নীলফামারীর সৈয়দপুরে বিদ্যুতের লুকোচুরি খেলা জনজীবন ও ব্যবসা বাণিজ্য বিপর্যস্ত করে তুলেছে। দিনরাত ২৪ ঘন্টায় লোডশেডিং হচ্ছে ৫ থেকে ৬ বার। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে শিল্প-কারখানার উত্পাদন ও ব্যবসা বাণিজ্য বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুত্ নির্ভর শিল্প কারখানায় এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। একই সঙ্গে লোডশেডিংয়ে এখানকার জনজীবনে নেমে এসেছে অসহনীয় দুর্ভোগ।
সূত্র মতে জানা যায়, সৈয়দপুর শহর ও পল্ল¬ী এলাকা মিলিয়ে মোট বিদ্যুতের চাহিদা ১৬ মেগাওয়াট। বর্তমানে এই চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুত্ মিলছে মাত্র ৮ থেকে ১০ মেগাওয়াট। আবার গ্রামাঞ্চলে পল্ল¬ী বিদ্যুতের মোট চাহিদা হচ্ছে ৬ মেগাওয়াট। সেখানে বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ১ থেকে ২ মেগাওয়াট। ফলে সামান্য বিদ্যুত্ সরবরাহে লোড ম্যানেজমেন্ট করতে গিয়ে স্থানীয় বিদ্যুত্ বিভাগকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। গ্রাম ও শহর মিলিয়ে ৪ থেকে ৬ ঘন্টা লোডশেডিং করে পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে বিদ্যুত্ বিভাগকে। এর মধ্যে বিদ্যুত্ সরবরাহ কম হলে লোডশেডিং এর মাত্রা আরও বেড়ে যাচ্ছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে কৃষিসহ শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা নেমে এসেছে। লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বিসিক শিল্প নগরীসহ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের উত্পাদনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। পণ্য উত্পাদনে বিঘ্ন ঘটায় তাদের শ্রমঘন্টার অপচয় হচ্ছে। এতে করে শিল্প মালিকরা লোকসানের ঝুঁকিতে পড়েছেন।
একইভাবে বিদ্যুত্ সমস্যায় পড়েছে শহরের ব্যবসায়ী ও দোকানীরা। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বিদ্যুত্ না থাকায় তাদের বিক্রিতে মন্দা দেখা দিয়েছে। লোডশেডিংয়ে শিক্ষার্থী ও হাসপাতালের রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয় বিদ্যুত্ বিভাগ জানায়, চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুত্ কম মেলায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে গেছে। এছাড়া পুরাতন সঞ্চালন লাইনের কারণে বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে। এতে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুত্ পৌঁছাতে বিদ্যুতের ঘাটতি বেড়ে যাচ্ছে। ফলে লোডশেডিং সহসা কমছে না। চাহিদামত বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়লেই কেবল লোডশেডিং কমবে অন্যথায় পরিস্থিতির উন্নতি হবে না বলে জানান তিনি।
