যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার সুযোগ

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০১৩, ১৯:২৬
ফোকাস যুগোপযোগী সর্বোন্নত শিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সুনাম সারাবিশ্বময় রয়েছে। সেখানে উচ্চশিক্ষার জন্য আছে জগদ্বিখ্যাত অনেক বিশ্ববিদ্যালয়। তবে আলোর নিচে যেমন অন্ধকার থাকে, তেমনি সেদেশের কিছু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান সন্তোষজনক নয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দের ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির র্যাংকিং, রেপুটেশন ইত্যাদি ভালোভাবে জানতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে নিম্নমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা খুব বেশি নয়। এ জাতীয় দুয়েকটি বাদ দিলে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষকরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার মানের ক্ষেত্রে আপসহীন। এদের সনদ তথা ডিগ্রিও সারা বিশ্বে গ্রহণযোগ্য। ফলে সারা বিশ্বের অনেক শিক্ষার্থীই যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার স্বপ্ন দেখে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাও ব্যতিক্রম নয়। দীর্ঘ দিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ভিসা খুবই সীমিত ছিল। বর্তমানে এই দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। মেধাবী শিক্ষার্থী যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে ইচ্ছুক, তাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির মধ্যে প্রথমে আছে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার বিষয়টি। তবে যারা বুয়েট ও নামি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছে কিংবা ‘ও’ বা ‘এ’ লেভেল করেছে, তাদের জন্য ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ জরুরি নয়। এক্ষেত্রে আন্ডার গ্র্যাজুয়েটে ভর্তির জন্য এসএসসি ও এইচএসসি মিলিয়ে ন্যূনতম জিপিএ-৭.৫ প্রয়োজন পড়ে। একইসাথে ইংরেজিতে কমপক্ষে ‘এ মাইনাস’ থাকতে হবে। তৃতীয় প্রস্তুতি হিসেবে স্পন্সরের আর্থিক সামর্থ্য থাকা জরুরি। এ ক্ষেত্রে বাবা ও মা অগ্রগণ্য। তৃতীয় কেউ স্পন্সর হলে (আত্মীয়) সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কমপক্ষে ১০ হাজার ইউএস ডলারের সম পরিমাণ (৮ লাখ) টাকা থাকতে হবে। এ ছাড়া স্পন্সরের আয় সম্পর্কিত ভ্যালিড ডকুমেন্ট প্রদর্শন করতে হবে। ৫ম যে বিষয়টি সেটি হলো, শিক্ষার্থীদের ওইসব বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দ করতে হবে, যেগুলো ওয়ার্ল্ড র্যাংকিংয়ে ছয়শ’র মধ্যে আছে এবং যাদের বাত্সরিক টিউশন ফিস ৮ থেকে ১২ হাজার ইউএস ডলারের মধ্যে। স্থানীয় মার্কিন দূতাবাসে ভিসার জন্য আবেদন করলে সাধারণত ১৫ থেকে ২০ দিন পরে সাক্ষাত্কারের ডেট মিলে। সবশেষে যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, সেটি হলো ভিসা ইন্টারভিউয়ের জন্য শিক্ষার্থীর পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে যাওয়া। প্রস্তুতি বলতে, আকাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয় এবং যে স্টেটে বিশ্ববিদ্যালয়টি অবস্থিত তার সম্পর্কে ও প্রস্তাবিত কোর্সের বিষয় সম্পর্কে সম্মক ধারণা থাকা আবশ্যক। বিশেষকরে যে কোর্সে ভর্তি হতে ইচ্ছুক তা শিক্ষার্থীর কর্মজীবনে কীভাবে সুফল বয়ে আনবে সে সম্পর্কে ধারণা থাকাও জরুরি। একইসাথে যে বা যিনিই শিক্ষার্থীর স্পন্সর হোক না কেন, তার সম্পর্কে বিশেষকরে তার আয়ের উত্স সম্পর্কে অবগত থাকতে হবে। যাতে জানতে চাইলে সহজেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যায়। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করা যেতে পারে এই ঠিকানায় :এনসিসি, আহমেদ ম্যানশন, বাড়ি-১ (পুরাতন ২৮/বি), রোড-১, ধানমন্ডি, ঢাকা। ফোন :০১৫৫২-৬৩১৫২৬। এদেশি ছাত্রদের জন্য উছিতা স্টেট ইউনিভার্সিটি, পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, আলাবামা এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটি, অ্যালবার্নি স্টেট ইউনিভার্সিটি, বেলর ইউনিভার্সিটি ও অ্যালবার্নি মেডিকেল কলেজ সবচেয়ে ভালো। ভালো বলতে অ্যাম্বাসিতে গ্রহণযোগ্যতা বেশি এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের। অ্যাম্বাসি সাধারণত ওয়ার্ল্ড র্যাংকিং বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোকে প্রাধান্য দেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে এনসিসি’র পরিচালক ও এডুকেশন কনসালটেন্ট একেএম আবুবকর সিদ্দিক বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার ইচ্ছা অনেক শিক্ষার্থীরই রয়েছে। তবে এই ইচ্ছে পূরণের সুযোগ পেলে ছোটখাটো চাকরির প্রলোভন এড়িয়ে পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী হওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ।’