কারো পিতা প্রান্তিক কৃষক আবার কারো পিতা দিনমজুর। সকলের সংসারেই অভাব নিত্যদিনের। নুন আনতে পান্তা ফুরায়। একজনের আয়ে সংসার চলে না। স্কুলে বিনামূল্যে বই মিললেও পোশাক, খাতা-কলম, খাবার ও যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনীয় টাকা দিতে পারে না গরিব পিতামাতা। তাই সংসারে অর্থের যোগান এবং নিজেদের আয়ের টাকায় লেখাপড়ার খরচ চালানোর জন্য মাটি কাটার কাজ বেছে নিয়েছে ওরা।
সারা বছরই অবসর সময়ে নানারকম কাজ করে নাটোরের লালপুর উপজেলার ঈশ্বরপাড়া গ্রামের শিক্ষার্থীরা। দারিদ্র্য ওদের দমিয়ে রাখতে পারেনি। সবার চোখেই দারিদ্র্য জয়ের স্বপ্ন। সমপ্রতি ঐ গ্রামে পুকুর পুনঃখনন প্রকল্পে মাটি কাটার কাজ করতে দেখা যায় ১২ জন স্কুল ও মাদ্রাসার ছাত্রকে। ছুটির দিনে নিয়মিত মজুরদের সাথে সমান তালে কাজ করছে তারা। ছাত্র বলে প্রথমে ঠিকাদার কাজে নিতে চায়নি। পরে নিজেদের পরিচয় দিয়ে বড় হয়ে স্বপ্ন পূরণের কথা বলার পর কাজে নেয়া হয়। প্রতিদিন ১৬০ টাকা মজুরিতে সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কাজ করে তারা।
