মাংস তো আর ঈদে কম খাওয়া হবে না। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী আর দুস্থদের বিলিয়ে দেওয়ার পরেও থেকে যাবে হয়তো অনেক মাংস। সেগুলো সংরক্ষণ করতে হবে আপনাকেই। আর ভালোমতো তা না করতে পারলে মাংস নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সেইসাথে আপনাকে জানতে হবে এভাবে মাংস সংরক্ষণ করা কতটা স্বাস্থ্যসম্মত। বহুদিন ধরে মাংস রেখে দিলে তা স্বাস্থ্যসম্মত থাকে কি না এ নিয়ে আপনার দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, গরু-ছাগলের মাংসে প্রায় ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ প্রোটিন থাকে, যা উচ্চমানের। এতে উপস্থিত ভিটামিন ডি মাংস সংরক্ষণে সহায়তা করে। তাই নিশ্চিন্তে আপনার সংরক্ষণকৃত মাংস খেতে পারেন। স্বাদের কিছুটা কমতি হলেও মান থাকবে মোটামুটি অক্ষত। তাই আসুন মাংস সংরক্ষণ সম্পর্কে জেনে নিই কিছু পদ্ধতি
মাংস বড় একটা ডিশে করে ফ্রিজে রাখতে পারেন।
মাংস ফ্রিজে রাখার সময় অবশ্যই ভালো করে ধুয়ে রাখবেন, রক্ত যেন না ঝরে।
মাংসে লবণ, ভিনেগার মিশিয়েও রাখতে পারেন।
ফ্রিজে মাংস না রাখলে বাইরে বড় হাঁড়িতে রাখতে পারেন, সামান্য মসলা মাখিয়ে রাখতে হবে আর অবশ্যই প্রতিদিন একবার তা গরম করতে হবে।
কড়া রোদে মাংস শুকিয়ে আর্দ্রতা কমিয়েও সংরক্ষণ করতে পারেন।
মনে রাখবেন
কোরবানি দেওয়ার আগে পশুর কোনো রোগবালাই আছে কি না বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নিন।
জবাইয়ের ১২ ঘণ্টা আগেই পশুকে খাওয়াদাওয়া থেকে বিরত রাখুন।
পশুকে বেশি উত্তেজিত করবেন না। এতে মাংসের গ্লাইকোজেনের মাত্রা কমে যায়। ফলে মাংস দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়।
ফ্রিজে রাখার আগে বাইরে ৩-৪ ঘণ্টা রেখে দিন।
মাংস ঘরে আনার ৮-১০ ঘণ্টা পর লবণ দিয়ে ফুটিয়ে রাখলে মাংস ভালো থাকবে।
গরমকালে সাধারণত ১২ ঘণ্টা আর শীতকালে প্রায় ২৪ ঘণ্টা সাধারণ তাপমাত্রায় মাংস রাখতে পারবেন।
কাঁচা মাংস ফ্রিজে রাখলে ১৮-২২ ডিগ্রি তাপমাত্রায় রাখতে হবে। এতে গরু প্রায় এক বছর আর খাসি ছয় মাস ভালো থাকে।
মাংসের প্যাকেটে তারিখটা টুকে রাখতে পারেন। তাহলে ফ্রিজ খুলে বুঝতে পারবেন কোনটা বেশি আগে রাখা আর কোনটা পরে। তাহলে আর বেশি পুরোনো মাংস ফ্রিজে থেকে নষ্ট হওয়ার ভয় থাকবে না।
