তা হয়নি। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড থেকে গত সোমবার ‘দহন’ আনকাট সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছে। চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের সদস্য ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ সাংবাদিকদের জানান, ‘দহন’ দেখে তার নিজের কাছে দারুণ ভালো লেগেছে। সেন্সর বোর্ডের অন্য সদস্যরাও প্রশংসা করেছেন। ছবি দেখার পর কয়েকজন মিলে আলোচনাও করেছেন। সেন্সর সদস্যদের মতে, ‘দহন’ একেবারেই নতুন ধাঁচের ছবি। প্রদর্শক সমিতির সভাপতি ও মধুমিতা সিনেমা হলের মালিক নওশাদ বলেন, ‘এর আগে ‘পোড়ামন ২’ দেখে সিয়াম-পূজাকে মনে ধরেছিল। দহনেও তারা ভালো করেছে। ‘দহন’ ভালো লাগার অনেকগুলো কারণ রয়েছে। মুক্তির পর দর্শকরা বুঝবেন। আমি দহনের সাফল্য কামনা করছি।’ আগামী শুক্রবার ‘দহন’ মুক্তি পাবে দেশের ৪০টি সিনেমা হলে। তারপর বিশ্বের কয়েকটি দেশে ছবিটি প্রদর্শিত হবে। এটি কোনো যৌথ প্রযোজনার ছবি নয়। নিরেট বাংলাদেশের ছবি। ‘দহন’ একটি আন্তর্জাতিক সিনেমা বলে জানালেন পরিচালক রাফি। তিনি বলেন, ‘আমার অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল একটি আন্তর্জাতিক সিনেমা বানানো, যেটি শুধু বাংলাদেশের দর্শক না, সারাবিশ্বের মানুষেরা দেখবে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উত্সবে প্রদর্শিত হবে। আমার প্রযোজক আমাকে সে সুযোগ দিয়েছেন। আমার বিশ্বাস, আমি তা ভালোভাবে কাজে লাগাতে পেরেছি।’
