চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে এগিয়ে তরুণ উদ্যোক্তারা

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০১৩, ২২:০২
চামড়া ও চামড়াজাত সামগ্রী দেশের দ্বিতীয় রপ্তানি পণ্য। আমাদের আরও সহযোগিতা করলে আমরা একে প্রথমস্থানে নিয়ে আসতে পারবো, এমন আত্মবিশ্বাসেই কথা বলেন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে নিজের পণ্য বিদেশে রপ্তানিকারক তরুণ উদ্যোক্তা নাজমুস সাদাত। ভিউস নামে গড়া তার প্রতিষ্ঠানের পণ্য তিনি নিয়মিত সুইডেন, ডেনমার্ক আর জাপানে রপ্তানি করেন। তারই মত সাত তরুণ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বাংলাদেশ লেদার সার্ভিস সেন্টার-বিএলএসসি প্রকল্পের সহায়তায় আজ বিশ্বমানের পণ্য উত্পন্ন করছেন, তাদের মধ্যে ৫ জন বিশ্বের নামিদামি কোম্পানিতে নিজেদের পণ্য পাঠাচ্ছেন। সমৃদ্ধ হচ্ছে দেশ, স্বয়ং আত্মনির্ভশীল হয়ে অন্যের জন্যও কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করছেন তারা। এমন সম্ভাবনার কথা জানা যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানের মুখে। তিনি বলেন ২০০৭ সালে ইটালীয় সরকারের অর্থায়নে এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আইটিসিসি জেনেভার উদ্যোগে বিএলএসসি প্রকল্পের সূচনা হয়। জনতা ব্যাংক প্রথম তাদের আর্থিক সহায়তা করে। পরে অগ্রণীসহ অন্য কয়েকটি ব্যাংক এগিয়ে আসে। গতকাল নগরীর একটি হোটেলে বিএলএসসি প্রকল্পভূক্ত ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পাদুকা ও চামড়াজাত পণ্য মেলা উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এই তরুণ উদ্যোক্তাদের তৈরি জুতা, চামড়াজাত পণ্য ও কর্েপারেট গিফট আইটেম দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হোটেল পূর্বাণী’র জলসাঘরে তিনদিন ব্যাপী এই মেলার আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর আরও বলেন হাজারিবাগ গ্রুপের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আর্থিক সমস্যা সমাধানে লিঙ্কেজ ফাইনেন্স (বিদেশে ওর্ডার পেলে পণ্য তৈরির ঋণ) দেয়ার সম্মত হয়ে জনতা ব্যাংক তাদের আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। তিনি জানান অগ্রণী বাংক, জনতা ব্যাংক, এলএসবিপিসিবে- এম্পারিয়াম ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সাথে এবিষয় একটি সমঝোতা স্বাক্ষর করেছে। এসময় বিশিষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মোঃ রুহুল আমিন সরকার। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আবদুল হামিদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম আমিনুর রহমান। মেলায় সাতজন উদ্যোক্তার ৮টি স্টল স্থান পেয়েছে। এখানে ৫০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা মূল্যের ব্যাগ, জুতা বেল্ট, জ্যাকেট ও বিভিন্ন রকমের গিফট এইটেম পাওয়া যাবে। