উখিয়ায় গড়ে উঠছে বসতবাড়ি কমছে জুমচাষের জমি

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০১৩, ২০:১৩
উখিয়ার প্রত্যন্ত গ্রাম মনখালী, তেলখোলা ও মোছারখোলায় চাকমাদের বসবাস। অধিকাংশ পরিবারেরই নিজস্ব জমি নেই। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে বা পাহাড়ে জুমচাষ করে যা পায়, তা দিয়ে কোন রকমে চলে সংসার। যোগাযোগ না থাকায় দরিদ্র পরিবারগুলো তেমন কোন সরকারি অনুদান পায় না। বিপদে পড়লে চড়া সুদের মহাজনী ঋণ নেয়া ছাড়া তাদের সামনে কোন পথ খোলা থাকে না। এক ঋণ পরিশোধ হতে না হতেই আরেক ঋণ নিতে হয়। এভাবে বছরের বার মাসই তারা সুদখোর মহাজনদের কাছে জিম্মি হয়ে থাকে। উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের মনখালী, আর পালংখালী ইউনিয়নে তেলখোলা ও মোছারখোলা গ্রামে বাস করে প্রায় চার হাজার চাকমা পরিবার। ৯০ শতাংশ পরিবারের নিজস্ব ভূ-সম্পত্তি নেই। এককালে ছিল। পরে বিভিন্ন কারণে হাতছাড়া হয়ে গেছে। মনখালী চাকমাপাড়া ঘুরে কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যুগ যুগ ধরে তারা যে সমস্ত দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় জুমচাষ করে আসছিল তা বেদখল হয়ে গেছে। স্থানীয় কতিপয় ভূমিদস্যু তাদের পাহাড়ী ভূমি জবরদখল করে মোটা টাকায় অন্যত্র হস্তান্তর করায় দিন দিন ছোট হয়ে আসছে তাদের পল্লী। মনখালীর উত্তর চাকমাপাড়া গ্রামের থোয়াইছিং (৪৫) নামে একজন দিনমজুর জানালেন, সাত সদস্যের পরিবার নিয়ে নিদারুণ অভাবে কাটে তার দিন। জুমচাষের জন্য ছিল তার এক একর বনভূমি। হেডম্যান, ভিলেজার নামধারী কতিপয় প্রভাবশালীরা তা জবরদখল করে নিয়েছে। তাই দিন মজুরি করেই কোন-রকমে চলছে তার সংসার। একই ধরনের অভিযোগ অনেক পরিবারের। পালংখালী ইউনিয়নের মোচারখোলা গ্রামের মাইছাচিং নামে বয়োবৃদ্ধ এক মহিলা জানালেন, স্থানীয় সচ্ছল মুসলিম পরিবারগুলো থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে জুমচাষ করে খুব কষ্টে দিন চালান তারা। কিন্তু বন-জঙ্গলে জুমচাষ এলাকার আশেপাশে অসংখ্য বসতবাড়ি গড়ে উঠায় চাষাবাদ রক্ষা করা যাচ্ছে না। দিনমজুর অংকিউ অং (২৬) জানালেন, জুমচাষের জমি না থাকায় সস্ত্রীক লাকড়ি বিক্রি করে দিন পার করছেন। মোছারখোলা ও তেলখোলা পাশাপাশি দুই গ্রামে প্রায় এক হাজারের বেশি পরিবারের জন্য মাত্র দুইটি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে তেলখোলায় রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মোছারখোলায় রয়েছে একটি কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বেতন-ভাতাসহ নানা সমস্যার মধ্যদিয়ে এ দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দায়িত্ব পালন করলেও চরম দারিদ্র্যের কারণে বাধ্য হয়েই গ্রামের অধিকাংশ শিশুকে বাবা-মায়ের সঙ্গে শ্রম দিতে হয়। স্কুলে খুব একটা যাওয়া হয় না। এক সময় আদিবাসী নারী-পুরুষ নিজেদের বস্ত্র নিজেরাই তৈরি করতেন। গত এক যুগ ধরে সুতা-রঙসহ উপকরণের মূল্যবৃদ্ধিতে তারা কাপড় বোনা ছেড়েছেন। কিছু চাকমা পরিবার বাঁশ ও বেত সামগ্রী তৈরি করে বাজারজাত করেন। এলাকার ইউপি সদস্য মানিক চাকমা জানান, এখানকার সমস্যাটি মূলত যোগাযোগের। তেলখোলা, মোছারখোলা থেকে থাইংখালী প্রধান সড়ক পর্যন্ত তিন কিলোমিটার সড়ক নির্মিত হলে স্থানীয়রা ক্ষুদ্র ব্যবসা-বাণিজ্যে যুক্ত হয়ে টিকে থাকার একটা সুযোগ পেতো। ইউপি চেয়ারম্যান এম গফুরউদ্দিন চৌধুরী জানালেন, পালংখালী ইউনিয়নের তেলখোলা, মোছারখোলার উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেছেন, আদিবাসী পরিবারের যে কোন আবেদন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হয়।