চট্টগ্রামে গবাদিপশুর খুরা রোগ

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০১৩, ২০:২২
চট্টগ্রামে গবাদিপশুর খুরা রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। গৃহপালিত গরুতে এই রোগের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। এতে কোরবানির গরু বিক্রেতারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। কোরবানির পশুর হাট ও খামারে দেশীয় ও ভারতীয় গরু একত্রে রাখার কারণে খুরা রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে বলে বিশেষজ্ঞ পশু চিকিত্সকরা জানান। বাইরের গরুগুলো জাবীণু বহন করছে। চট্টগ্রামে সরকারিভাবে খুরা রোগের ভ্যাকসিনের সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার পশু সম্পদ কার্যালয়ে এসে অনেকে ভ্যাকসিন না পেয়ে ফেরত যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়, খুরা রোগের ভ্যাকসিন ও পরামর্শের জন্য প্রতিদিন অসংখ্য লোক পশু চিকিত্সকদের কাছে ধর্না দিচ্ছে। জেলা পশু সম্পদ কার্যালয় জানায়, গত কয়েক সপ্তাহ যাবত্ গবাদিপশু খুরা রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, সন্দ্বীপ, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া এলাকায় বিপুল সংখ্যক গরু পালন করা হয়। খুরা রোগে কারণে এসব এলাকার মানুষ কোরবানির পশু নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। চন্দনাইশের বৈলতলী এলাকার বাসিন্দা আবু বক্কর জানান, কোরবানিতে বিক্রির জন্য পালন করা তার গরুটি গত এক সপ্তাহ ধরে খুরা রোগে আক্রান্ত। এক পা থেকে অন্য পায়ে রোগের বিস্তার ঘটছে। পশু চিকিত্সকরা জানান, খুরা রোগ ভাইরাসজনিত। সারা বছরই এই রোগ হতে পারে। তবে কোরবানির সময়ে এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। এ সময় ভারত থেকে প্রচুর গরু আসে। কিন্তু এসব গরু রোগাক্রান্ত বা জীবাণু বয়ে আনছে কিনা তা পরীক্ষা করা হয় না। কোরবানির পশুর হাটে দেশীয় গরুর সাথে আক্রান্ত এসব গরু একত্রে রাখা হচ্ছে। এতে রোগের সংক্রমণ ঘটছে। চিকিত্সকরা জানান, প্রতিটি গরুকে ছয় মাস পরপর ভ্যাকসিন দিতে হয়। কিন্তু সচেতনতার অভাবে খুব কম লোকই গৃহপালিত গবাদিপশুকে ভ্যাকসিন দিয়ে থাকে। নিয়মিত ভ্যাকসিন দিলে খুরা রোগ থেকে অনেকাংশ গবাদিপশু নিরাপদ থাকে। বাঁশখালী উপজেলার পশু সম্পদ কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ ওয়ারেজ কামাল ইত্তেফাককে বলেন, চাহিদার তুলনায় ভ্যাকসিনের সরবরাহ একেবারে অপ্রতুল। খুরা রোগে আক্রান্ত বড় গরু ভ্যাকসিন দিয়ে নিরাময় সম্ভব হলেও ছোট বাছুরদের বাঁচানো সম্ভব হয় না।’ চট্টগ্রামের অতিরিক্ত প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফরহাদ হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, ‘খুরা রোগ ভ্যাকসিন দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। খুরা রোগে সাত ধরনের জীবাণু থাকে। বিভিন্ন কোরবানির পশু এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। খুরা রোগ ছাড়াও খাবার পরিবর্তন, বোতল দিয়ে বাড়তি খাবার ও মোটা তাজাকরণের জন্য বিভিন্ন ধরনের ওষুধ খাওয়ানোর কারণে পেটে সমস্যা হচ্ছে।’