উত্তরা মডেল টাউনের প্রায় জন্মলগ্ন থেকে নাগরিকদের সু-শিক্ষার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্য নিয়ে গড়ে ওঠে উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ। এটি দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবকদের সমন্বয়ে গঠিত গভর্নিং বডি, দক্ষ অধ্যক্ষ এবং একঝাঁক মেধাবী শিক্ষক দ্বারা পরিচালিত হয়। সীমিত ব্যয়ের মানসম্পন্ন এই প্রতিষ্ঠানটি ক্রমোন্নয়নের এক চমত্কার ধারা অব্যাহত রেখে শতকরা পাসের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে ঢাকা বোর্ডে তৃতীয় এবং সারা দেশে ৬ষ্ঠ স্থান অর্জনসহ বছরব্যাপী উপহার দিচ্ছে অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী। ২০০৮ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অত্র বিদ্যালয় ঢাকা বোর্ডে ৪র্থ এবং সারাদেশে ৬ষ্ঠ স্থান দখল করতে সক্ষম হয় এবং তারই রেশ ধরে ২০০৯ সালে শতভাগ পাসের ক্ষেত্রে সারাদেশে ৩য় এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে ৮ম স্থান অর্জন করে। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ২০১০-এ অভূতপূর্ব ফলাফল করেছে এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। ৫৪৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে অকৃতকার্য- মাত্র ২ জন এবং অনুপস্থিত ২ জন। বাকি ৫৪১ জনের সবাই পাস। এর মধ্যে ১ম বিভাগ পেয়েছে ৫২৩ জন, ২য় বিভাগ ১৬ জন এবং তৃতীয় বিভাগ মাত্র ২ জন। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ২০১১-এর ফলাফল হচ্ছে, মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৫৩৫ জন। তারমধ্যে অকৃতকার্য হয়েছে মাত্র ১ জন। এ+ পেয়েছে ১৬৪ জন এবং জুনিয়ার স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় ৬৯৯ অংশগ্রহণকারীর মধ্যে একজন ব্যতীত সবাই পাস করেছে। এর মধ্যে এ+ ২১৩ জন এবং এ পায় ৪২৬ জন এবং বাকিরা এ-। অনুরূপ ২০১২ শিক্ষাবর্ষের এসএসসি, এইচএসসি, জেএসসি ও পিএসসি পরীক্ষায়ও অভূতপূর্ব ফলাফল অর্জন করে এই প্রতিষ্ঠান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের তীব্র প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষায় এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কৃতকার্যের হার একরকম ঈর্ষণীয় বলা চলে। এখানে প্লে গ্রুপ থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ানো হয়। প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে আরও জানতে এই নম্বরে কথা বলতে পারেন :রোড-২৭ ও ০১, সেক্টর-৭, উত্তরা, ঢাকা। ফোন :৮৯৬১৭৫০। এই বিদ্যাপীঠের অধক্ষ্য ও সদস্য সচিব মো. মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছায় পাঠ্যমুখী করার কাজটিই মূলত এখানে করা হয়। সেজন্য হাতে নেওয়া হয়েছে কিছু বিশেষ উদ্যোগ, যেমন—শিক্ষার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সংক্রান্ত কাউন্সিলিং। শিক্ষা এখানে আনন্দময় তথা উপভোগ্য একটি বিষয় হিসেবেই শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরা হয়! বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা শিক্ষানুশীলনের বিষয়টিকে যাতে স্বীয় আগ্রহে গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করে এবং নিয়মিত পড়াশোনা করে, সেজন্য এখানে শুরু থেকেই থেকেই শিক্ষাটাকে উপস্থাপন বা পরিচয় করানো হয় একটি নান্দনিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে।
কর্তৃপক্ষের সক্রিয় তত্ত্বাবধান ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলী কর্তৃক উন্নত শিক্ষাদান এবং নিরিবিলি পরিচ্ছন্ন পরিবেশে নিজস্ব বৃহদাকার মাঠে নিয়মিত খেলাধুলা ও সমৃদ্ধ বিজ্ঞানাগারে ব্যবহারিক ক্লাস, কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগে কম্পিউটার ব্যবহারসহ আধুনিক গ্রন্থাগারে অধ্যয়ন ও পুস্তক বিলির সুব্যবস্থা রয়েছে।
মেয়েদের জন্য হলদে পাখী, গালর্স গাইড , গার্লস ইন স্কাউট এবং ছেলেদের জন্য কাব ও বয় স্কাউটসহ প্রতি বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক বিতর্কানুষ্ঠান ও বিশেষ দিনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই প্রতিষ্ঠানের মনোমুগ্ধকর বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান এলাকার সমগ্র মানুষ উপভোগ করে থাকে। স্থানীয় সমাজ-সেবামূলক কাজেও এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ উল্লেখ করার মতো।
