অসময়ে পাকা ধান ঘরে আসায় অভাবী কৃষকের মুখে হাসি ফুটছে। প্রচলিত বর্ষা মৌসুমের কোন ধান নয়-সাহসী কৃষক বপন অথবা রোপণ করেছিল মিনিকেট ধান। সরু এ ধান আশ্বিনের বাজারে বিক্রি করছে ৭শ’ থেকে সাড়ে ৭শ’ টাকা পর্যন্ত প্রতি মণ।
তাড়াশ উপজেলা কৃষি বিভাগের লোকজনের সাথে যোগাযোগ করলে জানায়, অনেক কৃষক মাঝারি নিচু অঞ্চলে বোনা আমন ধানের পরিবর্তে মিনিকেট ধান বপন করেছিল। বর্ষায় ডুবে যাওয়ার আশংকা নিয়েই তারা এ ধান বপন করে। তাদের সাথে আলাপ করলে জানায়, বোনা আমন ধান কার্তিক মাসে কাটার পর সরিষার আবাদের জন্য জমি পরিষ্কার করতে এবং ধান কাটার খরচ বাদ দিলে কোন লাভ থাকে না। তাই তারা ঝুঁকি নিয়ে বোনা আমন ধানের মতই মিনিকেট ধানবীজ গত জ্যৈষ্ঠ মাসে বপন করে চাষ দেয় । সামান্য সার ব্যবহার করেই ভাল ফলন পাচ্ছে। প্রতি বিঘায় মিনিকেট ধানের ফলন দাঁড়াচ্ছে ৮ মণ থেকে ১২ মণ। অনেক কৃষকই গ্রীষ্ম মৌসুমে মিনিকেট ধানের আবাদ করে। সে সব ধানও ভাল ফলন পাচ্ছে কৃষক।
তাড়াশ, সিংড়া উপজেলায় এ ধরনের মিনিকেট ধানের আবাদ হয়েছে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে। তাড়াশ উপজেলার আসানবাড়ী গ্রামের সাবেক প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান জানান, ৩০ বিঘা জমির স্কিমে মিনিকেট ধানের আবাদ করেছিলেন বোরা মৌসুমে। আগাম সরিষা আবাদ করার জন্য জমিতে বোনা আমন ধানের আবাদ করেননি। কিন্তু মিনিকেটের পড়ন্ত ধানের চারায় জমি ভরে যায়। জমিতে নিড়ানী এবং বিঘা প্রতি ১০ কেজি ইউরিয়া সার প্রয়োগ করায় ভাল ফল দেখা যায়। দু’দিন আগে তার স্কিমের জমির ধান কাটা সম্পন্ন করেছেন। গড় ফলন পেয়েছেন বিঘায় ৮ মণ ধান। বিক্রি করেছেন সাড়ে ৭শ’ টাকা মণ দরে। খরচ হয়েছে নিড়ানী আর সারের দাম। শুধু তিনি নন, তাড়াশ উপজেলার বারুহাস ইউনিয়ন, মাধাইনগর ইউনিয়ন এবং তালম ইউনিয়ন, সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের উত্তরাঞ্চল, ইটালী ইউনিয়নের উত্তরাঞ্চল এবং রামানন্দ খাজুরা ও ছাতারদীঘি ইউনিয়নের বহু কৃষক বর্ষা মৌসুমে মিনিকেট ধানের আবাদ করে আশ্বিন মাসেই পাকা ধান ঘরে তুলেছেন। কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, আগামী বছর বোনা আমন ধানের পরিবর্তে উঁচু ক্ষেতে মিনিকেট ধান বোনা আমন ধানের মতই আবাদ করবেন। কারণ মিনিকেট ধানের বাজার মূল্য বোনা আমন ধান ও বি.আর-২৯ ধানের চেয়ে বেশি।
