অনলাইন দুনিয়ায় নতুন কিছু করে তাক লাগানো চাট্টিখানি কথা নয়। আর তাই মানুষের মন জয় করতে নানা সময়ই নানা অভিনব সেবা নিয়েই হাজির হতো। চেষ্টা করেন অনলাইন-ভিত্তিক উদ্যোক্তারা। মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে তাদের এমনতর উদ্যোগে হয়তো অবাক হবারও কিছু নেই। তবে সম্প্রতি মানুষের মন জয় করতে নয়, বরং ভূতদের প্রেমবিষয়ক সমাধান দেবার লক্ষ্য নিয়েই যাত্রা শুরু করেছে ঘোস্টসিঙ্গেলস.কম নামের একটি অনলাইন ডেটিং সাইট। পাশ্চাত্য সংস্কৃতিতে অনলাইন ডেটিং এখন বেশ পুরোনো একটি ধারণা হলেও এই প্রথম কোনো ডেটিং সাইট একা হয়ে যাওয়া ভূতদের জন্য সঙ্গী খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিয়েছে। বিষয়টাকে আপনি হয়তো চটক দেখিয়ে লোক ঠকানো বা বুজরুকি বলে গাল দিতে পারেন। তবে ভূতদের জন্য সঙ্গী খুঁজে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কিন্তু যার পর নাই ‘সিরিয়াস’ ঘোস্টসিঙ্গেলস.কম-এর উদ্যোক্তারা। জীবিত, জোম্বি বা ভ্যাম্পায়ারদের এই সাইটে প্রবেশ করা নিষেধ উল্লেখ করে ঘোস্টসিঙ্গেলস তাদের প্রথম পাতায় মরে গিয়ে ভূত হয়ে যাওয়াদের আহ্বান জানিয়েছে বিনামূল্যে যোগাযোগ করার। ভূত হয়েও যদি ভালোবাসার ইচ্ছা থাকে তাহলে এই সাইটে যোগ দেবার নিমন্ত্রণও জানিয়েছে তারা। এছাড়া ইতোমধ্যে এক ডজন ভূত এখানে যুক্ত হয়েছে বলেও দাবি ঘোস্টসিঙ্গেলস-এর। এদিকে ভূত বিশ্বাসী আর অবিশ্বাসী কিংবা ভূত নিয়ে স্রেফ হাসিঠাট্টা করা অনেকের মাঝেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে এই ঘোস্টসিঙ্গেলস.কম। এর মাঝে নিজেকে ভূত বলে দাবি করে ফ্যান্টমফরইউ নামে সাইটে যোগ দেওয়া এক ভূত (!) নিজের বয়স ১৩৪ উল্লেখ করে জানিয়েছেন যে তিনি ১৯০২ সালে মারা গিয়েছেন এবং সেই থেকেই ভীষণ একঘেয়ে লাগছে তার! এ ছাড়া কোনো গুরুতর প্রত্যাশা না করে তিনি যে স্রেফ আড্ডা মারতেই এই সাইটে যোগ দিয়েছেন তাও জানিয়েছেন এই মর্তলোকের ভূত! অন্যদিকে সাইটটিতে যারা ইতোমধ্যেই ঢুঁ মেরেছেন তাদের একজন বেশ স্পষ্টভাবেই জানিয়েছেন যে, এই যুগে এসে ভূত বিশ্বাস করার কোনো মানে নেই এবং এখানে যে কখনোই কোনো ভূত কথা বলতে আসবে না সে বিষয়ে সবাই নিশ্চিত। তবু অভিনব উপায়ে নিজেদের উপস্থাপন করার কারণেই দিব্যি বেঁচে বর্তে থাকা বহু মানুষ এখানে ভূত হয়ে আড্ডা দিতে চাইছেন।
