রায়ের খসড়া ফাঁস

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন নয়ন আলী

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০১৩, ২২:২৩
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলায় রায়ের খসড়া ফাঁসের ঘটনায় রিমান্ডে থাকা ট্রাইব্যুনালের পরিচ্ছন্নতা কর্মী নয়ন আলী জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তারেক মঈনুল ইসলাম ভুঁইয়া আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি শেষে নয়ন আলীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত। আদালত সূত্রে জানা যায়, নয়ন স্বীকারোক্তিতে বলেছেন, ‘তিনি আগে থেকেই কম্পিউটার চালাতে জানতেন। এ বিষয়টি আরেক সহকর্মী গৌরাঙ্গ জানতেন। এভাবে তিনি মাঝেমধ্যে কম্পিউটার চালাতেন। একসময় ফারুকের কথামতো ট্রাইব্যুনালে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিভিন্ন তারিখের আদেশ কম্পিউটার থেকে পেনড্রাইভে ভরে ব্যারিষ্টার ফখরুলের সহকারী মেহেদী হাসানের কাছে সরবরাহ করেন। টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলামের সহকারী মেহেদী হাসান তাকে দিয়ে এ কাজ করান। পাঁচশ টাকার বিনিময়ে এভাবে বেশ কয়েকবার সরবরাহ করতে গিয়ে একসময় ব্যারিষ্টার ফখরুলের কাকরাইলের চেম্বারে গিয়ে দিয়ে আসা শুরু করেন। গত ১৯ সেপ্টেম্বর এরকম আদেশ পেনড্রাইভে করে কম্পিউটার থেকে নেয়ার সময় ফোল্ডার খুলে রায়ের খসড়া দেখতে পান। তিনি তত্ক্ষণাত স্টেনোগ্রাফার ফারুককে বিষয়টি জানান ও সেখান থেকে মুছে দিতে চান। ফারুক বলেন, কিছু হবে না। পরে তিনি তা পেনড্রাইভে করে নিয়ে ফখরুলের চেম্বারে যান। পরে পেনড্রাইভসহ সেখানে গিয়ে তা মেহেদীর হাতে দেন। আর এ কাজ করতে পারবেন না বলে নয়ন মেহেদীকে জানালে সেখানে উপস্থিত থাকা সালাহউদ্দিন কাদেরের এক আত্মীয় তাকে হুমকি দেন। রিমান্ডে থাকাবস্থায় নয়ন স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহজাহান আসামিকে গতকাল ঢাকার আদালতে হাজির করেন। ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামির দেয়া জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন জানান। অপর আসামি ফারুক রিমান্ডে আছেন। এসময় আসামির পক্ষে জামিন চান তার আইনজীবী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেসবাহ। এ আবেদন নাকচ করেন বিচারক। এর আগে গত ৫ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সাঁটলিপিকার (স্টেনোগ্রাফার) ফারুক হোসেন ও নয়নকে ৮ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।