সম্প্রতি জুবায়ের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি নিয়ে একটি এভিয়েশন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। আবার মাছুম বিল্লাহ চাকরি পেয়েছেন নরওয়ের অন্যতম প্রধান বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অফ অসলোতে। সে কলেজ অব এভিয়েশন টেকনোলজি থেকে অ্যারোনোটিকাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করেছে। ডলারে তার বেতন হওয়ায় তা স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি। এমন অনেক শিক্ষার্থীই কলেজ অব এভিয়েশন টেকনোলজি থেকে ডিগ্রি নিয়ে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছে।
অ্যারোনটিক্যাল সায়েন্স হচ্ছে বিমানের সার্বিক প্রকৌশলগত বিষয়, যেখানে অ্যারোপ্লেন উড্ডয়ন থেকে শুরু করে এর সব ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশ্বজুড়ে উড়োজাহাজ শিল্পের বিকাশ এবং এর কর্মপরিধি বাড়ার সাথে সাথে অ্যারোনটিক্যাল সায়েন্সে দক্ষদের চাহিদা ব্যাপকভাবে বাড়ছে। ফলে এটি একাডেমিক পর্যায়ে চলে আসে। প্রথমদিকে উন্নত বিশ্বে এই বিষয় পড়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু এটি চাহিদাসম্পন্ন বিষয় হওয়ার কারণে বাংলাদেশেও এই শিক্ষার সুযোগ উন্মুক্ত হয়েছে। আর আমাদের দেশে এই বিষয়ে শিক্ষা প্রদান করছে কলেজ অব এভিয়েশন টেকনোলজি। ৮৯৯১৩৭১, ০১৯২৬৯৬৩৬৫৫ নম্বরে ফোন করে এই বিষয়ে পড়ালেখা সম্পর্কে জানতে পারবেন বিস্তারিত তথ্য।
অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উপর গ্র্যাজুয়েট ও আন্ডার গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি রয়েছে। এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইংলিশ শিক্ষার্বোড বিটেক এডেক্সেলের অধীনে সম্পন্ন করার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেএে ১৮ মাস পর আন্তর্জাতিক ধারায় সার্টিফিকেট লেভেল থ্রি বা এনডি ডিগ্রি লাভ করা যায়। পরের ১৮ মাসে সম্পন্ন হয় লেভেল ফাইভ বা এইচএনডি ডিগ্রি। এরপর ফাইনাল ইয়ার বা চতুর্থ বর্ষে পাওয়া যায় টপ আপ বিবিএ বা বিএসসি। এটি একটি প্রফেশনাল কোর্স যা, যেকোনো বিভাগ থেকে যেকোনো সালে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারবে। ক্রেডিট ট্রান্সফার করে যারা বিদেশে যেতে চান, তাদের জন্যও এই কোর্স বিশেষভাবে উপযোগী। এর ফাইনাল ইয়ারে রয়েছে ১ বছর এয়ারপোর্টে ইন্টার্ন করার সুযোগ। এর আগে শেষ বর্ষের পড়ালেখা শেষ করতে বাইরে যেতে হলেও এখন দেশে বসেই তা সম্পন্ন করা যায়।
কলেজ অব এভিয়েশন টেকনোলজি বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের প্রথম অনুমোদিত কলেজ। কলেজটির প্রথম কয়েকটি ব্যাচের শিক্ষার্থীরাই উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে চাকরি বা ইন্টার্ন করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এয়ারলাইন্সগুলো যেমন, গালফ এয়ার, বাহারাইন এয়ারলাইন্স, কুয়েত এয়ারওয়েজ, কাতার এয়ারওয়েজ, এমিয়েটস এয়ারলাইন্স কিংবা গেমকো, মুবাডারা প্রভৃতি বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই খাতে লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয় ভারত, ফিলিপাইন থেকে। বাংলাদেশও এই সুযোগটি নিতে পারে। এখান থেকে যথেষ্ট দক্ষ জনবল তৈরি করতে পারলে এসব এয়ারলাইন্সে সহজেই চাকরির সুযোগ উন্মুক্ত হবে। এই ধারায় বাংলাদেশকে আরও একধাপ এগিয়ে নেওয়ার জন্য যুক্তরাজ্যের শিক্ষাবোর্ড বিকেট এডেক্সলের অধীনে কলেজ অব এভিয়েশন টেকনোলজি যাত্রা শুরু করে। এখানে শ্যানন অ্যারোস্পেসের অধীনে স্বল্পমেয়াদি ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে ইএএসএ কমন মডিউলে থিউরিটিক্যাল সম্পন্ন করে ব্যবহারিক কাজ শেখা যায় শ্যানন এয়ারপোর্টে। এ ছাড়া এই কোর্সে বিশ্বের ১৭৩টি দেশে ক্রেডিট ট্রান্সফার করার সুযোগ রয়েছে। ১৮ মাস লেভেল ৩ করতে খরচ পড়বে ৩ লক্ষ টাকা। ১৮ মাস লেভেল ৫ করতে খরচ সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা। আর ১ বছর ক্যাটেকে লেভেল ৬ করতে খরচ সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা।
যোগাযোগ :বাড়ি-১৪, রোড-২, সেক্টর-১১, উত্তরা, ঢাকা।
