মেঘনার রাহুগ্রাসে নবীনগর

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০১৩, ২০:৩০
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার মেঘনা তীরবর্তী গ্রামের নাম চরলাপাং। চারদিকে পানির মাঝখানে জেগে উঠা এ চরের গ্রামটিতে পাঁচহাজারেরও বেশি মানুষের বসবাস। তাদের প্রধান পেশা মাছ ধরা। মেঘনার ভাঙ্গনে গ্রামটি বিলীন হতে চলেছে। শত শত বিঘা ফসলি জমি অসংখ্য ঘর-বাড়ি মেঘনার বুকে চলে গেছে। দ্রুত এ গ্রামটিকে ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করা না গেলে পুরো গ্রামটি এক সময় মেঘনা খেয়ে ফেলবে । এই আশংকায় চরের মানুষগুলো চরম আতংকের মধ্যে দিনযাপন করছে। অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য এ গ্রাম ছেড়ে অন্য গ্রামে চলে যাচ্ছে। গ্রামে শিশু-স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন নিরাপদ পানির ব্যবস্থা না থাকায় চরের মানুষগুলো নানা রোগে ও শিশুরা অপুষ্টিতে ভুগছে। এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, চারশত আষট্টি একর আয়তনে এই চরটি প্রতিনিয়ত মেঘনার ভাঙ্গনের ফলে এখন মাত্র ২২০ থেকে ২৫০ একরের মত ফসলি জমি রয়েছে। চরটিকে ভাঙ্গনের কবল থেকে রক্ষা করার সরকারি কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ওই চরের মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায় ভাঙ্গনে গ্রামের পোষ্ট অফিস একটি ছোট মসজিদ ও একটি বিশাল বড় বাজার বিলীন হয়ে গেছে। অনেক ঘর-বাড়িও নদীগর্ভে চলে গেছে। চরের বাসিন্দা নূরু মিয়া বলেন,“ আমার ১০ বিঘা জমি ছিল, একবিঘা জমিও এখন নাই’। মাছ ধইরা কোন রকম জীবনধারণ করি। আমাদের খোঁজ-খবর নিতে কেউ আসে না”। ওই গ্রামে এক রাতে ৩০টি ঘর ভাঙ্গনের কবলে পড়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম শিশু বলেন ,“নদী ভাঙ্গন রোধের সরকারি কোন কার্যকর পদক্ষেপ এখনও নেয়া হয়নি। দ্রুত ভাঙ্গন রোধের ব্যবস্থা নেয়া না হলে চরলাপাং গ্রামটি অচিরেই মেঘনায় বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহ জিকরুল আহমেদ খোকন বলেন,“ মেঘনার ভাঙ্গন বিষয়ে সংসদে কথা বলেছি, ১৯ কোটি টাকার ৪টি প্রকল্প পানি উন্নোয়ন মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আশা করি খুব শীঘ্রই এই প্রকল্পের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।