তরুণ উদ্যোক্তাদের হাট

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৫৫
‘উদ্যোক্তা হওয়ার একটা মজা আছে। আর কষ্ট- সেটাতো এখন হারে হারে টের পাচ্ছি। কাজটা কতটা কঠিন! তবে আমরা পারছি, পারব।’ বলছিলেন তরুণ উদ্যোক্তা রাকিব আর রনি। এই দুই তরুণ সবেমাত্র পড়াশুনা শেষ করেছেন। তবে বায়োডাটা হাতে চাকরির পেছনে দৌড়াননি। নিজেরাই কিছু করতে উদ্যোগী হয়েছেন। তাদের মতো চাকরির পেছনে না দৌড়ে উদ্যোক্তা হয়েছেন এমন তরুণদের ২৫টি প্রতিষ্ঠান নিয়ে গতকাল রবিবার রাজধানীর ধানমন্ডির ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে শুরু হয়েছে ‘উদ্যোক্তা হাট’। বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের (বিডিওএসএন) উদ্যোগে দুইদিনব্যাপী এই হাটের আয়োজন করেছে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেসবুক ভিত্তিক গ্রুপ ‘চাকরি খুঁজব না চাকরি দেব’। হাটের উদ্বোধন করেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. সবুর খান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) সভাপতি শামীম আহসান, বিডি ভেঞ্চার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত হোসেন, বিডিওএসএনের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান প্রমুখ। বেসিসের সহযোগিতায় আয়োজিত এই হাটে অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম প্রদর্শন করা হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে এই হাট । হাট ঘুরে দেখা গেছে, এটা শুধুই তরুণ উদ্যোক্তাদের হাট নয়, একই সাথে অনুপ্রেরণা ও উত্সাহের হাটও। ভালবাসার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের এবং চাকরি না খুঁজে চাকরি দেয়ার হাট। হাটে অংশ নেয়া ই কমার্স ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘শপারস বিডি ডটকম’র উদ্যোক্তা এএমএম রাকিব হাসান ও নাজিম উদ্দিন রনি এই প্রতিবেদককে বলেন, উদ্যোক্তা হওয়ার যে কষ্ট সেটা হারে হারে টের পাচ্ছি। আমাদের দেশে অনেকে ই-কমার্স বোঝেই না। তবে এসব মোকাবেলা করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। তারা বলেন, বাংলাদেশে ই-কমার্স বেস কোন কুরিয়ার সার্ভিস নেই। এছাড়া ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা দরকার, দরকার স্পিডের। সফটওয়্যার ডেভেলপের কাজ দিয়ে ২০১১ সালে যাত্রা শুরু করেছিল জাহাঙ্গীর আলম ও প্রাণ কৃষ্ণ পালের প্রতিষ্ঠান ‘ ইফোলি’। এখন তাদের ব্যবসায় বিভিন্ন গিফট আইটেম যুক্ত হয়েছে। জাহাঙ্গীর বলেন, কম্পিউটার সাইন্সে পড়াশুনা শেষ করে ১ বছর চাকরি করেছি। তারপর ব্যবসায় চলে এসেছি। আমেরিকা, নেদারল্যান্ডসহ ইউরোপের অনেক দেশেই আমাদের ক্লায়েন্ট আছে। মুশতাহির আজিজ রহমান এর প্রতিষ্ঠান ‘কল্পবাবু মিডিয়া’। মুশতাহির বলেন, দেশে কমিকস্-এর একটা বিপ্লব শুরু হয়েছে। বাচ্চারা কম্পিউটারে কমিকস্ বেশি উপভোগ করে। তিনি জানান, মজার মজার কমিকস্ এখানে পাওয়া যাবে। মাত্র এক মাস হলো তার প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হলেও খুব ভালো সাড়া পাচ্ছেন বলে তিনি জানান। ‘ভাইপার’র এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম মুস্তাফিজুর রহমান বায়োজিদ বলেন, এমবিএ পড়ার সময় আমি ম্যানিব্যাগসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র বন্ধু-বান্ধবের কাছে বিক্রি করতাম। সেই থেকে শুরু। এখনতো ৫ জন আমার প্রতিষ্ঠানে কাজ করে। ৯টি ই-কমার্স সাইট আমার কাছ থেকে পণ্য কিনে বিক্রি করে। ‘নানা রকমডটকম’-এর স্বত্বাধিকারী এসএম নাভিদ ইমতিয়াজ বললেন, ৮ বছর আগে অংশীদারির ভিত্তিতে শুরু করেছিলাম কনস্ট্রাকশন ব্যবসা। কিন্তু ফলাফল শূন্য। অনেক হতাশায় ভুগেছি। তবে কিছু একটা করে দাঁড়াতে হবে এটা ছিল প্রতিজ্ঞা। পাশে পেয়েছি স্ত্রীকে। ঘরে একটা এসি ছিল, সেটা ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করে তার অর্ধেক সংসার খরচে দিয়ে বাকি টাকা দিয়ে শুরু করি এই প্রতিষ্ঠানের কাজ। এখনতো আমাদের মাসিক আয় প্রায় ৩০ হাজার টাকা।