সফলতা যখন হাতের মুঠোয়

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০১৩, ১৯:২৪
ফিচার সফলতার কোনো নির্দিষ্ট অবয়ব নেই। যে ক্ষেত্রে সফলতা আসে তা সেই চেহারাতেই মহিমান্বিত হয়। স্ব-স্ব ক্ষেত্রে সফলতা প্রাপ্তিই হচ্ছে আসল কথা। সবাই একই বিষয়ে সফল হবে না। কেউ ব্যবসায়ী হিসেবে সফল, কেউবা রাজনীতিবিদ বা বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তি হিসেবে কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা বা কর্মচারী হিসেবে সফল হয়ে থাকেন। কোনো দেশের প্রধান ব্যক্তি হতে পারাটাই কেবল সর্বোচ্চ সফলতা নয়। যে ব্যক্তি যে কাজে বা যে পেশায় নিয়োজিত সেই বিষয়ে সর্বোচ্চ দক্ষতা ও পারদর্শিতা অর্জন এবং তা থেকে সম্ভব সকল প্রকার সুবিধা ভোগ করতে পারাটাই হলো ওই ব্যক্তির নিজের পেশায় সর্বোচ্চ সফলতা। তবে সফলতার কোনো সুনির্দিষ্ট সীমারেখা নেই। সবাই একই বিষয়ে সফলতা অর্জন করতে না পারলেও, একই ব্যক্তির পক্ষে একাধিক বিষয়ে সফলতা অর্জন করা সম্ভব। তবে ব্যতিক্রম যতই থাকুক প্রত্যেক মানুষেরই সীমাবদ্ধতা আছে। আমরা জীবনে অনেক ব্যক্তির সাফল্যের গল্প শুনেছি। তারাও আমাদের মতোই সাধারণ মানুষ। কিন্তু তারা সাধারণ থেকে অসাধারণে পৌঁছে গেছেন সফলতার সিঁড়ি বেয়ে। তাদের এই সাফল্যের পেছনে যে কারণগুলো কাজ করেছে, তা হলো, সংশ্লিষ্ট বিষয়ের প্রতি তাদের আগ্রহ, মনোযোগ এবং একাগ্রতা। যে কাজ তিনি করছেন সেই কাজের প্রতি তার আন্তরিকতা, কাজটিতে দক্ষতা অর্জন করা এবং বিষয়ভিত্তিক ওই কাজটির ভালো-মন্দ দিক সম্পর্কে অপরের নিকট সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করতে পারা। পাশাপাশি আমরা এমন অনেক ব্যক্তির কথাও বলতে পারব যারা তাদের নিজ কর্মক্ষেত্রে যথেষ্ট দক্ষ। কিন্তু তার সেই দক্ষতা এবং পারদর্শিতার পেছনে যে কৌশলগত কিছু ব্যাপার থাকে, তা তিনি মনের সংকীর্ণতার কারণে অপরের নিকট প্রকাশ করতে চান না। এতে তার দক্ষতা এবং পারদর্শিতার বিষয়টি থেকে যায় অনেকেরই অজানা। ফলে তার সফলতাও ঢাকা পড়ে যায় তারই সৃষ্ট সংকীর্ণতার চাদরে। সফলতার মূলমন্ত্রই হচ্ছে নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রম। তবে একজন ব্যক্তিকে সফলতার পথে অবশ্যই কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হবে। প্রথমেই নিজের অবস্থান ও চাওয়া সম্পর্কে নিজেকে জানতে হবে এবং সেই মোতাবেক লক্ষ্য স্থির করে এগিয়ে যেতে হবে। যে বিষয় নিয়ে কাজ করছেন তা নিয়ে ভাবতে হবে এবং নতুন নতুন উপায় খুঁজে বের করতে হবে। মানুষের জীবনে সবকিছুই অফুরন্ত, শুধু সময় ছাড়া। তাই এই সীমিত সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগানো এবং একাগ্রচিত্তে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে যেকোনো কাজে মনোনিবেশ করে ধৈর্য ধরে তা চালিয়ে যাওয়া সফলতার পূর্বশর্ত। কথায় আছে, যে ধৈর্য ধরতে জানে সে সবকিছু পেতে পারে। এই ধৈর্যই মানুষকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যায়। ধরুন আপনি কোনো প্রতিষ্ঠানে কিছু সুনির্দিষ্ট কাজের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। দীর্ঘদিন সততা ও নিষ্ঠার সাথে অত্যন্ত নিপুণভাবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। সুযোাগের অভাবে অথবা আপনার উর্ধ্বতনের উদাসীনতার কারণে আপনার কর্মতত্পরতা সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না। যার ফলে আপনার সঠিক মূল্যায়ন হচ্ছে না বলে আপনি মনে করছেন। তবে কি আপনি হাল ছেড়ে দেবেন? মোটেই না। আপনার ভাগ্যে ছিঁকে কখন ছিড়বে তা কিন্তু আপনি নিজেও জানেন না। কারণ এর কোনো সুনির্দিষ্ট দিন-ক্ষণ নেই। তাই হতাশ না হয়ে আপনার কর্মতত্পরতা অব্যাহত রাখুন। দেখবেন কোনো এক বিশেষ দিনে বিশেষ মুহূর্তে আপনার উপস্থিতি এবং আপনর কর্মতত্পরতা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে এবং ওই মুহূর্তটিই আপনার জীবনের গতিপথ পরিবর্তনের সূচনা করবে।