বিএনপি নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল আলীমের মামলার রায় আজ বুধবার ঘোষণা করা হবে। গতকাল বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার এ দিন ধার্যের কথা জানান। এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর এই মামলার কার্যক্রম শেষে রায় অপেক্ষমাণ রাখে ট্রাইব্যুনাল। একই দিন বিশেষ বিবেচনায় দেয়া আলীমের জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। যদিও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিত্সাধীন রয়েছেন।
জিয়াউর রহমানের সরকারের মন্ত্রী আলীমের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৭টি অভিযোগ এনেছিলো রাষ্ট্রপক্ষ। এর মধ্যে বেশিরভাগ অভিযোগই গণহত্যা, হত্যা, লুটপাট ও দেশ ত্যাগে বাধ্য করার। এটি হবে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ এর পঞ্চম এবং দুই ট্রাইব্যুনালের অষ্টম রায়।
২০১০ সালের ২৫ মার্চ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত সাতটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে তিনটি ও ট্রাইব্যুনাল-২ থেকে চারটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। এসব রায়ে জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত রুকন পলাতক আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার, নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। আর জামায়াতের সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমের ৯০ বছর ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে।
তবে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। বর্তমানে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে শুনানি চলছে। এছাড়া চৌধুরী মুঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা ট্রাইব্যুনালে অপেক্ষমাণ রয়েছে।
আবদুল আলীমের বিরুদ্ধে ১৭টি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণের দাবি করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। তবে এসব অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি দাবি করে আলীমের বেকসুর খালাস প্রত্যাশা করছে আসামিপক্ষ। মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি তুরিন আফরোজ ট্রাইব্যুনালে বলেন, মানবতার বিরুদ্ধে এমন কোন অপরাধ নেই যার সাথে আলীমের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় না। জয়পুরহাটে তার নেতৃত্বেই সব হত্যাযজ্ঞ হয়েছে। তাই ন্যায় বিচারের স্বার্থে আসামির সর্বোচ্চ সাজা হওয়া উচিত।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আলীমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনা অভিযোগের আইনগত ভিত্তি খুবই সামান্য। তার বিরুদ্ধে আনা ১৭টি অভিযোগের একটিও রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারেনি। তাই আলীমের একদিনের শাস্তি হতে পারে না। এসব অভিযোগ থেকে তিনি অব্যাহতি পাবেন বলে আমরা আশা করি।
২০১১ সালের ২৭ মার্চ জয়পুরহাটের বাড়ি থেকে আলীমকে গ্রেফতার করা হয়। ৩১ মার্চ এক লাখ টাকার মুচলেকা এবং ছেলে ফয়সাল আলীম ও আইনজীবী তাজুল ইসলামের জিম্মায় তাকে জামিন দেন ট্রাইব্যুনাল। এরপর বেশ কয়েক দফা এই জামিনের মেয়াদ বাড়ানো হয়। ২০১২ সালের ১১ জুন আবদুল আলীমের বিরুদ্ধে সাত ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৭টি অভিযোগ গঠন করা হয়। এর মধ্যে জয়পুরহাটের কড়ই কাদিপুর গ্রামে, উত্তর হাটশহরে এবং জয়পুরহাট চিনিকলে গণহত্যার তিনটি অভিযোগ রয়েছে । অন্যান্য অভিযোগের মধ্যে হত্যার রয়েছে ১০টি এবং দেশত্যাগে বাধ্য করার একটি অভিযোগ রয়েছে।
মামলায় আলীমের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) এজেডএম আলতাফুর রহমানসহ রাষ্ট্রপক্ষের মোট ৩৫ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তবে ১৯তম সাক্ষী আবেদ হোসেনকে বৈরী ঘোষণা করে জেরা করে রাষ্ট্রপক্ষ। আসামিপক্ষে সাক্ষ্য দেন তিন জন।
