স্টক এক্সচেঞ্জসমূহের ব্যবস্থাপনা পৃথকীকরণ

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০১৩, ২১:১০
সম্প্রতি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) স্টক এক্সচেঞ্জসমূহের মালিকানা হইতে ইহাদের ব্যবস্থাপনা পৃথক করিবার কর্মসূচি অর্থাত্ ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন চূড়ান্ত অনুমোদন করিয়াছে। ইহা বাংলাদেশের শেয়ার বাজারের জন্য অবশ্যই একটা নূতন পদক্ষেপ। ২০১০ সালের শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারির পর গঠিত তদন্ত কমিটি যে সুপারিশ করে তাহার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটা সুপারিশ ছিল ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন। সুপারিশে দীর্ঘ-মেয়াদে বাংলাদেশের স্টক এক্সচেঞ্জে এই ধরনের কেলেঙ্কারি এড়ানোর জন্য ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন করা অতি জরুরি বলিয়া মত প্রকাশ করা হইয়াছিল। ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন, যাহা কার্যকর হইতে যাইতেছে-সেই অনুযায়ী প্রতিটি স্টক এক্সচেঞ্জে ১৩ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হইবে। এই ১৩ সদস্যের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যই হইবেন স্বতন্ত্র বা স্বাধীন পরিচালক। যাহারা ‘স্টেক হোল্ডার’ অর্থাত্ যাহারা এই স্টক এক্সচেঞ্জের মালিকানার সহিত জড়িত তাহারা বিভিন্ন সময়ে তাহাদের স্বার্থের পক্ষে কোন ধরনের অনিয়ম থাকিলে উহার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য খুব একটা আগ্রহী হন না এবং অনেক ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করেন বলিয়াই এই বোর্ডে স্বাধীন পরিচালকদের সংখ্যাটা বেশি রাখা হইয়াছে। সম্ভবত, মালিকদের মধ্য হইতে সর্বোচ্চ ৫ জন এবং বাকি ৭ জনই হইবে স্বতন্ত্র বা স্বাধীন পরিচালক। এই সংখ্যাগরিষ্ঠ স্বতন্ত্র বা স্বাধীন পরিচালক দ্বারা পরিচালিত স্টক এক্সচেঞ্জ আসলে কতটা স্থিতিশীলতা নিয়া আসিতে পারিবে বাংলাদেশের শেয়ার মার্কেটে তাহা ভাবিবার বিষয়। সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন যদি প্রকৃত অর্থে কার্যকর না থাকে তাহা হইলে ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন করিয়া কতটা লাভ হইবে তাহা দেখিবার বিষয়। অন্যদিকে ১৩ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ স্বতন্ত্র বা স্বাধীন পরিচালকরা কতটা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে কাজ করিবেন তাহার উপরে নির্ভর করিবে প্রকৃত অর্থেই ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন কোন ফল বহিয়া আনিবে কি না। তবে এইটুকু বলা যায় যে, যদি সত্যিকার অর্থেই যোগ্যতা সম্পন্ন সত্ লোকদের মধ্য থেকে এই স্বাধীন পরিচালকদের নিয়োগ দেওয়া হয় এবং রাজনৈতিক মানদণ্ডে নিয়োগের প্রক্রিয়া ধার্য করা না হয়, তাহা হইলে এই ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন খানিকটা স্বস্তি বহিয়া নিয়া আসিতেই পারে। তবে মনে রাখিতে হইবে, শেয়ার বাজারের অস্থিতিশীলতা ও কেলেঙ্কারির ক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জগুলির ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনের অভাবই কিন্তু বড় কারণ ছিল না। বাংলাদেশের রাজস্ব এবং মুদ্রানীতির যে ধরনের ভুল নীতির বা পদক্ষেপের কারণে শেয়ার মার্কেটে সূচকের উল্লম্ফন হইয়াছে, বাবল তৈয়ারি হইয়াছে, সেই বিষয়গুলিতে দৃষ্টি দিতে হইবে। নচেত্ শুধুমাত্র ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন কোন কাজে আসিবে না। আরও অন্যান্য পলিসি যেইগুলি বিনিয়োগের হাতিয়ারগুলিকে সঞ্চয়কারীদের কাছে কম আকর্ষণীয় করিয়া তুলিয়াছিল যাহার ফলে মানুষের সঞ্চয়ের বিরাট অংশ চলিয়া আসিয়াছিল শেয়ারবাজারে সেইগুলি রোধ করিতে হইবে। ডিমিউচ্যুইয়ালাইজেশন একটা ভাল পদক্ষেপ। ডিমিউচ্যুইয়ালাইজেশন ছাড়াও আর যেই যেই ভুল পদক্ষেপের কারণে এই মার্কেটে ‘বাবল’ তৈরি হইয়াছিল সেইগুলিকে সংশোধন করিতে হইবে। তাহা না হইলে, ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন কোন কাজে আসিবে না, শেয়ার মার্কেটে সমস্যা হইতেই থাকিবে।