ঐক্য বাড়ছে বরিশাল বিএনপির আওয়ামী লীগে কোন্দল

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৪৮
এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ কোন্দলের নিরসন হয়েছে গত জুন মাসের সিটি নির্বাচনকে কেন্দ করে। তখন বিরোধ নিরসন করে দলের একক প্রার্থী হওয়ার জন্য জেলা বিএনপি’র সভাপতি আহসান হাবিব কামাল আকস্মিক ছুটে যান মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এমপি মজিবর রহমান সরোয়ারের বাসভবনে। সঙ্গে সঙ্গে সরোয়ার ও তার অনুগত কর্মীদের মান না ভাঙলেও কিছুদিনের মধ্যেই দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াসহ কেন্দ ীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে সকল দ্বন্দ্ব ভুলে কামাল ও সরোয়ারের সমর্থকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলের সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামেন। আহসান হাবিব কামাল তার শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার রাত ৮ টার দিকে নবনির্বাচিত মেয়র আহসান হাবিব কামালের বাসভবনে হাজির হন সংসদ সদস্য ও সাবেক মেয়র মজিবর রহমান সরোয়ার। এ সময় তার সাথে নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট কামরুল আহসান শাহীন, প্যানেল মেয়র কেএম শহিদুল্লাহ কবির, নবনির্বাচিত কাউন্সিলর হুমায়ন কবির ও সৈয়দ আকবরসহ বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর ছিলেন। সেখানে দুই নেতা কাউন্সিলরদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। তবে সেখানে দলের সিনিয়র নেতা ব্যতীত সাংবাদিক বা অন্য কাউকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। বৈঠকের বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি অংশগ্রহণকারীরা। তবে ঘন্টাব্যাপী ঐ বৈঠকের সিংহভাগ সময়ই আগামী ৮ অক্টোবর মেয়র কামালের নগর ভবনের দায়িত্ব গ্রহণ সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপস্থিত কয়েকজন কাউন্সিলর। এ ছাড়াও আগামী নির্বাচন ও আন্দোলনে উভয় নেতার কর্মীরা যাতে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ থাকেন সে জন্যই এ বৈঠক বলে জানিয়েছেন দলের নেতারা। এদিকে গৃহ বিবাদে জ্বলছে শাসক দল আওয়ামী লীগ। আগামী সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পরিবর্তে কোন্দল চরমে উঠছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর পরই দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। শুরুতে তা রাজপথে না গড়ালেও সাবেক চিফ হুইপ আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরনের মধ্যে ঠাণ্ডা লড়াই কর্মী-সমর্থকদের দুই মেরুতে বিভক্ত করে দেয়। গত সিটি নির্বাচনকে কেন্দ করেই সেই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নেয়। নির্বাচনে পরাজয়ের পরদিনই সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত হোসেন হিরন বরিশাল ক্লাবে কর্মিসভা ডেকে তার পরাজয়ের জন্য আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহকে দায়ী করেন। এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আসতে থাকে দু’ নেতার অনুসারীদের কাছ থেকে। সর্বশেষ গত ১৬ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে উভয় নেতার কর্মী-সমর্থকদের মাঝে তুমুল সংঘর্ষ হয়। ঐ সংঘর্ষের মাত্র ৪৮ ঘন্টা আগে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ঢাকায় গিয়ে সাক্ষাত্ করেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে সকলকে কাজ করার নির্দেশ দিলেও দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা করেছেন উল্টো কাজ। সিটি নির্বাচনের পর থেকে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভাজনের রেখা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আগে জাতীয় দিবস ও দলের কেন্দ ীয় কর্মসূচি জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ ভাবে পালন করলেও এখন দুই গ্রুপ পৃথক কর্মসূচি পালন করছে। এক দিকে গেলে অন্য নেতা অখুশী হন, তাই গ্রুপিং এর কারণে নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছেন দলের অনেক নেতা-কর্মী।