ভালো ফলনেও হাসি নেই কৃষকের
মোঃ শফি আলম, ঘিওর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় ইরি, বোরো ধানের প্রচুর ফলন হলেও খুশি হতে পারছেন না কৃষকেরা। কারণ এ উপজেলায় ধান কাটা শ্রমিকের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। একমন ধানের দামেও মিলছে না ১ জন শ্রমিক। ফলে সময় মত ধান কাটতে পারছেন না অনেক কৃষক।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, উপজেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ৫৯০ হেক্টর জমিতে। চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় ৬ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যা গতবারের তুলনা ২০ হেক্টর বেশি। এবার ফলনও হয়েছে প্রচুর। হেক্টর প্রতি গড়ে ৬ থেকে ৮ মেট্রিক টন করে ধান পাওয়া যাচ্ছে। এ বছর ঘিওরে আবাদকৃত বিভিন্ন জাতের ধানের মধ্যে রয়েছে, উফশি, স্থানীয় এবং হাইব্রিড প্রজাতির ধান। সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে ব্রিধান-২৮ ও ব্রিধান-২৯, ৫০, ৫৯, ৬২, ৬৩, ৬৪। এ ছাড়া আবাদ করা হয়েছে উন্নতমানের জাত ব্রিধান-৫৮।
জানা যায়, বাজারে প্রতি মন ধান বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায়। কিন্তু শ্রমিক প্রতি মজুরী দিতে হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। সঙ্গে দুই বেলা খাবার। এতে গৃহস্থের শুধু ধান কাটাতেই প্রতিমনে খরচ পড়ছে ৮০০-৯০০ টাকার মতো। অন্যান্য খরচ (জমি চাষ, সেচ, চারা, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক) তো আছেই। অর্থাত্ কৃষকদের উত্পাদন খরচই উঠছে না। উপরন্তু চলতি বোরো মৌসুমে ঝড়, শিলাবৃষ্টি, পোকামাকড়, রোগবালাই নিয়ে কৃষকরা আছেন মহাবিপাকে।
ঘিওর উপজেলার সিংজুরি ইউনিয়নের বালিয়াবাধা এলাকার চকে গিয়ে দেখা যায়, হাবিবুর রহমান হাবিব নামে স্থানীয় এক কৃষক পাঁচ/ছয়জন শ্রমিক নিয়ে ধান কাটছেন। তিনি একজন বর্গাচাষি। নিজের কোনো আবাদি জমি নেই। অন্যের কাছ থেকে তিনি ২৪০ শতাংশ জমি বর্গা নিয়ে বোরো ধান আবাদ করেছেন। তিনিও ধান কাটার শ্রমিকের সংকট এবং শ্রমিকের অতিরিক্ত মজুরির কথা জানালেন। অতিরিক্ত খরচের কারণে ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন তিনি।
