আ শা র আ লো .................................................

দিনাজপুরে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষায় প্রশাসন

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০১৩, ২০:০১
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার জাংগই গ্রামে বার বছর বয়সী স্বপ্না খাতুন নামে এক স্কুলছাত্রীর জীবন রক্ষা হয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের তত্পরতায়। মেয়েটি বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেয়েছে। স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আহসান হাবীব বলেন, গত বুধবার রাতে জাংগই গ্রামে এক ছাত্রীর বাল্যবিয়ে হচ্ছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে এমন খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠাই। পুলিশ গিয়ে ছাত্রীর বাবা সাইফুলকে রাত ৯টার দিকে আটক করে থানায় আনেন। গত বৃহস্পতিবার সকার ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে তাকে হাজির করা হয়। বুধবার রাতে ওই ছাত্রীর বাবা সাইফুল ইসলামকে পুলিশ আটক করলে তিনি মেয়েকে বাল্যবিবাহ দিবেন না বলে অঙ্গীকার করে মুচলেকা দেন। পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। স্বপ্নার বাবা সাইফুল বলেন, আমি গ্রামে ও হাট-বাজারে ভাজা বিক্রি করি। ভাজা বিক্রি করে যা আয় হয় তা থেকে কোনোমতে চারজনের সংসার চালাই। অভাবের সংসারে মেয়ের লেখাপড়া করাতে পারি না। তাই মেয়ে বিয়ের যোগ্য হওয়ায় সিদ্ধান্ত নেই বিয়ে দেয়ার। সম্প্রতি জয়পুরহাট সদরের খনজনপুরে একটি ভালো ছেলের খোঁজ পাওয়ায় ছেলেপক্ষও মেয়ে দেখে পছন্দ করে। ছেলের পরিবারও ভালো। যৌতুক হিসেবে জামাইকে নগদ ৩০ হাজার টাকা দেয়ার কথা। মেয়ের মামারাও রাজি ছিল। দেরি না করে তাড়াতাড়ি বিয়েটা দিতে চেয়েছি। আমরা সবাই মিলে এই যৌতুক দিতে চেয়েছি। কিন্তু পুলিশ গেলে বিয়েটা ভেঙে যায়। মেয়ের প্রতি যে আমি অন্যায় করতে যাচ্ছিলাম, তা এখন বুঝতে পেরেছি। এই ভুল যেন আমার মতো আর কোনো বাবা-মা না করে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আজাহারুল ইসলাম জানান, স্বপ্নার বাবা সাইফুল নিজের ভুল স্বীকার করেছেন। প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত মেয়েকে আর বিয়ে দিবেন না বলে মুচলেকা দিয়ে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পারুল নাহারসহ অনেকের সামনে অঙ্গীকার করায় তাঁকে দুপুরে ছেড়ে দেয়া হয়। তিনি আরও বলেন,আগামী বছরে স্বপ্নাকে উপবৃত্তির আওতায় আনা হবে। এজন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যাতে করে সে আর্থিক সহযোগিতা পেয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারে। এছাড়া স্বপ্নাকে বিভিন্ন সময়ে আর্থিক সহায়তাও দেয়া হবে। স্বপ্না খাতুন জানায়, বাবা-মার সংসারে অভাব থাকার পরেও আমি কষ্ট করে লেখাপড়া করছি। কখনো উপোস থেকেও স্কুলে যাই। কিন্তু তাঁরা আমাকে বোঝা মনে করে বিয়ে দিচ্ছিল। আমি লেখাপড়া করতে চাই। আমি নিজে স্বাবলম্বী না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে করবো না।