প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এলে শুরু হয় দুর্নীতি, লুটপাট ও জঙ্গিবাদের উত্থান। এখন তিনি যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু তাদের তিনি বাঁচাতে পারবেন না। জাতির পিতা হত্যার বিচার সম্পন্ন করে রায় যেমন কার্যকর করা হয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকর এই বাংলার মাটিতেই সম্পন্ন করা হবে। গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হওয়ায় খালেদা জিয়ার মনে আজ বড় ব্যথা। কারণ তিনি ওই যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার নানা কৌশল ও চেষ্টা চালিয়েও তাদের তিনি রক্ষা করতে পারছেন না। বিএনপিকে লুটেরা, খুনি, দুর্নীতিবাজ ও জঙ্গিবাদের মদদদাতা হিসাবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা ক্ষমতায় থাকাকালে হাওয়া ভবন দেশের সম্পদ লুট করেছে। তাদের আমলে আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। তারা যুবকদের হাতে অস্ত্র ও মাদক দিয়ে তাদের বিপথগামী করেছে। তাদের সময়ে বিদ্যুতের উত্পাদনের পরিবর্তে শুধুই খাম্বা তৈরি করে ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাট করা হয়েছে।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া এখন সরকারের বিরুদ্ধে চরম মিথ্যাচার করছেন। ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনায় কয়েক হাজার মানুষ মারা গেছে বলে তিনি চরম মিথ্যাচার করেছেন। বিএনপি নেত্রী বলেছিলেন যে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে মসজিদে উলু ধ্বনি শোনা যাবে। জামায়াত ইসলামের মহিলা সদস্যরাও নানা অপপ্রচার করেছে। কিন্তু তাদের ওইসব অপপ্রচার মিথ্যাচারে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ে মানুষ শান্তিতে বসবাস করছে। দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। ১টি বাড়ি, ১টি খামার প্রকল্পের মাধ্যমে গরীব-অসহায়দের স্বাবলম্বী করা হয়েছে। এই সরকারের আমলে বিদ্যুতের ব্যাপক উন্নতি ও উত্পাদন বেড়েছে। ভারত থেকে বিদ্যুত্ আমদানির পাশাপাশি নতুন নতুন বিদ্যুত্ কেন্দ স্থাপনের মাধ্যমে মানুষের ভোগান্তি দূর করা হয়েছে। সাড়ে চার বছরে দেশে ৯ হাজার ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সরকারের সময়ে সারের দাম হ্রাস করা হয়েছে। যুবকদের কর্মস্থানের জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংক সৃষ্টি করা হয়েছে। যাতে করে শিক্ষিত ও বেকার যুবকরা বিনা জামানতে ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। সার্বজনীন শিক্ষা,বয়স্ক ভাতা, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি চালু করে শিক্ষা ব্যবস্থা আরো উন্নত ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিনামূল্যে বই প্রদান ও ২৬ হাজার ২শ’ প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে জনসেবা ও শিক্ষার্থীদের আরো দক্ষ ও যোগ্য করে গড়ে তোলা হচ্ছে। বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, তারা বঙ্গবন্ধুর খুনি ও একাত্তরে গণহত্যায় জড়িতদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা। তাই তারা ক্ষমতায় এলে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ আবার ফিরে আসবে। বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে এদেশের জনগণের ওপর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর মতো হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ঠিক পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর মতো একইভাবে নারী ধর্ষণ, নির্যাতন চালিয়েছে বিএনপি-জামায়াত জোট। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই দেশের জনগণ খাদ্য, আশ্রয়, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষার সুযোগসহ উন্নয়ন পায়। অপরদিকে বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে খাদ্য উত্পাদন কমে, মানুষের আয়ু কমে যায়। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পুনঃনির্বাচিত হলে দেশের প্রতি উপজেলায় একটি করে স্কুল ও কলেজ সরকারিকরণ করার প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। জনসভায় ভাষণ দেয়ার আগে তিনি বাস্তবায়িত ১০টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ১৩টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ এর আগস্টে পরিবারের সকলকে হারিয়েছি। আজ আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। আমি সব ব্যথা-বেদনা ভুলে মানুষের জন্য রাজনীতি করি। স্বাধীনতার সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়ে বাংলার মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে তিনি নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন। তাই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে তিনি আগামী নির্বাচনে আবারো আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য জনসভায় উপস্থিত বিপুল জনতাকে আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে ১৭ মিনিট বক্তব্য রাখেন। কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খন্দকার জুলফিকার আরজুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাক্তার দিপু মনি, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল আলম হানিফ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, জাতীয় পরিষদ সদস্য আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খান প্রমুখ।
