মেঘনা সেতুর টোল প্লাজায় হামলার সূত্র ধরে প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ভোর ৪টায় ট্রাক চালকদের দেয়া ব্যারিকেড শুক্রবার সকাল ৮ টায় তুলে নেয়া হয়েছে। মহাসড়কটিতে যান চলাচল শুরু হলেও দীর্ঘ যানজট চলছিল।
ভবেরচর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই দেলোয়ার হোসেন দুপুর সাড়ে ১২টায় জানান, মেঘনা সেতুর দু’প্রান্তে প্রায় ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ যানবাহনের লাইন রয়েছে। মেঘনা সেতু থেকে সোনারগাঁওয়ের মুগদাপাড়া পর্যন্ত ২ কিলোমিটার এবং মেঘনা সেতু থেকে গজারিয়া উপজেলার ভাটেরচর পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার এই লম্বা থাকলেও যানবাহন চলাচল করছে। ধীরগতিতে সেতু পার হতে হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, মহাসড়কটির নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার সেতুর টোল প্লাজায় ভোর সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লাগামী পণ্যবোঝাই একটি ট্রাক ওজন স্টেশনে যায়। এসময় ওজন বেশি থাকায় ট্রাক যেতে দিতে না চাইলে ওজন স্টেশনের কর্মচারীদের সঙ্গে ট্রাক চালকদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে টোল আদায়কারী ও ওজন স্টেশনের লোকজন ট্রাক চালক ও হেলপারদের মারধর করে। এতে চালক ও হেলপারসহ পাঁচজন আহত হয়। এর প্রতিবাদে টোল প্লাজার কাছাকাছি এলাকাসহ মহাসড়কটির বিভিন্নস্থানে আড়াআড়িভাবে ট্রাক রেখে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দিলে প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পরে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও দায়ীদের বিচারের আশ্বাস দিলে ট্রাক চালকরা ব্যারিকেড তুলে নেয়।
ব্যস্ততম মহাসড়কটিতে অল্পসময় বন্ধ থাকলেও যানজট দেখা দেয়। সেখানে প্রায় সাড়ে ৩ ঘন্টা বন্ধ থাকায় বহু যান আটকা পড়ে। ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট ছড়িয়ে পড়ে।
দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, মেঘনা সেতুর আনসার ও চালক-হেলপাদের মধ্যে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চালকরা ৩ ঘন্টা মহাসড়ক অবরোধ করে। এতে দাউদকান্দি উপজেলার শহীদনগর থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ৪০কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়।
মেঘনা সেতু টোল আদায়কারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার বজলুর রশিদ জানন, একটি অতিরিক্ত মালবোঝাই ট্রাক ওজন মাপার স্কেল দিয়ে না গিয়ে অন্যপথে চলে গেলে টোলের আনসার সদস্যরা চালক সাইফুল ও হেলপার মানিককে আটক করে। এ সময় চালক ও হেলপার উত্তেজিত হয়ে আনসার সদস্যেদের ওপর চড়াও হয়। এদিকে দাউদকান্দি আমিরাবাদে একটি কভার্ডভ্যান উল্টে রাস্তায় পড়ে থাকলে ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত যানজট সৃষ্টি হয়।
