ভারত থেকে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক বিদ্যুত্ আসা শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রথম অন্য কোন দেশ থেকে বিদ্যুত্ আমদানি শুরু করল।
শনিবার সকালে বাংলাদেশ-ভারত বিদ্যুত্ সঞ্চালন কেন্দ্র আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বিদ্যুত্ সঞ্চালন কেন্দ্রে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৪০০ কেভি হাই ভোল্টেজ গ্রীড লাইন ও ৫০০ মেগাওয়াট ব্যাক টু ব্যাক বিদ্যুত্ উপকেন্দ্র শুভ উদ্বোধন করেন। এছাড়া ওই একই অনুষ্ঠানে দুদেশের প্রধানমন্ত্রী বাগেরহাটের রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভেড়ামারায় ৩৬০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল কেন্দ্র নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন।
ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দুদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ডিভিও চিত্রে দেখা যায় এবং উভয় প্রধানমন্ত্রীই পরস্পরের মধ্যে কথা ও মতবিনিময় করেন। সঞ্চালন কেন্দ্র উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী উপকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিদ্যুত্ একটি অপরিহার্য অনুসঙ্গ। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রথমেই প্রয়োজন পর্যাপ্ত এবং নির্ভরযোগ্য বিদ্যুত্। এই উপ-কেন্দ্রের ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ ভারত থেকে আমদানী করা হবে। এই কেন্দ্রর পর্যায়ক্রমে ১০০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুত্ আমদানী করা যায় সে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, প্রতিবেশী মায়ানমার, ভুটান ও নেপাল থেকেও বিদ্যুত্ আমদানীর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং
সুন্দরবনের স্বার্থে সর্বোচ্চ পরিবেশ মান বজায় রাখার জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যৌথভাবে বাগেরহাটের রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুত্ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নয়াদিল্লী থেকে এই আহ্বান জানান ড. মনমোহন। তিনি বলেন, সুন্দরবন আমাদের দুদেশের অভিন্ন ঐতিহ্য। তাই প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে পরিবেশের বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে। ভারতের এনটিপিসি ও বাংলাদেশের পিডিবির দ্বারা গঠিত বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী বিদ্যুত্ কোম্পানী প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বন্ধন আরো সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করতে যৌথ বিদ্যুত্ প্রকল্প উদ্যোগটি হাতে নেয়া হয়, যাতে আমাদের সম্পর্কের এক নতুন দিক উন্মোচিত হয়। দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি দেশের জন্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের নিয়তি অভিন্ন, সে অনুযায়ী অর্থনীতিও তাই। দক্ষিণ এশিয়ায় অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনা কাজে লাগালে অভিন্ন লক্ষ্য অর্জন সম্ভব- এটা আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি। এই অঞ্চলে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বৃহত্তর সম্ভাবনা রয়েছে এবং পরিবহন, সড়ক, রেল, টেলিযোগাযোগ, সাইবার ও জ্বালানি ক্ষেত্রে সংযোগ- এই সম্ভাবনাকে সহায়তা করবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে তাত্পর্যপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে তা খুবই প্রশংসনীয়।
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি দ্রুত বর্ধনশীল দেশ। এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে। সহস াব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এ পর্যন্ত অগ্রগতি বিশ্বের জন্য উদাহরণ স্বরূপ। আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি বাংলাদেশের উন্নয়নে ভারত অবিচল ও দীর্ঘ মেয়াদী অংশীদার থাকবে।
রামপাল কেন্দ্রের ভিত্তি স্থাপন
ভেড়ামারায় বসেই একসঙ্গে রামপালের এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী।
রামপালের বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ কেউ পানি ঘোলা করার চেষ্টা করছেন। স্পষ্ট করে জানাতে চাই যে, আমি এমন কোন প্রকল্পের অনুমোদন দেই না বা দেব না, যা আমাদের পরিবেশের ক্ষতি করে। সব ধরনের পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় নিয়েই রামপাল বিদ্যুত্ কেন্দ্রের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। রামপালের বিদ্যুত্ কেন্দ্র যাতে পরিবেশের কোন ক্ষতি করতে না পারে সেজন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামসহ বেশ কয়েকটি স্থানে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, ভারতের বিদ্যুত্ ও জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল্লাহ ফারুক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপুমনি, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুত্ উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী বীর বিক্রম, বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এনামুল হক, বিদ্যুত্ সচিব মনোয়ার ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল আলম হানিফ, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার পঙ্কজ শরণ, ভারতের বিদ্যুত্ সচিব পিকে সিনহা। এতে দেশি-বিদেশি আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
