পর্যটন একটি দেশের জন্য অনেক লাভজনক একটি খাত। এ শিল্পের কারণে একদিকে যেমন দেশের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে তেমনি এ কাজের সাথে সাথে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতিও হয়। এই খাতেরই একটি শাখা হলো ট্র্যাভেল এজেন্সি, একধরনের সেবামূলক প্রতিষ্ঠান, যার মাধ্যমে কোথাও ভ্রমণ সম্পর্কে সব ধরনের তথ্য ও সেবা পাওয়া যাবে। আর অপরদিকে হলো ট্যুরিস্ট গাইড, যারা বিভিন্ন জায়গায় পর্যটকদের নিয়ে যায়। দেশ-বিদেশে বিভিন্ন তরুণ-তরুণীরা এই ট্যুরিজম পেশার সাথে জড়িয়ে আছেন। কারও কাছে পার্ট টাইম তো কারও কাছে ক্যারিয়ার। প্রজন্মের এমনই কিছু তরুণ-তরুণী যারা ট্যুরিজম সেক্টরে কাজ করছেন, তাদের কয়েকজনকে নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
রে বে কা
কাল্টিভেট ট্রাভেল এজেন্সির সাথে কাজ করছেন তিনি দীর্ঘদিন ধরে। চাকরির সুবাদে তিনি আর্জেন্টিনা, চিলি ও উরুগুয়ে পাড়ি জমিয়েছেন বেশ কয়েকবার। সেই সময় আর্জেন্টিনার অবস্থা খুবই বাজে ছিল। সেখানে কোনো ভালো ট্যুরিজম কোম্পানি অথবা ট্রাভেল গাইড ছিল না। সেইসময় সেখানে কাজ করেছেন তিনি। বেশ নামও করেছেন। বর্তমানে তিনি নর্থ সেন্ট্রাল আর্জেন্টিনাতে কাজ করছেন। ক্যারিয়ারের শুরুটা বেশ মজার ছিল তার। কোনোরকম অভিজ্ঞতা ছাড়াই শুধুমাত্র তার এক বন্ধুকে সাহায্য করার জন্য এসেছিলেন তিনি পর্যটন খাতে। এরপর ভালো লেগে যায় তার এ পেশা। তখন থেকেই তিনি কাজ করছেন এ শিল্পে। বিশ্বব্যাপী পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, সেরা পর্যটন উদ্যোক্তাদের মাঝে তার নামটি চলে এসেছে প্রথম দশজনের মধ্যে।
০০০
প্রি সি লি য়া
একজন ট্রাভেল এজেন্ট হিসেবে ক্যারিয়ারের সূচনা করেন প্রিসিলিয়া। ‘প্রো-ট্রাভেল ইন্টারন্যাশনাল’ নামের এজেন্সির সাথে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন তিনি। ধীরে ধীরে সফলতার সিঁড়ি বেয়ে তিনি আজ এ কোম্পানির ট্রাভেল অ্যাডভাইজার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তাদের এই কোম্পানি বিশ্বের ১২টি সেরা কোম্পানির মধ্যে একটি। এ কৃতিত্বে প্রিসিলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানে নিষ্ঠার সাথে কাজ করেছেন তিনি ৫ বছর ধরে। ক্যারিয়ারের শুরুতে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বার্মাতে। বেস্ট ট্রাভেল গাইড হিসেবে বেশ নাম নামিয়েছেন তিনি খুব অল্প সময়েই। এ নিয়ে তিনি নানা সময়ে নানা জায়গাতেই পুরস্কৃত হয়েছেন। সেরা পর্যটন উদ্যোক্তাদের একজন হিসেবে তাকে প্রথম সারিতেই ঠাঁই দেওয়া হয়।
০০০০
জে ম স ই য় ং
নিজের নামেই রেজিস্টার করিয়েছেন স্প্যানিশ এই ট্যুরিস্ট। তিনি প্রথমে ট্যুরিস্ট হিসেবে বিভিন্ন দেশে-বিদেশে ঘুরে বেড়াতেন। একসময় ভালো লেগে যায় ব্যাপারটি। ট্যুরিস্ট গাইড থেকে শুরু করে এই ধরনের সব কাজের সাথে জড়িয়ে নিজের পেশা গড়ে নেওয়ার কথা ভাবেন। করেনও এমনটাই। বর্তমানে তিনি প্রাইভেট ট্যুরের গাইড হিসেবে কাজ করেন। পাশাপাশি সেই কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট পদে থাকলেও ট্যুর গাইড হিসেবে কাজ করতে বেশি পছন্দ করেন তিনি। স্পেনের জায়গাগুলো তার ভালোই চেনা। শৈশব কেটেছে তার সেখানে। সেখানেই বেড়ে ওঠা। বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি ট্যুর গাইডের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন তিনি। জীবনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এই লাইনে ক্যারিয়ার গড়েছেন তিনি। তার কোনো প্রশিক্ষণ নেই। কাজের কারণে বেশ কয়েকবার মরক্কো, সাউথ আফ্রিকা, পর্তুগাল ও তুরস্কের মতো জায়গাগুলোতেও কাজ করেছেন তিনি।
