ভিনদেশি
পেনিনসুয়েলার তরুণ আদনান আজিজ কাজ করেন একটি চকলেট ফ্যাক্টরিতে বিজ্ঞাপন বিভাগে। সেখান থেকে উপার্জিত অর্থ অকাতরে ঢেলে দেন বঞ্চিত শিশুদের মাঝে। তরুণ প্রতিভাবান এই তরুণকে নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
অ্যাডভার্টাইজিং খুব মজার একটা পেশা। অনেকের কাছে খুব মজার এবং পছন্দের কাজ। তেমনই কিছু মানুষের দলে পড়েন আদনান। পেনিনসুয়েলা ইউনিভার্সিটি থেকে পাশ করা এই তরুণ তার ক্যারিয়ারের শুরুটি করেন ‘উইলি ওয়ানকা’ নামের একটি চকলেট ফ্যাক্টরিতে। যদিও তার পড়াশোনা ছিল বায়োইঞ্জিনিয়ারিং ও পলিটিক্যাল সায়েন্স বিষয়ে। তার নির্মিত বিজ্ঞাপনের কল্যাণে খুব দ্রুতই উইলি ওয়ানকা চকলেটটি খুব দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়ে যায়। অল্প বয়স থেকে এই মেধাবী তরুণ নানারকম সৃজনশীল কাজের সাথে জড়িয়ে ছিলেন। পরবর্তীতে বিজ্ঞাপন নির্মাণের মতো সৃজনশীল কাজে ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন। শুধু বিজ্ঞাপন নির্মাণেই নয় তার আরও নানা পরিচয় রয়েছে। একজন মোটিভেশনাল বক্তা হিসেবেও তার খ্যাতি রয়েছে। সুবক্তা হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি পুরস্কৃত হয়েছেন। আর এসব কারণেই মিডিয়ার চোখে খুব সহজেই হাইলাইট হয়ে ওঠেন তিনি। তাকে নিয়মিত দেখা যায় বিভিন্ন টক-শোতে। এ ছাড়া রেডিওর কিছু শোতেও তার নিয়মিত অংশগ্রহণ রয়েছে। জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য তিনি বিভিন্ন সময়ে খবরেরও শিরোনাম হয়েছেন। বিশেষ করে শিশুদের কল্যাণে তার কাজগুলো বেশি আলোচিত। তাকে অনেকেই শিশুদের অভিভাবক বলে ডাকে। তিনি তার নির্মিত চকলেটের বিজ্ঞাপনেও শিশুদের অধিকার নিয়ে কথা বলেছেন। একবাক্যে বলা যায়, তিনি একজন মোটিভেশনাল বক্তা, তার কথায় ও কাজে মানুষকে খুব সহজেই প্রভাবিত করতে পারেন। এই কারণেই তার হাতে সাফল্য ধরা দিয়েছে। সুখের কথা হলো, তার এ গুণকে তিনি ভালো কাজের পেছনে ব্যয় করেন, যাতে করে শুধু নিজের নয়, আশপাশের অসংখ্য মানুষের জীবনে সৌভাগ্য বয়ে আনা যায়।
আজিজের নির্মিত চকলেট কোম্পানির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনগুলোর মূল বৈশিষ্ট্য হলো এগুলো শুধু পণ্যের প্রচারই নয়, জনকল্যাণমূলক বক্তব্যও ধারণ করে। আজিজের চিন্তাধারা, কনসেপ্ট নতুন একটি মাত্রা যোগ করে এই কোম্পানিতে। শুরুতে তার কাজ ছিল, ভদকা, সোডা এবং ক্যান্ডি জাতীয় চকলেট বিক্রি করা। এরপর তার যোগ্যতার বলে তিনি চকলেটের ফ্লেভারের জগতে ঢুকে পড়েন। এরপর শুরু হয় নিত্য নতুন ফ্লেভারের উদ্ভাবন। এরপরেই তিনি কোম্পানিটির বিজ্ঞাপন বিভাগে কাজ শুরু করেন। এই ব্যাপারে নিজের সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমাকে একটা ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যাতে আমি যেকোনো কিছু খুব দ্রুত শিখতে পারি এবং সেগুলো প্রয়োগও করতে পারি। তবে এটা মনে রাখতে হবে যে, আমি এখনও কিছুই জানি না। সত্যি বলতে কী, আমি এই বিশাল পৃথিবীর জ্ঞান ভাণ্ডারের খুব সামান্যই জানি। আর আমি আমার বিদ্যাকে যতটা সম্ভব সবার কল্যাণে কাজে লাগাতে চাই, সেই সাথে চাই আরও জ্ঞান অর্জন করতে।’ তিনি তার কাজকে খুব ভালোবাসেন। এই কাজ নিয়েই তিনি সামনে এগিয়ে যেতে চান। তিনি মনে করেন, সময়ই তার সবচেয়ে বড় পুঁজি। তবে এর পাশাপাশি তিনি শিশুদের জন্য কাজ করে যেতে চান। শিশুদের অধিকার আদায়ে সক্রিয় ভূমিকা সবসময় থাকবে এমনটা বলেন তিনি। তিনি ক্রিস্টান শিশুদের একটা ফান্ড চালান বেশ কয়েক বছর ধরে। সেবামূলক এই কাজ তাকে আত্মতৃপ্তি দেয়। শুধু তাই নয়, এ ফান্ড বিশ্বের প্রায় ২.৫ মিলিয়ন শিশুদের সহায়তা দেয়। অল্প বয়সেই তিনি শিশু অধিকার রক্ষায় সংগঠন গড়ে তোলেন। সংগঠনের নাম ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ অ্যাডভোকেটস। এটি বিশ্বব্যাপী তরুণ ও কিশোরদের কাছে শান্তি ও সমঝোতার বার্তা পৌঁছে দিতে কাজ করে। এ লক্ষ্যে তিনি নিজেও বিশ্বব্যাপী ভ্রমণ করেছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভের সঙ্গে ওই বয়সেই সাক্ষাত্ করেছেন। শিশু অধিকার বিষয়ে তিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সামনের সারিতে বক্তব্য রেখেছেন। তার এই কর্মকাণ্ড তার ক্যারিয়ারের অগ্রগতির ক্ষেত্রেও বেশ সহায়ক। আসলে শিশুদের তিনি খুব বেশি পছন্দ করেন। আর সেই আনন্দ থেকেই মূলত তার এই পথে আসা এবং পথচলা।
