কাল থেকে শুরু হবে ঘরমুখো জনস্রোত

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০১৩, ২২:৫৭
আসন্ন পবিত্র ঈদ উল আজহা ও শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা ৯ দিনের ছুটির ফাঁদে পড়তে যাচ্ছে দেশ। আর এ কারণে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকেই পুরোদমে শুরু হয়ে যাবে ঘরমুখো জনস্রোত। আগামী সপ্তাহের রবিবার শুধু ছুটি নেই। তবে আগে-পরে ছুটি থাকায় চাকরিজীবীদের অধিকাংশই একদিনের বাড়তি ছুটি নিয়ে দীর্ঘ অবকাশ যাপনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করে ফেলেছেন। ১৪ অক্টোবর সোমবার দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি। এরপর ১৫ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি থাকবে ঈদ উপলক্ষে। ঈদের ছুটির পর ১৮ ও ১৯ অক্টোবর দুইদিন সাপ্তাহিক ছুটি। এ নিয়ে টানা ৯ দিন ছুটি কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীরা। আর তাই এবার ঈদ ও পূজা উপলক্ষে দীর্ঘসময়ের জন্য রাজধানী ঢাকা ফাঁকা থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রেলওয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ইত্তেফাক প্রতিনিধিকে জানান, ঈদ উপলক্ষে আন্ত:নগর ট্রেনগুলোর যে অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হয়েছে, সেসব টিকিটের যাত্রীরা ভ্রমণ করতে পারবেন ১১ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ঘরমুখো মানুষের মূল স্রোত শুরু হবে বৃহস্পতিবার থেকেই। তিনি বলেন, যাত্রীর চাপ কমবেশি যা-ই থাকুক, ১১ অক্টোবর থেকে প্রতিদিনই অগ্রিম টিকিটের পাশাপাশি সকল ট্রেনে চাহিদা অনুযায়ী তাত্ক্ষণিক স্ট্যান্ডিং (দাঁড়িয়ে ভ্রমণের) টিকিট বিক্রি করা হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে নির্ধারিত কয়েকটি গন্তব্যে চলাচল করবে ৯টি বিশেষ ট্রেন। এছাড়া বিভিন্ন ট্রেনে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত বগি সংযোজনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার গাবতলী বাস টার্মিনালে খবর নিয়ে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে যেসব যাত্রী অগ্রিম টিকিটের জন্য কাউন্টারগুলোতে ধর্ণা দিচ্ছেন, তাদের বেশিরভাগই খোঁজ করছেন ১১ অথবা ১২ তারিখের টিকিট। কিন্তু ওই দুইদিনের কোনো টিকিট নেই। এমনকি ঈদের আগের দিন পর্যন্ত কোনো নিয়মিত ট্রিপেই টিকিট অবশিষ্ট নেই। তারপরও অনেকে আসছেন এবং খোঁজ-খবর নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন। শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার কর্মী হাবিবুর রহমান জানান, টিকিটের খোঁজে অনেকে এলেও কেউ কেউ আসছেন টিকিট ফেরত দিতেও। যারা ইতিমধ্যেই ১৪ অথবা ১৫ অক্টোবরের অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করেছিলেন, তাদের কেউ কেউ এখন বিকল্প ব্যবস্থায় ৩/৪ দিন আগেই বাড়ি যাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারায় বাসের টিকিট ফেরত দিতে চাইছেন। এদিকে সদরঘাট কেন্দি ক দক্ষিণাঞ্চলের লঞ্চ সার্ভিসগুলোতে অগ্রিম টিকিটের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপ শুরু হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার একজন সহ-সভাপতি নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিনিধিকে বলেন, প্রত্যেক ঈদে লঞ্চ-কেবিনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির ঘোষণা দেয়া হলেও বাস্তবে সাধারণ যাত্রীরা কখনোই কেবিনের অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন না। কারণ চাহিদার তুলনায় কেবিনের সংখ্যা খুবই অপ্রতুল হওয়ায় লঞ্চ মালিক এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা ব্যক্তিগত পর্যায়ে যোগাযোগের মাধ্যমে আগেই সবগুলো কেবিনের টিকিট ভাগাভাগি করে ফেলেন। এরপর সাধারণ যাত্রীদের ভরসা থাকে কেবল প্রথম শ্রেণীর চেয়ার ও ডেক। আর প্রচলিত নিয়মে ডেক ও চেয়ারের টিকিট অগ্রিম বিক্রি করা হয় না। ভ্রমণের দিন ঘাটে পৌঁছে যাত্রীরা তাত্ক্ষণিকভাবে টিকিট নিয়ে ভ্রমণ করেন।