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্টরা জানান বিএলএসসি প্রকল্পে ২০১০ সালে এই উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা শুরু করা হয়। তাদের পণ্য উত্পাদনে বিশ্বমান অর্জনে তারা এই প্রকল্পের আওতায় ভারতের মুম্বাই থেকে কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের ওপর প্রশিক্ষণ নেন। তারা সকলেই লেদার টেকনোলজিতে স্নাতোক সম্পন্ন করে এই ব্যবসায় আসেন। হাজারিবাগ ও বনানীতে তাদের দুটি শো-রুম আছে। এবিষয় থ্রিটিচ এর স্বত্বাধিকারী তাসনিম আমিন বলেন আমরা যে বিষয় পেশা গ্রহণ করবো সে বিসয় তাত্ত্বিক জ্ঞান থাকলে অনেক বেশি সহজ হয়। আর যদি সে বিষয় ব্যাকগ্রাউন্ড না হয় তখন পড়াশুনা করে যেনে নিতে হয়। কাজ করতে করতেও শেখা যায়। বাংলাদেশে আড়ং, এপেক্সসহ বহু নামীদামি কোম্পনির সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তাসনিমের। বর্তমানে তিনি জাপানের ওসাকা কনসিস ইন্টারন্যাশনালের জন্য কাজ করছেন। তারা তাসনিমের পণ্যের ১০০ শতাংশ মূল্য আগে পরিশোধ করে। ফলে তাসনিমের কাজ সহজ হয়। ফকুওয়াকায়ের বিখ্যাত মায়াত্সুগো কোম্পানী তার অন্যতম ক্রেতা। দেশের বাইরে চারটি প্রতিষ্ঠানের সাথে একসাথে কাজ করেন বলে তার পণ্য নির্মাণে আর্থিক সমস্যা হয় না। তবে তিনি মনে করেন একজন নতুন উদ্যোক্তার এমন সুবিধা থাকে না বলে তার জন্য সহযোগিতা দরকার। তাসনিম বলেন আমাকে পণ্য নেয়ার আগে পুরো টাকা এজন্যই দেয় আমাকে তারা বিশ্বাস করে। আমি টাকা নিয়ে মানসম্পন্ন পণ্য না দিলে কাজ হাত ছাড়া হবে। তাই সবার সততার বিষর সর্তক হতে হবে। বর্তমানে কাজের প্রতিবন্ধকতা কি জানতে চাইলে তিনি বলেন কোয়ালিটি ট্রেনিং নিয়েছি, কাজ করছি, বিদেশে পণ্য যায় আমার আর কোন প্রতিবন্ধকতা নেই। তবে এ প্রসঙ্গে নাজমুস সাদাত বলেন আমাদের কাজের প্রতিবন্ধকতা হল এলসি নিয়ে জটিলতা, টিটি সমস্যা অর্থাত্ যখন কোন বড় অর্ডার আমরা পাই তখন সে পরিমাণ পণ্য নির্মাণের সমর্থ আমাদের থাকে না। এক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ মূল্য অর্ডারের সাথে সাথে দিলে সমস্যা হয় না। এ বিষয় এখন ব্যাংকগুলোও সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে। সাসি লেদারের স্বত্বাধিকারি হাবিবুর রহমান বলেন আমি চাকরি করে কিছু টাকা জমিয়ে ব্যবসা শুরু করি। বিএলএসসি প্রকল্পের সহায়তা আজ আমাদের অনেক কাজ সহজে এগিয়ে দিয়েছে—কারণ তখন সে সহযোগতাি না পেলে আমাকে অনেক ধীরে এখানে আসতে হতো। প্রকল্পের একমাত্র নারী সদস্য তানিয়া ওয়াহাব বলেন, পড়াশুনা শেষ করার আগেই নিজের কিছু জমানো টাকা দিয়ে একটি ছোট্ট ঘরের এক অংশে কারখানা আর অন্য অংশে পণ্য রাখার মধ্যে দিয়ে জীবন যুদ্ধে নামি। আমাদের দেশে মেয়েরা সাধারণত বুটিক ও বিউটি পার্লারের ব্যবসা করে। ফলে এ বিষয়গুলো সম্পর্কে পরিবার জানে। লেদার সম্পর্কে জানে না বলেই, পরিবার আমাকে শুরুতে সাপোর্ট করেনি। আমি একজন কর্মী নিয়ে কাজ শুরু করি। আজ আট বছর পরে আমার সাথে নিয়মিত ২০ জন এবং অনিয়মিত ১০০ থেকে ২০০ জন কাজ করছে।