আজ সচেতনতা দিবস

‘অবহেলায় প্রতিরোধযোগ্য স্তন ক্যান্সার রূপ নেয় মরণঘাতী’

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৪৯
বিশ্বজুড়ে স্তন ক্যান্সার নারীর জন্য এক নীরব ঘাতক। প্রতিবছর এই রোগ কেড়ে নেয় মূল্যবান জীবন। আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা সংস্থা গ্লোবক্যানের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতিবছর ১৭ হাজার ৭ শত ৮১ জন নারী স্তন ক্যান্সার আক্রান্ত হন। একই সংস্থার হিসাব মতে প্রতিবছর দেশে স্তন ক্যান্সার জনিত কারণে ৮ হাজার ৩ শত ৯৬ জন নারীর মৃত্যু ঘটে। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলেন, ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই সচেতনতা ও সময়মত চিকিত্সা বাঁচিয়ে তুলতে পারে রোগীকে এবং দিতে পারে সুস্থ স্বাভাবিক জীবন। স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্বজুড়ে অক্টোবর মাসকে ‘স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাস’ হিসেবে পালন করা হয়। আর বাংলাদেশে ১০ অক্টোবর স্তন ক্যান্সার সচেতনতা দিবস উদযাপন করে। দেশে বিপুল সংখ্যক নারী স্তন ক্যান্সারের কারণে মৃত্যুবরণ করার পরও স্তন ক্যান্সার নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাপক সচেতনতা কর্মসূচি দেখা যায় না। স্তন সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে ডাক্তারের কাছে যেতে অনীহা, নারীরা স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগের উপসর্গ সম্পর্কে সঠিক তথ্য না জানা এবং নিজেদের ও পরিবারের অবহেলার কারণে প্রতিরোধযোগ্য স্তন ক্যান্সার মরণঘাতী রূপ নেয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকগণ। জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক এবং ক্যান্সার ইপিডেমিওলোজি বিভাগীয় প্রধান ডাঃ মোঃ হাবিবুল্লাহ তালুকদার বলেন, সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সের নারীদের স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। পরিবারের নারী সদস্যদের মধ্যে (বিশেষত মায়ের দিকের নারী আত্মীয়ের) স্তন ক্যান্সার বা অন্যান্য ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে, ইস্ট্রোজেন হরমোন (স্ত্রী হরমোন) বৃদ্ধি পেলে, ১২ বছর বয়সের আগে মাসিক শুরু হলে, মাসিক দেরিতে অর্থাত্ ৫০ বছর বয়সের পর বন্ধ হলে, ২০ বছরের আগে বিয়ে হলে, ৩০ বছরের পর প্রথম সন্তান জন্ম হলে, সন্তানকে বুকের দুধ না খাওয়ালে, নিঃসন্তান থাকলে, বিড়ি-সিগারেট, তামাক সেবন, কম শারীরিক পরিশ্রম, দীর্ঘদিন উচ্চরক্তচাপ ও বহুমূত্র রোগ থাকলে, বেশি মোটা হলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে । ডাঃ মোঃ হাবিবুল্লাহ তালুকদার নিজে স্তন পরীক্ষা করার বিশেষ কিছু নিয়মের কথা বলেন। ২০ বছরের ঊর্ধ্বে নারীদের মাসে একবার এই পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন তিনি। ‘জেগে উঠুন জেনে নিন’ প্রতিপাদ্য নিয়ে এবছর প্রথম বারের মতো স্তন ক্যান্সার সংশ্লিষ্ট এগারটি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার ফোরামের ব্যানারে দিবসটি উদযাপন করছে। আয়োজকরা স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে সকলকে সামাজিক আন্দোলনে অংশ নেয়ার আহবান জানান। এই এগারটি প্রতিষ্ঠান স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাস উদযাপনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সেবা দিচ্ছে। রাজধানীর জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল বিনামূল্যে স্তন ক্যান্সার শনাক্ত করার কর্মসূচি পালন করছে। মিরপুর আহছানিয়া মিশন ক্যান্সার হাসপাতালে ১ অক্টোবর থেকে মাসব্যাপী স্তন ক্যান্সার সচেতনতা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। আজ সকালে শাহবাগ থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব পর্যন্ত শোভাযাত্রা আয়োজন করেছে ফোরাম। বিকেলে রবীন্দ্রসরবরে থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সমাবেশ।