উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়। জেলা শহরে প্রবেশের জন্য একটি মাত্র রাস্তা। করতোয়া সেতু পার হলেই শহরের প্রাণকেন্দ্র। আয়তনে ছোট্ট হলেও যানবাহন বৃদ্ধির কারণে শহরে দিন দিন বাড়ছে যানজট। রিক্সা-ভ্যানের সংখ্যা বৃদ্ধি, মহাসড়ক ঘেঁষে অবৈধ স্থাপনা, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং পঞ্চগড় শহরের যানজট সৃষ্টির মূল কারণ। এছাড়া বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ও পাথর নিয়ে প্রতিদিন কয়েকশ’ ট্রাক শহরের ওপর দিয়েই আসা যাওয়া করছে। দশ চাকার ট্রাকে অতিরিক্ত মাল বোঝাইয়ের কারণে করতোয়া সেতুও এখন হুমকির মুখে। শহরের বাইরে ধাক্কামারা এলাকায় বাস টার্মিনাল ও তেলীপাড়ায় ট্রাক টার্মিনাল রয়েছে। কিন্তু বাস ও ট্রাকগুলো রাস্তার দুই পাশে দাঁড়ানোর ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে অহরহই ঘটছে দুর্ঘটনা। হারিয়ে যাচ্ছে অনেক মূল্যবান জীবন। সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়েই তাদের রাস্তা পার হতে হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যানজট নিরসনে প্রয়োজন একটি বাইপাস সড়ক।
পঞ্চগড় জেলা মোটর মালিক সমিতির সভাপতি ইকবাল কায়সার মিন্টু বলেন, প্রশাসন ও মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারিত স্থানে বাস-ট্রাক দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু নানা কারণে তা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, বাইপাস সড়ক নির্মিত না হলে শহরে যানজট কমবে না।
পঞ্চগড় পৌরসভার মেয়র মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, দূরপাল্ল¬¬ার যাত্রীবাহী বাসের কাউন্টার শহরের বাইরে সরিয়ে নিতে পারলে যানজট থাকবে না। এ জন্য ট্রাক টার্মিনালের পুকুর ভরাট করে সেখানে দূরপাল্ল¬ার বাসের কাউন্টার করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। কিন্তু অর্থ সংকটের কারণে এটি করতে বিলম্ব হচ্ছে।
এ ব্যাপারে পঞ্চগড় সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রশীদ বলেন, পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্যের ডিও লেটারের পরিপ্রেক্ষিতে পঞ্চগড়ে সাড়ে সাত কিলোমিটার বাইপাস সড়ক এবং করতোয়া নদী ও চাওয়াই নদীর ওপর দুটি সেতুর ডিজাইনের কাজ করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। ডিজাইন পেলে ডিপিপি তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
